রাধাষ্টমী ও শ্রীরাধিকা

লিখেছেন : ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায়

শ্রীকৃষ্ণের জন্মগ্রহণের পরের অষ্টমী তিথি অর্থাৎ ভাদ্র মাসের শুক্ল অষ্টমী তিথি শ্রীশ্রী রাধারাণীর জন্মতিথি “রাধাষ্টমী “৷ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ,২৮ ভাদ্র ১৪২৮ মঙ্গলবার এবারের “রাধাষ্টমী “৷ বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে ১৩ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ৩টে ১২ মিনিটে অষ্টমী তিথি শুরু হয়ে পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত থাকবে ৷ প্রাচীন বা গুপ্তপ্রেস মতে সোমবার সন্ধ্যা ৫টা১৭মিনিট ২৬ সেকেন্ডে অষ্টমী তিথি আরম্ভ হয়ে মঙ্গলবার দুপুর ২টো ৫২ মিনিট ৫০ সেকেন্ড পর্যন্ত থাকছে ৷ দুপুর পর্যন্ত উপবাসে থেকে এর মধ্যে পুজো সারতে হবে ৷ শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন রাধাষ্টমী ব্রত পালন লক্ষ একাদশীর সমান , সব তীর্থ ভ্রমণ এবং সব নদীতে স্নানের চেয়ে বেশি ফলদায়ী ৷ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাম অঙ্গ থেকে উৎপন্ন রাধার জন্মাষ্টমী শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করলে করতেই হয় ৷ রাধাষ্টমী ব্রত পালনে হাজার শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর সমান পূণ্যলাভ হয় ৷ হাজার জন্মের পাপ ক্ষয় হয় ৷ সাংসারিক সুখ শান্তি ও মঙ্গলকামনায় আমরা শ্রীরাধিকার পুজোয় অংশ নেব ৷ কারন স্বর্গ , মর্ত্য , পাতাল ত্রিলোক রাধারাণীর বশীভূত ৷রাধা -কৃষ্ণ ও অষ্টসখীর পুজো এবং বৃষভানু ও নন্দরাজার পুজো করা হবে ৷ রাধাষ্টমী ব্রত পালন শেষে ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণব ভোজন করিয়ে উদযাপন করা হবে ৷
“রাধা ” মানে ভাগ্যবান ও সফল ৷রাধারাণীকে যাঁরা কাল্পনিক বলেন তাঁরা অসত্য বলেন ৷” ঋক বেদের” সংহিতা নামের “ঋক পরিশিষ্টে” বলা আছে ” রাধয়া মাধব দেবো মাধবে নৈব রাধিকা “৷
আবার ঋকবেদে(১/৩০/৫) বলা হয়েছে “স্ত্রোত্রং রাধানাং পতে গির্বাহোবীর যস্যতে “৷
১৮ টি প্রধান পুরাণের ১৬ টি পুরাণেই “রাধা” কে আদি লক্ষ্মী বলা হয়েছে ৷ শুধু গৌড়ীয় নয় নিম্বার্ক , বল্লভ , সনক ও মনিপুরী বৈষ্ণব সম্প্রদায়েও রাধাকে মূল প্রকৃতি আদিশক্তির স্বরূপ বলা হয়েছে শাক্ত মতেও তাঁকে শ্রীকৃষ্ণের “নাদ শক্তি” বা দিব্যলীলার শাশ্বত সঙ্গী তথা শক্তি বলা হয়েছে ৷” তস্যাদ্যো প্রকৃতি রাধিকা নিত্য নির্গুণা ৷
যস্যাংশে লক্ষ্মী দুর্গাদিকা শক্তয়ঃ “( শ্রীগোপাল তাপনী)৷তিনি সহস্রাধিক গোপিকার মধ্যে গোপী শিরোমণি৷ তিনিই মহালক্ষ্মী শ্রীমতী ৷”আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্ছা তারে বলি কাম ৷ কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা ধরে ‘প্রেম ‘ নাম “( চৈতন্য চরিতামৃত -৪/১৬৫)৷ রাধার একমাত্র ইচ্ছা নিজের নয় শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছাপূরণ করা ৷ রাধাষ্টমীতে তাই আমাদের কর্তব্য রাধারাণীর ইচ্ছাপূরণ ৷ কারণ ,
রাধা যাকে বলেন শুদ্ধ ভক্ত তাঁকে ভগবান কৃষ্ণ
সঙ্গে সঙ্গে কৃপা করেন ৷ আমাদের জীবনের পরম
লক্ষ্যতো পরম করুণাময় প্রেমময় শ্রীভগবানের কাছে পৌঁছানো ৷ সেই মাধ্যম রাধারাণী ৷ আগে তাঁর সেবা করতে হবে ৷ শ্রীপদ্মপুরাণে ( ব্রহ্মখ-৭/৮) বলেছে
” একাদশ্যাঃ সহস্রেন যং ফলং লভতে নরঃ৷
রাধা জন্মাষ্টভী পুণ্যং তস্মাং শত গুণাধিকম্ ৷” শ্রীরাধার জন্ম তিথি রাধাষ্টমীর দিন তাই সূর্য উদয়ের দেড় ঘন্টা আগে যাকে ব্রাহ্ম মুহূর্ত বলে উঠে তাঁর জন্ম সময় ১২ টা পর্যন্ত উপবাসে থেকে রাধা কথা পাঠ , হরিনাম ও যথাসাধ্য রান্না করে রাধাকৃষ্ণের প্রসাদের ব্যবস্থা করতে হবে ৷ জগতের সেরা রাঁধুনী শ্রীরাধা ৷ অনন্ত কাল ধরে তিনি সুন্দর সুন্দর উপাদেয় রান্না করে ভগবৎ প্রসাদ দেন ৷একই ভোগ কখনো দ্বিতীয় বার দেন না ৷ আমাদের দিতে হবে সাধ্যমত রাধা-কৃষ্ণের
ভোগ আরতি ৷ রাধা হলেন সৎ , চিৎ, আনন্দরূপী ভগবানের আনন্দ বা প্রেমময়ী সত্তা ৷
“রাধে জয় জয় মাধব -দয়িতে ৷
গোকুলতরুণীমন্ডল -মহিতে ৷৷
দামোদর -রতিবর্ধন -বেশে৷
হরি নিষ্কুট বৃন্দাবিপিনেশে ৷৷
বৃষভানুদধি -নবশশিলেখে ৷
ললিতাসখি গুণরমিত বিশাখে ৷৷
করুণাং কুরুময়ি করুণা -ভরিতে ৷
সনক -সনাতন বর্ণিত -চরিতে “৷
কৃষ্ণদাস কবিরাজ “শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত ” গ্রন্থে তাই লিখেছেন ” কৃষ্ণময়ী কৃষ্ণ যাঁর ভিতরে বাহিরে ৷
যাঁহা যাঁহা নেত্র পড়ে তাঁহা কৃষ্ণ সফুরে ৷৷
কিংবা প্রেম রসময় কৃষ্ণের স্বরূপ ৷
তাঁর শক্তি তাঁর সহ হয় একরূপ ৷
কৃষ্ণবাঞ্ছা পূর্তিরূপ করে আরাধনে ৷
অতএব রাধিকা নাম পুরাণে বাখানে ৷”
ভগবতে শ্রীকৃষ্ণ প্রধান -” কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং” ৷
কিন্তু , গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনে “রাধাভাবাদ্যুতি সুবলিতং নৌমি কৃষ্ণস্বরূপম ” অর্থাৎ রাধা এসে বসলেন কৃষ্ণের আগে ৷ বৈষ্ণব পদাবলিতে তাই রাধার জয়গান ৷ যা নারীর মর্যাদার স্বীকৃতি ৷”শ্রী
রাধায়ৈ স্বাহা ” ৷ জয় রাধে ৷
“হ্লাদিনীর সার প্রেম প্রেম সার ভাব ৷
ভাবের পরমকাষ্ঠা নাম মহাভাব ৷৷
মহাভাব স্বরূপা শ্রীরাধা ঠাকুরাণী ৷
সর্বগুণখনি কৃষ্ণকান্তাশিরোমণি ৷৷
“রা” – স্ফীতো ভবতি মাধবঃ ৷
“ধা” – পশ্চাদ্ধাবত্যের সসম্ভ্রমঃ ৷
“রা” – শব্দ শুনে শ্রীকৃষ্ণ পুলকিত হয়ে ওঠেন ৷
“ধা” – কথা শুনে কৃষ্ণ ভক্তকে অনুসরণ করে দৌড়াতে থাকেন ৷ রাধা যে রাস মন্ডল বাসিনী পরমেশ্বরী
“রাধা ” আজ থেকে ৫২৪৫ বছর আগে ভাদ্র মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে অনুরাধা নক্ষত্রে মধ্যাহ্নে ( শ্রীকৃষ্ণের জন্মের ১৫ দিন পরে) বৃন্দাবনের কাছে বারসানা গ্রামের
এই জায়গায় বৃষভানুর কন্যারূপে জন্ম নেন ৷ তাই ,
রাধাষ্টমী ৷ আরাধনা = আ-রাধ্ + আনট্ +আ ৷
যে আরাধনা করে সে হলো রাধা ৷ রসরাজ শ্রীকৃষ্ণ
ও মহাভাবস্বরূপিনীপরমা প্রকৃতি রাধা হলেন মিলিত রূপ “রাধা –
কৃষ্ণ” ৷ “তবে হাসি প্রভু তারে দেখাল স্বরূপ ৷/
রসরাজ মহাভাব দুই একরূপ “৷ ঈশ্বরের পুরুষ ও প্রকৃতি সত্তার যুগলরূপ ৷ কৃষ্ণকে যশোদা ও নন্দ
রাজা পেয়েছিলন বাৎসল্য রূপে , ব্রজের রাখালরা
সখ্যভাবে বা বন্ধু হিসাবে ,আর রাধা পেয়েছেন মধুরভাবে ৷
( ছবি -শ্রীরাধার জন্মস্থান বারসানায় তোলা ৷
এই স্থানে জন্মাষ্টমীর দু সপ্তাহ বাদে “রাধাষ্টমী”
তিথিতে মানবীরূপে রাধারাণী জন্মগ্রহণ করেন ৷)
” তপ্ত কাঞ্চন গৌরাঙ্গী রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী বৃষভানু
সুতেদেবী প্রণমামী হরিপ্রিয়ে “৷
” নবীনাং হেমগৌরাঙ্গীং পূর্ণানন্দবতীং সতীম্ ৷
বৃষভাণীসুতাং দেবীং বন্দে রাধাজগৎপ্রসূম্ ৷
বৃন্দাবনেশ্বরী কৃষ্ণপ্রিয়া মদনমোহিনী ৷
প্রসন্ন ভব মে দেবী শ্রীরাধে ত্বাং নমাম্যহম্ ৷৷ “
নিত্য বৃন্দাবনে একই আত্মা দুই দেহ ধারন করে নিত্য বিরাজমান ৷ নারায়ণ নিজেই সৃষ্টি হয়েছেন ৷
তাঁকে কেউ সৃষ্টি করে নি ৷ শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন
তিনিই সমগ্র “বেদের নারায়ণ ( কৃষ্ণ) “৷ শ্রীকৃষ্ণ সাক্ষাৎ পূর্ণব্রহ্ম , তিনিও রাধাযন্ত্র কুড়িয়ে পেয়ে লোকশিক্ষার জন্য তপস্যা করেছিলেন ৷ ভগবান অবতার হয়ে যখন আসেন তখন একা আসেন না ৷
সপার্ষদ আসেন ৷ ত্রেতায় এসেছিলেন রাম – সীতা ৷
দ্বাপরে রাধা-কৃষ্ণ এবং কলিতে চৈতন্য – বিষ্ণুপ্রিয়া
রূপে ৷ রাধাকৃষ্ণ ঈশ্বরের পুরুষ ও প্রকৃতি সত্বার যুগল রূপ ৷ রাধা – আদ্যাশক্তি বা প্রকৃতি আর কৃষ্ণ
স্বয়ং ব্রহ্ম ৷ ত্রিগুণময়ী রাধা ৷ কৃষ্ণ জগৎ সংসারকে মোহিত করেন ৷ আর রাধা নিজের প্রেমে কৃষ্ণকে ও মোহিত করেন ৷ “রাধা -কৃষ্ণ” !
কৃষ্ণ – সূর্য ৷আর চাঁদের প্রতিফলিত জ্যোতি “রাধা”৷
সূর্যের আলো না থাকলে চাঁদের আলো রূপী রাধাও থাকবে না ৷ তাই রাধা কৃষ্ণগত প্রাণ ৷কৃষ্ণ পজিটিভ আকর্ষন শক্তি আর রাধা বিকর্ষন শক্তি ৷
পরমাণুরূপী কৃষ্ণকে দেখতে হলে ইলেকট্রন ও প্রোটন নামের আকর্ষন ও বিকর্ষন শক্তিকে জোটবদ্ধ হতে হয় ৷ “নিউক্লিয় জ্যোতি ” নামে প্রতিটা পরমাণুর মধ্যে রাধা ও কৃষ্ণের উপস্থিতি বিদ্যমান ৷কৃষ্ণকে গোপালক বলার কারন “গো” মানে জল অর্থাৎ কৃষ্ণরূপ সূর্যের নিয়ন্ত্রনে থাকা জলবৃষ্টিই হলো ” গোধন” ৷ গো শব্দে এখানে উজ্বল রশ্মি বোঝানো হয়েছে ৷ “রাধে-কৃষ্ণ” !
শ্রীকৃষ্ণ প্রেম ঘন
রস বিগ্রহ৷ ছোটবেলা থেকে ছিল তাঁদের স্বর্গীয় বন্ধুত্ব ৷ ৷ রাধা , কৃষ্ণ প্রেমের মহাভাব স্বরূপিণী ৷
রাধার ১৬ টি নাম – শ্রীরাধা , রাসেশ্বরী , রাসবাসিনী , রসিকেশ্বরী , কৃষ্ণ প্রাণাধিকা , কৃষ্ণপ্রিয়া , কৃষ্ণস্বরূপিনী , কৃষ্ণবামাঙ্গসম্ভূতা ,কৃষ্ণা
,পরমানন্দরূপিনী , বৃন্দাবনী , বৃন্দা , বৃন্দাবন-
বিনোদিনী , চন্দ্রাবতী , চন্দ্রকান্তা , শতচন্দ্র নিভাননা ৷এই ১৬ নাম সামবেদের হাজার নামের সার ৷ত্রিসন্ধ্যা এই ১৬ নাম র্কীতন করলে পরমব্রহ্ম
হরির কৃপালাভ হয় ৷” রাধাকৃষ্ণ প্রাণ মোর যুগল কিশোর ,/ জীবনে মরণে গতি আর নাহি মোর “৷
রাধারাণী রাস মন্ডলে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে
“রা” , আবার পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনার জন্য
পুষ্প সহ ধাবিত হয়েছিলেন বলে ” ধা” ! “রা” মানে দান করা , আর “ধা” মানে মুক্তি ৷তাই আগে রাধা পরে কৃষ্ণ ৷ ভাদ্র মাসের শুক্ল অনুরাধা নক্ষত্রে সোমবার অষ্টমী তিথিতে বৃন্দাবনের কাছে বারষানা গ্রামে বৃষভানু – কীর্তদার বা কলাবতীর কন্যারূপে মা লক্ষ্মী রাধারাণী হয়ে দ্বাপরে জন্মগ্রহণ করেন ৷কৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তি ৷ “রাধা-কৃষ্ণ এক আত্মা কভু ভিন্ন নয় ৷/ দোঁহে দোঁহে পরখি হৃদয়ে ক্রীড়া হয়” ৷ বৈষ্ণব শাস্ত্রে আছে কামরাধা ( চন্দ্রাবলী) , প্রেমরাধা ( শ্রীমতী) ও নিত্যরাধা ( নন্দ যাঁকে গোপাল কোলে দেখেছিলেন ) ! রামকৃষ্ণ দেব বলেছেন , জল আর
তার হিমশক্তির মত চিচ্ছক্তি ( প্রকৃতি) আর বেদান্তের ব্রহ্ম ( শ্রীকৃষ্ণ) অভেদ ৷ ব্যাকুল হয়ে সাধন করলে তাঁর দেখা মেলে ৷ “ষড় দর্শনে না পায় দর্শন , আগম , নিগম তন্ত্রসারে ৷ / যে যে ভক্তিরসের রসিক সদানন্দে বিরাজ করে পুরে “!কি অপরূপ রাধাকৃষ্ণ তত্ব ৷ জয় রাধা-কৃষ্ণ ৷
অনেক সিঁড়ি ভেঙ্গে বারসানায় বৃষভানু তথা শ্রীরাধার বাড়ীতে গিয়েছিলাম ৷রাধা সকল জীবাত্মার প্রতীক আর কৃষ্ণ হলেন পরমাত্মা ৷রাধার প্রণয়াশক্তি পরমত্মা ও জীবাত্মার শাশ্বত মিলনাসক্তি ৷ ওঁ বৃষভানুজায়ৈ বিদ্মহে কৃষ্ণপ্রিয়ায়ৈ ধীমহি তন্নো রাধা প্রচোদয়াৎ ৷ অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাই তাঁকে প্রণাম করি ৷” তপ্তকাঞ্চনগৌরাঙ্গি রাধে
বৃন্দাবনেশ্বরী ৷ বৃষভানুসুতে দেবী প্রণমামি হরিপ্রিয়ে ” ৷
রাধারাণী বলেছেন ,” জীবক জীবন প্রেম হাম তুয়া জানি ” অর্থাৎ তুমি আমার জীবনের জীবন ৷
তাইতো চন্ডীদাস লিখেছেন ,” জল বিনু মীন জনু কবহ না জীয়ে “৷ ননদী ও শাশুড়ীর গঞ্জনা কিংবা
প্রতিবেশীর বিদ্রুপ উপেক্ষা করে কৃষ্ণের মুখখানি দেখার জন্য ছুটে আসতেন ” যথা তথা যাই , আমি
যত দূর চাই ,/ চাঁদ মুখের মধুর হাসে তিলেকে জুড়াই “৷” সই কে বা শোনাইলো শ্যাম নাম , কানের ভিতর মরমে পশিল গো আকুল করিল মোর প্রাণ “৷ তাই তিনি বলেছেন ,”বনমালী তুমি পরজন্মে হইও রাধা ” ৷আসলে পরমাত্মা কৃষ্ণের প্রতি জীবাত্মা
রূপ রাধার আত্মসমর্পণ কবিদের কল্পনায় এভাবে ডানা মেলেছে ৷ আধ্যাত্মিকভাবে প্রতীকী রাধাকে
সাধারন নারী করে দাঁড় করেছে ৷ “ন বিনা বিপ্রলম্ভে – সম্ভোগঃ পুষ্টিমশ্রুতে অর্থাৎ বিরহ ছাড়া
সম্ভোগরস জমে না ৷ রূপের কাছে চোখ থাকে ৷কিন্তু , মন থাকে চোখের আড়ালে ৷ রূপের সঙ্গে চোখের সরাসরি আর মনের পরোক্ষ সম্বন্ধ ৷ প্রিয় দূরে থাকলে চোখ সহ ইন্দ্রিয় গনের বিরহ ঘটে ৷
এতো ভগবানের কাছ থেকে আনন্দ পেতে চাওয়া
এর শব্দগত অর্থ “কাম” হলেও এটা “অনঙ্গ” ৷
শ্রীকৃষ্ণের স্বভাব “স্বজন প্রেম নিবর্দ্ধন পরায়নতা “৷
যা শ্রীরাধাকে বা প্রিয়জনদের নয় তাঁকে দুঃখ দেয় ৷ভগবান ভক্তের ডাকে ছুটে ছুটে আসেন ৷ রাধা ও
কৃষ্ণের ভালবাসা আধ্যাত্মিক বা “প্ল্যাটোনিক” ৷ শারীরিক চাহিদা নয় এক মিলনের তিতিক্ষা ৷এই প্রেম জাগতিক নয় ৷ রাধার প্রেম নিঃস্বার্থ ৷ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ সচ্ছিদানন্দময় ৷ ঈশ্বর হলেন রস বা রসো বৈ সঃ ৷ তাঁর হ্লাদিনী (নাদ) শক্তি রাধা ৷ তাঁর সহচরী ৷ সব দৈবী শক্তির স্ত্রী রূপ ৷
তিনি কৃষ্ণময়ী ৷ কৃষ্ণের বাঁ পাশে দন্ডায়মানা ৷ পরস্পরের নিত্য সঙ্গী ৷নারদ পঞ্চরাত্রে তাই বলা হয়েছে নবমেঘের মত শ্রীকৃষ্ণর
একভাগ স্ত্রী বিষ্ণুমায়া রাধারাণী ৷ অন্যভাগে তিনি
স্বয়ং কৃষ্ণ ৷ পূর্ণ শক্তিমান শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণ শক্তি রাধা রূপে লীলার জন্য দুই দেহে বিলাস করেছেন ৷আসলে তাঁরা এক ৷ ভক্তদের আনন্দ দেওয়ার জন্য জগতে জগন্ময়ের রাধাকৃষ্ণ রূপী লীলাভিনয় ৷ এও ভগবানের “স্নেহ” ৷ এই স্নেহের উদয় হলে কৃষ্ণ কথা কানে শুনে পূর্ণতৃপ্তি হয় না ৷ আরো শুনতে মন চায় ৷ তাঁর স্নেহ দুরকম – “ঘৃত স্নেহ” –
যা কৃষ্ণ কথায় গাঢ় হলেও পুরোপুরি আস্বাদ করা
যায় না ৷ “মধুস্নেহ” – এই স্নেহ নিজে আস্বাদ করা যায় আবার অনেকে মিলেও আস্বাদ করা যায় ৷ এসব কাহিনির উপস্থাপনা সেজন্য ৷ ভগবৎ প্রেমকে নারী- পুরুষের প্রেম রূপে দেখে ভগবানের আস্বাদ নেওয়া ৷ তাই , ভগবানের দুই মূর্তিতে আগমন ৷ আমাদের সাধারন জ্ঞানে সাদা চোখে ঈশ্বরের লীলা বোঝানো ৷ জয়তু রাধা-কৃষ্ণ ৷ যে রাধারাণীকে ভাবলে কৃষ্ণ পাওয়া যায় ৷২০২১ সালে জন্মাষ্টমী ৩০ আগষ্ট সোমবার ৷আর রাধাষ্টমী তার এক পক্ষ কাল পরে শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে অভিজিৎ মুহুর্তে রাজা বৃষভানুর যজ্ঞ ভূমি থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন ৷১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার ৷তাঁর ৫২৪৬ -তম আর্বিভাব তিথি ৷রাজা বৃষভানু ও তাঁর স্ত্রী শ্রীকীর্তি তাঁদের কন্যারূপে রাধাকে বড় করেছিলেন ৷ শ্রীরাধা ব্রহ্ম , ভারহা ও পদ্ম তিন কল্পে কৃষ্ণের সর্বোচ্চ শক্তি হিসাবে বর্ণিত হয়েছেন ৷বিষ্ণুপ্রিয়া লক্ষ্মীই রাধারাণী হয়ে অর্থাৎ কৃষ্ণবল্লভা , কৃষ্ণাত্মা , কৃষ্ণপ্রিয়া নামে অভিহিত হয়েছেন ৷ যে কৃষ্ণ জগৎ সংসারকে মোহিত করেন ৷ নিজের প্রেমের মাধ্যমে তিনি শ্রীকৃষ্ণকে মোহিত করেন ও নিয়ন্ত্রণ করেন ৷কৃষ্ণ রাধার অন্বেষণে রাস নৃত্যের চক্র ছেড়ে দিয়েছিলেন ৷ আসলে রাধা হলেন রাসনৃত্যের অংশীভূত হওয়া সব গোপিনী তথা দিব্য ব্যক্তিত্বদের মূলসত্ত্বা ৷ এঁরা রাধারাণীর বিস্তার বা কায়ব্যুহ ৷ ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে তিনি ব্রহ্মান্ড জননী ৷ পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে ,” জগৎপিতা কৃষ্ণ এবং জগন্মাতা রাধিকা ৷ তবু আমরা তাঁকে মা বলি না ৷রাধাকৃষ্ণের যুগল স্বরূপই পরম স্বরূপ ৷ তাই যুগল উপাসনা সেরা উপাসনা বা পরম উপাস্য ৷” জয় জয় রাধাকৃষ্ণ যুগল -মিলন ৷
আরতি করয়ে ললিতাদি সখীগণ ৷৷”মানুষকে প্রেম সাগরে ভাসিয়ে ও স্বাদ গ্রহণ করিয়ে ভক্তদের ভগবানের প্রেমসুধা পান করান ৷ উপলব্ধি হয় তাঁদের নিত্যপ্রেমের ভাবের বিলাস ৷চিরচারিত বৈবাহিক সম্পর্ক না থাকলেও কেউ তাই রাধা-কৃষ্ণকে পৃথকভাবে দেখেন নি ৷ বিয়ের প্রসঙ্গে কৃষ্ণ রাধাকে বলেছিলেন বিয়েতো দুজনের মধ্যে হয় আর আমরাতো একজনই ৷”রাধা -কৃষ্ণ এক আত্মা কভু ভিন্ন নয় ৷/ দোঁহে দোঁহে পরখি হৃদয়ে ক্রীড়া হয় “৷রামকৃষ্ণ পরমহংস তাই বলেছেন ,”জল আর হিমশক্তির মত প্রকৃতি চিচ্ছক্তি(রাধা) আর বেদান্তের ব্রহ্ম (কৃষ্ণ) অভেদ” ৷ কৃষ্ণ পজিটিভ আকর্ষণ শক্তি আর রাধা বিকর্ষণ শক্তি ৷ কৃষ্ণ যদি সুর্য হন রাধা হলেন চাঁদের প্রতিফলিত জ্যোতি ৷শ্রীকৃষ্ণ সবচেয়ে ভালবাসতেন রাধা কে ও বাঁশিকে ৷কৃষ্ণের বাঁশির মধুর সঙ্গীত শুনত শুনতে রাধা দেহত্যাগ করেন ৷ আর , ভগবান শ্রীরাধার মৃত্যুর পর বাঁশি ফেলে দেন এবং সাত দিনও আর ধরাধামে থাকেন নি ৷
রাধিকা শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাবের এক পক্ষকাল পরে ধরাধামে এসে লীলার মাধ্যমে আমাদের ভগবৎ
প্রেম শিখিয়েছেন ৷ আমরা রাধাষ্টমীতে দুপুর পর্যন্ত উপবাসে থেকে
শ্রীরাধাকে জুঁই , পদ্ম বা সাদা ফূল দিয়ে অর্চনা করি ৷ ভোগ দিয়ে থাকি তাঁর প্রিয় রাধাবল্লভী (কচুরী)
গাটি কচুর তরকারী , চাল ভাজা , তিল ভাজা ও মালপোয়া ৷ তপ্তকাঞ্চন গৌরাঙ্গী রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী বৃষভানুসুতে দেবী প্রণমামী হরিপ্রিয়ে ৷”রা” হলো লাভ করা “ধা” অর্থে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিকে এগিয়ে যাওয়া ৷”রা” হলো দান করা আর “ধা” মানে মুক্তি ৷ তাই আগে রাধা পরে কৃষ্ণ ৷ কৃষ্ণের প্রেম ভক্তি পাওয়ার জন্য রাধিকাকে অধীশ্বরী রূপে তার আনুগত্যে সেবা করেন ৷ তাই তাঁকে মা রূপে দেখেন না ৷ রাধিকা হলেন নিত্য কিশোরী প্রেমিকা
রাধারাণী বলেছেন ,” জীবক জীবন প্রেম হাম তুয়া জানি ” অর্থাৎ তুমি আমার জীবনের জীবন ৷
তাইতো চন্ডীদাস লিখেছেন ,” জল বিনু মীন জনু কবহ না জীয়ে “৷ ননদী ও শাশুড়ীর গঞ্জনা কিংবা
প্রতিবেশীর বিদ্রুপ উপেক্ষা করে কৃষ্ণের মুখখানি দেখার জন্য ছুটে আসতেন ” যথা তথা যাই , আমি
যত দূর চাই ,/ চাঁদ মুখের মধুর হাসে তিলেকে জুড়াই “৷” সই কে বা শোনাইলো শ্যাম নাম , কানের ভিতর মরমে পশিল গো আকুল করিল মোর প্রাণ “৷ তাই তিনি বলেছেন ,”বনমালী তুমি পরজন্মে হইও রাধা ” ৷আসলে পরমাত্মা কৃষ্ণের প্রতি জীবাত্মা
রূপ রাধার আত্মসমর্পণ কবিদের কল্পনায় এভাবে ডানা মেলেছে ৷ আধ্যাত্মিকভাবে প্রতীকী রাধাকে
সাধারন নারী করে দাঁড় করেছে ৷ “ন বিনা বিপ্রলম্ভে – সম্ভোগঃ পুষ্টিমশ্রুতে অর্থাৎ বিরহ ছাড়া
সম্ভোগরস জমে না ৷ রূপের কাছে চোখ থাকে ৷কিন্তু , মন থাকে চোখের আড়ালে ৷ রূপের সঙ্গে চোখের সরাসরি আর মনের পরোক্ষ সম্বন্ধ ৷ প্রিয় দূরে থাকলে চোখ সহ ইন্দ্রিয় গনের বিরহ ঘটে ৷
এতো ভগবানের কাছ থেকে আনন্দ পেতে চাওয়া
এর শব্দগত অর্থ “কাম” হলেও এটা “অনঙ্গ” ৷
শ্রীকৃষ্ণের স্বভাব “স্বজন প্রেম নিবর্দ্ধন পরায়নতা “৷
যা শ্রীরাধাকে বা প্রিয়জনদের নয় তাঁকে দুঃখ দেয় ৷ভগবান ভক্তের ডাকে ছুটে ছুটে আসেন ৷ রাধা ও
কৃষ্ণের ভালবাসা আধ্যাত্মিক বা “প্ল্যাটোনিক” ৷ শারীরিক চাহিদা নয় এক মিলনের তিতিক্ষা ৷এই প্রেম জাগতিক নয় ৷ রাধার প্রেম নিঃস্বার্থ ৷ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ সচ্ছিদানন্দময় ৷ ঈশ্বর হলেন রস বা রসো বৈ সঃ ৷ তাঁর হ্লাদিনী (নাদ) শক্তি রাধা ৷ তাঁর সহচরী ৷ সব দৈবী শক্তির স্ত্রী রূপ ৷
তিনি কৃষ্ণময়ী ৷ কৃষ্ণের বাঁ পাশে দন্ডায়মানা ৷ পরস্পরের নিত্য সঙ্গী ৷নারদ পঞ্চরাত্রে তাই বলা হয়েছে নবমেঘের মত শ্রীকৃষ্ণর
একভাগ স্ত্রী বিষ্ণুমায়া রাধারাণী ৷ অন্যভাগে তিনি
স্বয়ং কৃষ্ণ ৷ পূর্ণ শক্তিমান শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণ শক্তি রাধা রূপে লীলার জন্য দুই দেহে বিলাস করেছেন ৷আসলে তাঁরা এক ৷ ভক্তদের আনন্দ দেওয়ার জন্য জগতে জগন্ময়ের রাধাকৃষ্ণ রূপী লীলাভিনয় ৷ এও ভগবানের “স্নেহ” ৷ এই স্নেহের উদয় হলে কৃষ্ণ কথা কানে শুনে পূর্ণতৃপ্তি হয় না ৷ আরো শুনতে মন চায় ৷ তাঁর স্নেহ দুরকম – “ঘৃত স্নেহ” –
যা কৃষ্ণ কথায় গাঢ় হলেও পুরোপুরি আস্বাদ করা
যায় না ৷ “মধুস্নেহ” – এই স্নেহ নিজে আস্বাদ করা যায় আবার অনেকে মিলেও আস্বাদ করা যায় ৷ এসব কাহিনির উপস্থাপনা সেজন্য ৷ ভগবৎ প্রেমকে নারী- পুরুষের প্রেম রূপে দেখে ভগবানের আস্বাদ নেওয়া ৷ তাই , ভগবানের দুই মূর্তিতে আগমন ৷ আমাদের সাধারন জ্ঞানে সাদা চোখে ঈশ্বরের লীলা বোঝানো ৷ জয়তু রাধা-কৃষ্ণ ৷ যে রাধারাণীকে ভাবলে কৃষ্ণ পাওয়া যায় ৷২০২১ সালে জন্মাষ্টমী ৩০ আগষ্ট সোমবার ৷আর রাধাষ্টমী তার এক পক্ষ কাল পরে শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে অভিজিৎ মুহুর্তে রাজা বৃষভানুর যজ্ঞ ভূমি থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন ৷১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার ৷তাঁর ৫২৪৬ -তম আর্বিভাব তিথি ৷রাজা বৃষভানু ও তাঁর স্ত্রী শ্রীকীর্তি তাঁদের কন্যারূপে রাধাকে বড় করেছিলেন ৷ শ্রীরাধা ব্রহ্ম , ভারহা ও পদ্ম তিন কল্পে কৃষ্ণের সর্বোচ্চ শক্তি হিসাবে বর্ণিত হয়েছেন ৷বিষ্ণুপ্রিয়া লক্ষ্মীই রাধারাণী হয়ে অর্থাৎ কৃষ্ণবল্লভা , কৃষ্ণাত্মা , কৃষ্ণপ্রিয়া নামে অভিহিত হয়েছেন ৷ যে কৃষ্ণ জগৎ সংসারকে মোহিত করেন ৷ নিজের প্রেমের মাধ্যমে তিনি শ্রীকৃষ্ণকে মোহিত করেন ও নিয়ন্ত্রণ করেন ৷কৃষ্ণ রাধার অন্বেষণে রাস নৃত্যের চক্র ছেড়ে দিয়েছিলেন ৷ আসলে রাধা হলেন রাসনৃত্যের অংশীভূত হওয়া সব গোপিনী তথা দিব্য ব্যক্তিত্বদের মূলসত্ত্বা ৷ এঁরা রাধারাণীর বিস্তার বা কায়ব্যুহ ৷ ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে তিনি ব্রহ্মান্ড জননী ৷ পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে ,” জগৎপিতা কৃষ্ণ এবং জগন্মাতা রাধিকা ৷ তবু আমরা তাঁকে মা বলি না ৷রাধাকৃষ্ণের যুগল স্বরূপই পরম স্বরূপ ৷ তাই যুগল উপাসনা সেরা উপাসনা বা পরম উপাস্য ৷” জয় জয় রাধাকৃষ্ণ যুগল -মিলন ৷
আরতি করয়ে ললিতাদি সখীগণ ৷৷”মানুষকে প্রেম সাগরে ভাসিয়ে ও স্বাদ গ্রহণ করিয়ে ভক্তদের ভগবানের প্রেমসুধা পান করান ৷ উপলব্ধি হয় তাঁদের নিত্যপ্রেমের ভাবের বিলাস ৷চিরচারিত বৈবাহিক সম্পর্ক না থাকলেও কেউ তাই রাধা-কৃষ্ণকে পৃথকভাবে দেখেন নি ৷ বিয়ের প্রসঙ্গে কৃষ্ণ রাধাকে বলেছিলেন বিয়েতো দুজনের মধ্যে হয় আর আমরাতো একজনই ৷”রাধা -কৃষ্ণ এক আত্মা কভু ভিন্ন নয় ৷/ দোঁহে দোঁহে পরখি হৃদয়ে ক্রীড়া হয় “৷রামকৃষ্ণ পরমহংস তাই বলেছেন ,”জল আর হিমশক্তির মত প্রকৃতি চিচ্ছক্তি(রাধা) আর বেদান্তের ব্রহ্ম (কৃষ্ণ) অভেদ” ৷ কৃষ্ণ পজিটিভ আকর্ষণ শক্তি আর রাধা বিকর্ষণ শক্তি ৷ কৃষ্ণ যদি সুর্য হন রাধা হলেন চাঁদের প্রতিফলিত জ্যোতি ৷শ্রীকৃষ্ণ সবচেয়ে ভালবাসতেন রাধা কে ও বাঁশিকে ৷কৃষ্ণের বাঁশির মধুর সঙ্গীত শুনত শুনতে রাধা দেহত্যাগ করেন ৷ আর , ভগবান শ্রীরাধার মৃত্যুর পর বাঁশি ফেলে দেন এবং সাত দিনও আর ধরাধামে থাকেন নি ৷
রাধিকা শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাবের এক পক্ষকাল পরে ধরাধামে এসে লীলার মাধ্যমে আমাদের ভগবৎ
প্রেম শিখিয়েছেন ৷ আমরা রাধাষ্টমীতে দুপুর পর্যন্ত উপবাসে থেকে
শ্রীরাধাকে জুঁই , পদ্ম বা সাদা ফূল দিয়ে অর্চনা করি ৷ ভোগ দিয়ে থাকি তাঁর প্রিয় রাধাবল্লভী (কচুরী)
গাটি কচুর তরকারী , চাল ভাজা , তিল ভাজা ও মালপোয়া ৷”রা” হলো লাভ করা “ধা” অর্থে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিকে এগিয়ে যাওয়া ৷”রা” হলো দান করা আর “ধা” মানে মুক্তি ৷ তাই আগে রাধা পরে কৃষ্ণ ৷ কৃষ্ণের প্রেম ভক্তি পাওয়ার জন্য রাধিকাকে অধীশ্বরী রূপে তার আনুগত্যে সেবা করেন ৷ তাই তাঁকে মা রূপে দেখেন না ৷ রাধিকা হলেন নিত্য কিশোরী প্রেমিকা ৷ রাধা পেলেই কৃষ্ণ মেলে ৷ সবাইকে জানাই রাধাষ্টমীর অভিনন্দন ৷ জয় রাধে রাধে ৷