কলকাতায় ন্যাশনাল ইন্টিমেট থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল

শর্মিষ্ঠা দত্ত, আয়ুষ রায়:-

বিভাবন থিয়েটার একাডেমির সুপ্রিয় সমাজদারের উদ্যোগে ৯ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ন্যাশনাল ইন্টিমেট থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল ২০২১। এই অনুষ্ঠান চলবে ১২ সেপ্টেম্বর, রবিবার পর্যন্ত। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার এবং নির্দেশক চন্দ্র দাশন, সোহন গ্রুপের নির্দেশক অনিষ ঘোষ, নাট্য ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব শেখর দাস।

সুপ্রিয় সমাজদার বললেন “বিগত পঁচিশ বছর ধরে অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ইন্টিমেট থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল চলে আসছে। কিন্তু কলকাতায় জাতীয় স্তরে এই প্রথম। আমরা আয়োজন করতে চলেছি প্রথম ন্যাশনাল ইন্টিমেট থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল – ব্রিজ বিটুইন আস ২০২১। আমাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন কেরালা থেকে নাট্যকার এবং নির্দেশক চন্দ্র দাশন। তিনি আমাদের সাথে এই চার-পাঁচদিন থাকবেন, থিয়েটার ওয়ার্কশপ করাবেন এবং আলোচনায় অংশ নেবেন। আছেন বিশিষ্ট নাট্য ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব শেখর দাস এবং অনীষ ঘোষ। পশ্চিমবঙ্গে অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসব অনেক হয়েছে এমনকি পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাদেমিও এরকম আয়োজন করেছে কিন্তু জাতীয় স্তরে এই প্রয়াস প্রথম কলকাতায় আয়োজন করা হয়েছে। লকডাউনের পর যেভাবে নাটক থেমে গিয়েছিল একটা অনিশ্চয়তার মুখ দেখেছে, সেখান থেকে দাঁড়িয়ে এরকম ছোটো ছোটো স্পেশে এভাবে নাট্য উৎসব একটা বড় জায়গা খুলে দিয়েছে। আশা করব এভাবে আরও বিস্তৃত হবে এবং মানুষ অনেক উৎসাহী হবে।”

অনিশ ঘোষ বললেন “বিভাবন আমাদের কলকাতার অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রতিষ্ঠিত এক নাট্যদল। সেই নাট্যদলের নানান কাজে আমি খুব খুশি এবং এই দলের নির্দেশক সুপ্রিয় সমাজদার আমায় ডেকেছেন। ন্যাশনাল ইন্টিমেট থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল ব্রিজ বিটুইন আস ২০২১ এর অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে আমায় ডাকা হয়েছে তাতে আমি আপ্লূত এবং বিভাবনের এই উদ্যোগ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাক এই শুভকামনা রইল।”

শেখর দাস বললেন “বিগত পঁচিশ বছর ধরে অন্তরঙ্গ থিয়েটার ফেস্টিভ্যালের সাথে আমি যুক্ত কিন্তু জাতীয় ভাবে কোনোদিন হয়নি। তবে আজ আমরা যেখানে রয়েছি এই ‘থিয়া এপেক্স’ এক অদ্ভুত পাওয়া। নামটাও খুব সুন্দর। এত ছোটো জায়গায় কম দর্শক আসন নিয়ে এত সুন্দর আয়োজন দেখা যায় না। যদিও খুব বেশি আসন আমরা চাই না তবু আমরা চাই যে এই প্রয়াস আরও ছড়িয়ে পড়ুক অনেক মানুষের মাঝে। তিনি এও বলেন যে শিল্পের সাথে অন্তরঙ্গতার কি যোগাযোগ আছে তা নিয়ে আগে অনেক লেখালেখি হয়েছে। প্রায় সত্তরের দশক থেকেই চলছে। আমরা বিশ্বাস করি যে ক্লোজ কমিউনিকেশন অর্থাৎ অন্তরঙ্গতার মাধ্যমে আমি যে বক্তব্য রাখতে চাইছি আমাদের শিল্পের যে ইচ্ছেটা আমরা প্রকাশ করছি এবং যে শিল্পবোধ তৈরি করার চেষ্টা করছি তার জন্য দরকার আমাদের দর্শক এবং অভিনেতা। সেইজন্য যত নিকটে আসা যায় যত দর্শকের কাছাকাছি বসা যায় ততই যোগাযোগ প্রক্রিয়ার ঘনত্ব বাড়ে। আমাদের বিরাট কিছু কস্টিউমের দরকার হয় না, মেকআপেরও দরকার হয় না, খুব বেশি টাকাও লাগেনা। আমরা বিষয়বস্তুর ওপর দাঁড়িয়ে থাকি। বহু যুবক-যুবতীরা কাজ করছে। এত কম মানুষ নিয়ে এত বড় কাজ করা সম্ভব না, আমরা সেটা করছি। বিভাবনের কাছে এটা অনেক বড় পাওয়া। আমরা আগে এরকম জায়গা পেতাম না কাজ করার। বলতাম একটু জায়গা দাও নাটক করে দেখাচ্ছি। এখন সেটা সবাই পাচ্ছে। আশা করি বিভাবন ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং আরও অনেক মানুষ এগিয়ে আসবে।”

এই অনুষ্ঠানে বাউল সঙ্গীত পরিবেশ করেছেন এক বাউল শিল্পী, ভক্তদাস বাউল। ছোটবেলাতেই তিনি শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতা চলে আসেন, অনেক বিখ্যাত মানুষদের সাথে কাজ করেছেন যা দেশ-বিদেশ জুড়ে আছে। পাশ্চাত্য দেশ থেকে শুরু করে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে তার গানের জুড়ি মেলা ভার। তাঁর বাউলগানের মাধ্যমে মানুষ হয়ত অনুভবে শান্তিনিকেতনে চলে যান। এমন অনুষ্ঠানে এসে তিনি নিজেও গর্বিত।