যোগ ( YOGA )

লিখেছেন : ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায়

“যোগ” – ভারতবর্ষের নিজস্ব শরীর বৃত্তিয় ওমানসিক সাধন পদ্ধতি ৷ সংস্কৃত শব্দ “যুক্ত” থেকে সংস্কৃত ও পালি ভাষায় Yoga , বাংলায় যোগ ৷ সিন্ধু সভ্যতায় এক যোগীর ছবি পাওয়া গেছে ৷পুরাতত্ববিদ গ্রেগরি পোসেন একে তৎকালীন ধর্মীয়আচার বলে মনে করেছেন ৷ তবে , ঋগবেদের সময় যোগাসন প্রচলিত ছিল ৷ কঠোপনিষদেও যোগের উল্লেখ আছে ৷ সেখানে “যোগ” কে বলা হয়েছে ইন্দ্রিয় সংযোগ ও মানসিক প্রবৃত্তি গুলির উপর নিয়ন্ত্র ণ করে চেতনার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হওয়া ৷ নাসদীয় সূক্ত , মহাভারত , ভগবদগীতা , হঠযোগ প্রদীপিকা , শিবসংহিতা ও পতঞ্জলির যোগ সূত্রে এ বিষয়ে অনেক কিছু বলা হয়েছে ৷ বৈদিক সংহিতায় দেখা যায় তপস্বীর তপস্যার অঙ্গছিল ” যোগ” ৷আমাদের হিন্দু দর্শনের ছয়টি পদ্ধতি কপিলের সাংখ্য,গৌতমের ন্যায় , কণাদের বৈশেষিক , জৈমিনীর পূর্ব মীমাংসা ও বদরায়নেরউত্তর মীমাংসা বা বেদান্তর মত পতঞ্জলির “যোগ”৷জৈন ধর্মে যোগকে মানসিক , বাচিক ও শারীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়ার সমষ্ঠি বলা হয়েছে ৷ প্রথম দিকের বৌদ্ধ গ্রন্থে বুদ্ধদেবের দুই গুরুর ধ্যান যোগের কথাআছে ৷ আমার ছেলে যোগ শিখেছে তার কাছে শুনেছি অষ্টাঙ্গ যোগ হল – যম(৫টি পরিহার) , নিয়ম (৫টি ধার্মিক ক্রিয়া ), আসন , প্রাণায়ম( শ্বাস নিয়ন্ত্রণ) , প্রত্যাহার ,, ধারনা , ধ্যান ও সমাধি৷ মন্ত্রযোগ – ইষ্ট নাম জপ করতে করতে মনের লয় ৷ হঠযোগ- “হ” মানে সূর্য আর “ঠ” মানে চাঁদ ৷ সূর্যকে ডান ও চাঁদকে বাঁদিক ৷ “হ” কে ইড়া নাড়ি ৷ “ঠ” কে পিঙ্গলা নাড়ি আর মাঝে সুষুম্মা নাড়ী ৷ধৌতি, বস্তি, নেতি , নৌলিকী , ত্রাটক , কপাল ভাতি এই ষটকর্মে শরীর শুদ্ধ হয় ৷ তাই বলি হয় যোগের তূল্য বল নেই ৷ “শিব” যোগের প্রথম শিক্ষক ৷ যিনি ৮৪ রকম আসনের শিক্ষা দিয়েছিলেন ৷ যোগীরা ৫০০০০ আসনের কথা বলেছেন ৷ শ্রীমদভাগবতে শ্রীকৃষ্ণ করেছেন যোগের গুণগান ৷ স্বামী বিবেকানন্দের ভাষায়” Yoga is restraining the mind stuff ( chitta) from taking various forms ( vrittis ).” এতে কূলকুন্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হয় ৷ মস্তিষ্কে গিয়ে খুলির নিচে থাকা সহস্রদল পদ্মকুঁড়ি ও তার উপরে থাকা ফণাধর সাপ যা মহাশঙ্খিণী শক্তি “মহামায়া”,আর পদ্মের কর্ণিকা বা বীজকোষে থাকেন ব্রহ্মস্বরূপ “শিব” !তাই যোগ জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার ( নফস ও রুহুর) যোগ বা মিল ৷এতে কাম , ক্রোধ , মোহ, অনুরাগ , স্নেহ এই পাঁচটি চিত্তবৃত্তি দূর হয়ে মানুষ মুক্ত হয় ৷ হঠযোগ হল ” শরীরমাদ্যং খলু ধর্মসাধনম ” অর্থাৎ শরীর ওমন সুস্থ রেখে দীর্ঘায়ু হওয়া ৷ কর্মযোগ , জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ সাধনার অঙ্গ ৷ রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ভূমিকার জন্য আজ “যোগ” সারা পৃথিবীতে জাতি ,ধর্ম নির্বিশেষে সমাদৃত ৷ তাই , এখন ২১ জুন বিশ্ব জুড়ে পালিত হয়” বিশ্ব যোগ দিবস” ৷ আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রস্তাবানুসারে ৪৭ টি মুসলমান দেশ সহ১৭৭ দেশের সর্মথনে হচ্ছে ” World yoga day “.পতঞ্জলি , গোরক্ষনাথ ,সুশ্রুতের পর স্বামী যোগানন্দ, মহেশ যোগী , শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর , রামদেবপ্রমুখের হাত ধরে তা দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ৷ভালো থাকুন ৷ “যোগ” করুন ৷