সময়

লিখেছেন : এ্যডভোকেট জ্ঞান প্রকাশ বাগ

সময় চলিয়া যায়-
নদীর স্রোতের প্রায়,
যে জন না বুঝে, তারে ধিক্ শত ধিক।”
বলিছে সোনার ঘড়ি, “টিক্ টিক্ টিক্।”

কবি যোগীন্দ্রনাথ সরকারের একটি পরিচিত কবিতা ‘কাকাতুয়া’-র কিছু পংক্তি যা আমরা প্রায় সকলেই জানি। বাবা-মা রা ছোটবেলায় সময়ের মূল্য বোঝানোর জন্য এই পংক্তি গুলি আমাদের মুখে মুখে শিখিয়ে দিতেন এখন সব অতীত হয়ে গেছে। জীবনের উন্নতির চাবিকাঠি ‘সময়’-এই কথাটা আমরা সকলেই কম – বেশি জানি, কিন্তু গুরুত্ব বুঝি কতজনে? আবার সমস্যা হল এটাই কাউকে যদি বলা হয় সময়ের গুরুত্ব বোঝার জন্য, আমাদের প্রত্যেকের সময়ের ‘সজ্ঞা’ জানা উচিত তাহলে অনেক মন্তব্য আছড়ে পড়বে । তবে একটা কথা জোর দিয়ে বলব যারা সময়ের সাথে চলতে জানেন তারা হন প্রকৃতির পূজারী। কথাটা এই কারণেই বললাম – বাংলা সাহিত্যের স্তম্ভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন প্রকৃতির পূজারী। তাঁর বেশির ভাগ সৃষ্টির মধ্যেই পাওয়া যায় প্রকৃতির ছোঁয়া, প্রকৃতির প্রেম আর ভগবানের প্রতি শ্রদ্ধা কোথায় যেন মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘সোনার তরী’ কবিতাটির মধ্যে পাওয়া যায় তার আসাধারণ সংমিশ্রন। কবিতাটি পড়লে আপাত দৃষ্টিতে প্রকৃতির বর্ণনা বলে মনে হলেও, কোথায় যেন রয়েছে সৃষ্টিকর্তার প্রতি অপার আনুগত্য। অন্যদিকে পাশ্চাত্য জীবন স্বামিজীকেও ভীষণ ভাবে প্রবাবিত করত। কারণ তারা সময়ের সাথে চলতে জানেন।
আসল কথাটি হলো প্রকৃতি কখনোই সময়ের বাইরে যায় না। কখনও দেখেছেন কি ভোরের বদলে সন্ধ্যায় সূর্যোদয় হচ্ছে! নভেম্বর মাসে শীতের আমেজ উপভোগ না করে গরমের দাবাদহে জ্বলতে হয়েছে কি? ইংরেজিতে যাকে বলে ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ অর্থাৎ সময়ের সাথে চলা।

আবার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ/ঘাটের কথা-য় আমরা পাই অসাধারণ সন্ধ্যার বর্ণনা। প্রকৃতিকে ভালো না বাসলে প্রকৃতির এমন সুন্দর বর্ণনা হয়তো কেউই লিখতে পারতেন না। মন্দিরে কখন শাঁখ বাজে, ঘাটে কখন নৌকা এসে দাঁড়ায়, প্রতিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা আমরা পাই এই ছোট গল্পের মধ্যে। ‘সমাপ্তি’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে মৃণালিনীকে আমরা দেখতে পাই। এই মৃণালিনী চরিত্রটিও কবিগুরুর নিজের চোখে দেখা, যা আমরা জানতে পারি ‘ছিন্নপত্র’-এর মধ্যে দিয়ে।
তাই বলা যায় ‘সময়’, যাকে সামনে দিয়ে ধরতে হয়, কখনই পিছন দিয়ে ধরা যায় না। সামনে থেকে সময়কে ধরার জন্য ‘ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা খুব জরুরী। তবেই তো আমরা সময়ের সাথে চলতে পারব। পিছন থেকে সময়কে ধরতে গেলে তা হাত পিছলে উড়ে যাবে। কারণ হাতের পরিবর্তে ‘সময়ের’ আছে বিশালাকার দুটি পাখনা। কিন্তু সময়কে সামনের দিক দিয়ে ধরতে পারলে সে হয়ে উঠবে আমাদের দাস। কারণ কি জানেন – ওর পা দুটো শিকল দিয়ে বাঁধা। যার ফলে সে স্বীকার করবে আপনার আনুগত্য। আপনি তাকে যেভাবে চালাবেন, সে সেই ভাবেই আপনার সাথে চলবে। হয়তো একেই ইংরেজিতে বলে ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’।
নিবন্ধটি বেশ কিছু বছর আগে পড়েছিলাম কিছুটা মনে পরে গেলো তাই আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলাম।