শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র – বাঙালি ধর্ম সংস্কারক

তথ্য সংগ্রহ ও সম্পাদনা- জ্ঞান প্রকাশ বাগ

শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকুলচন্দ্র ১৮৮৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গ প্রদেশের পাবনা জেলার হিমায়তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হলেন শিবচন্দ্র চক্রবর্তী এবং মাতা হলেন মনমোহিনী দেবী। ১৮৯৩ সালে তিনি হিমায়তপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করেন। ১৮৯৮ সালে তিনি পাবনা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন এবং সেখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তিনি অমিতাবাদের রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অল্প সময়ের জন্য পড়েন এবং তারপরে পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনার নৈহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে তিনি কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। অনুকূলচন্দ্র দেওঘরে তপোবন বিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, পাবলিশিং হাউজ, ছাপাখানা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।অনুকূলচন্দ্র ঠাকুর প্রায় ৪৬টি পুস্তক রচনা করেন। এগুলোতে ধর্মশিক্ষা, সমাজ সংস্কার প্রচলন প্রভৃতি বিষয়ে আদর্শ ও উপদেশসমূহ বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য – সত্যানুসরণ, পুণ্যপুথি, অনুশ্রুতি (৬ খন্ড), চলার সাথী, শাশ্বতী (৩ খন্ড), বিবাহবিধায়না, সমাজ সন্দীপন, যতি অভিধর্ম।শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ নামক সংগঠনের প্রবর্তক। ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র হিন্দুধর্ম তথা হিন্দু সমাজের একজন মহাপুরুষ, বিশ্ব মানবতাবাদী এবং পরম কৃষ্ণ ভক্ত। পৃথিবীতে বহু মানবতাবাদী রয়েছে, তবে তার মত শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই,তিনি সকল মানুষকে নিয়েই ভাবতেন, সকল মানুষেরই পাশে দাড়াতেন। ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সব সময় চাইতেন, আমার অনুসারিরা সব সময় কৃষ্ণ ভক্তির পথে থাকুক। কারন ভগবানের উপাসনা ছাড়া মুক্তি লাভের কোন উপায় নেই। #মনকে স্থির রাখার উপায় কি? কি ভাবে ভগবানের পথে একাগ্রতা আসবে, এ বিষয়ে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র বলেছেন:- বাসুদেবই ( কৃষ্ণ) সব হলে একাগ্রতা সহজ হয়। সমস্ত গীতার মধ্যে ঘুরে ফিরে ঐ ইষ্ট প্রাণ হওয়ার কথা, ঐ কৃষ্ণ প্রাণ হওয়ার কথা,সমস্ত মহাপুরুষদের কথাই ঐ,শিক্ষাই ঐ, কাজই ঐ। ঐ টুকুর অভাবেই তো জন্ম জন্মান্তরে কত কষ্ট। ভগবানকে যে বুকে বয়ে নিয়ে বেড়ায় তার আবার পরোয়া কি?ভগবানকে জানা মানেই সমস্তটাকে বুঝা বা জানা।#ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তাকে কোন নামে ডাকা সর্বোত্তম, আমরা এ বিষয়ে অনেক সময় দ্বিধায় পড়ে যাই। তাই ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র আমাদের এ বিষয়ে সকল সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন, যাতে আমাদের মনে আর কোন দ্বিধা না থাকে:-ভগবান, ঈশ্বর, ঠাকুর বললে কেমন জানী আকাশের কেউ বা শূণ্য শূণ্য মনে হয়,তার থেকে কৃষ্ণ বললে নিজের বা আমার কৃষ্ণ মনে হয়। তাই ভগবান, ঈশ্বর, ঠাকুর এর চেয়ে কৃষ্ণ বললেই ভাল হয়। তবে সেই আদি কারনকে জানতে হবে,অনাদিরাদি – গোবিন্দে যেয়ে পৌছাতে হবে।তাকে না পেলে কিছুই পাওয়া হলো না,তাকে না জানলে কিছুই জানা হলো না। ভূত মহেশ্বরের একটা দিক হলেন শ্রীকৃষ্ণ। তিনি বেত্তাপুরুষ। বিধি তার বোধিতে স্ফুরিত হয়েছে।# ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র এমনি পরম ভক্ত ছিলেন যে, তার সারা জীবনের সকল কর্ম, বলা, চলা সকল কিছুই ভগবানের কৃপা বলে মনে করতেন। এবং তিনি বলতেন এবং সকলেই বুঝাতেন ভগবানের সাথে আমাদের সম্পর্ক কতটুকু।# হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র ছাড়া যে জীবের মুক্তি নেই, এ কথা ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র বার বার বলে গেছেন।আমাদের সকল বিপদ আপদ থেকে মুক্তির উপায় একমাত্র কৃষ্ণ নাম। তাই এই কৃষ্ণ নাম অর্থাৎ হরেকৃষ্ণ জপ, হরেকৃষ্ণ কীর্তন যেমন নিজের নিতে হবে, তেমনি প্রচারও করতে হবে, এই আদেশই তিনি আমাদের দিয়েছেন। তিনি সকাল সন্ধ্যা প্রার্থনার প্রচলন করেছেন, যেখানে সকাল সন্ধ্যায় বলতে হয়, ” জয় রাধে রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ গোবিন্দ গোবিন্দ বলরে।” অর্থাৎ আমরা যেন সব সময় কৃষ্ণ কৃষ্ণ গোবিন্দ গোবিন্দ বলি, সেই শপথই সকাল সন্ধ্যায় করা হয়।

🙏🙏 আসুন, আমরা সকলেই শ্রী শ্রী ঠাকুরের নির্দেশিত চলার পথে অগ্রসর হই আর তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে জীবনকে ধন্য করে তুলি। সাথে থাকুন, পাশে রাখুন। জয়গুরু!