মহাত্মা গান্ধী ও বিশ্ব অহিংস দিবস

লিখেছেন : ডঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায়

জাতির পিতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জীবন – ই ছিল তাঁর বাণী ৷ আট হাতি নেংটির মত ধুতি পরে আদুল গায়ে খরম পায়ে তিনি মানব কল্যাণের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন ৷ করমচাঁদ উত্তম গান্ধী ও তাঁর চতুর্থ পত্নী পুতলিবাঈ এর পুত্র মোহনদাস আমাদের কাছে “বাপু” ( বাবা) বলে পরিচিত ৷ আর একটি চেনা উপাধি কবিগুরুর দেওয়া “মহাত্মা ” ৷ যিনি ছিলেন অস্পৃশ্যতা , হিংসা ও হিন্দু – মুসলমান সংঘর্ষের ঘোর বিরোধী ৷ অহিংস আন্দোলন ও সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রবক্তা ! প্রিয় রামধুন গানটির মতই যাঁর একান্ত প্রার্থনা ছিল “ঈশ্বর আল্লা তেরো নাম , সবকো সম্মতি দে ভগবান ” ৷ মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কেউ কোনভাবে এই অহিংসার পূজারী , সত্যবাদী , নিরামিষ ভোজী লোকটি নিজের অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি ৷ তাঁর সাহস ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজকে টলিয়ে দিয়েছিল ৷ ভাবতে আশ্বর্য লাগে এজন্য তাঁকে লাঠি বন্দুক ব্যবহার করতে হয় নি ! যিনি বলতেন , “যে অবস্থা তুমি নিজের জন্য চাও , অন্যের জন্য তুমি সে অবস্থাটা চাইবে ৷ প্রবল জনপ্রিয়তা সত্বেও তিনি নিজে ক্ষমতা গ্রহণ করেন নি ৷ সরল এই মানুষটির চাহিদা ছিল অতি অল্প তাই তিনি হয়ে ওঠেন মানবজাতির এক “অবতার ” ৷ খাও দাও মৌজ করোর বর্তমান দুনিয়ায় যেখানে ঘুষ নেওয়া অন্যায় নয় , অন্য আয় ৷ সেখানে তাঁকে বুঝতে গেলে ভাবতে হবে ৷ একজনের সৎ ভাবে বাঁচতে সত্যিই লোককে পীড়ন করার দরকার কিনা ? বহুত্ববাদী ভারতীয় তথা বিশ্ব সমাজে সৌভ্রাতৃত্বপূর্ণ সহাবস্থানের কোন বিকল্প নেই ৷ ব্রহ্মচর্য পালনকে তিনি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের ও আত্মোপলব্ধির উপায় ভাবতেন ৷ আমরা অতদূর না যেতে পারি নিজের চাহিদায় রাশ টেনে মনে শান্তি পেতে পারি ৷ শুধুমাত্র কুটীরশিল্পের প্রতি আস্থা হয়তো এখনকার যুগে অসম্ভব ৷ তাবলে , ক্ষুদ্র শিল্প ছাড়া আমাদের মত দেশে কর্ম সংস্থানও সম্ভব নয় ৷ তিনিই বোধহয় বিশ্বে সর্বাধিক পরিচিত ভারতীয় ৷ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২০০৭ সালের ১৫ জুনে রাষ্ট্রসংঘের সভায় আজকের দিনটি অর্থাৎ ২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ” বিশ্ব অহিংস দিবস ” ৷ কিছু বিষয়ে তাঁর কথা আমরা না মানলেও বিশ্ব বরেণ্য মার্টিন লুথার কিং , নেলসন ম্যান্ডেলা , খান আবদুল গফফর খানের মত মানুষ এমনি এমনি হননি তাঁর একনিষ্ঠ ভক্ত ৷ সারা পৃথিবী হয়ে উঠুক অহিংসার ভক্ত ৷ এছাড়া মানব জাতি ধ্বংস হবে ৷ আজকের এই শুভ দিনে সেটাই কামনা ৷