বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস (WORLD MENTAL HEALTH DAY)

লিখেছেন : ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায়

আমাদের মনোজগত , অনুভূতি ও সামাজিক সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত মানসিক স্বাস্থ্য ৷ যা একজন ব্যক্তি , পরিবার ও সমাজের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ৷ শরীর ও মন এ দুই নিয়ে একজন ব্যক্তি মানুষ ৷ শরীরবিহীন মানুষের অস্তিত্ব যেমন কল্পনা করা যায় না ৷ তেমনি মন বিহীন মানুষও মাটির পুতুল মাত্র ৷ সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য সুস্থ শরীরের মতই সুস্থ মন সমান গুরুত্বপূর্ণ ৷ অথচ , শারীরিক সুস্থতা নিয়ে আমরা যতটা মাথা ঘামাই বা সহজে চিকিৎসকের কাছে ছুটে যাই একধরণের ট্যাবু কাজ করে মনের অসুখের কথা বলতে বা ঐ বিষয়ে চিকিৎসা করতে ৷ আমি যখন মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাঠ নি ৷ এখন তার থেকে অবস্থা অনেকখানি বদলে গেছে ৷ অনেক মানুষ আসেন আমাদের কাছে ৷ আবার অনেকে এনিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতেও লজ্জিত বা সঙ্কুচিত হচ্ছেন না ৷ এই সফলতা এসেছে আমাদের শিক্ষার উন্নতির সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের মত কারনে ৷প্রতিবছরের মত এবারেও ১০ অক্টোবর “বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস “পালন করা হচ্ছে ৷ এবছরের মূলমন্ত্র বা প্রতিপাদ্য ,”অসম পৃথিবীতে মানসিক স্বাস্থ্য” বা “Mental health care for all: Lets make it a reality”.বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য আজও অবহেলিত ৷ প্রায় নব্বই ভাগ রোগীর চিকিৎসাই হয় না ৷ উন্নত বিশ্বে এটা কম হলেও অনেকেই চিকিৎসা সুযোগ বঞ্চিত ৷ আমাদের মত দেশে অনেকটা প্রায় বিনা পয়সায় সরাকারী ব্যবস্থাপনায় হলেও বহু ধনী দেশে তা বেশ ব্যয়বহুল ৷ এছাড়া সেখানে পারিবারিক বন্ধন কম থাকায় বাড়ীর পরিচর্যা বঞ্চিত থাকতে হয় ৷আবার আমাদের মত দেশে অশিক্ষা ও কুশিক্ষার জন্য অনেকেই মানসিক রোগীকে ডাক্তার বা মনোবিদের কাছে না নিয়ে গিয়ে ঝাড় ফুঁক এসব করে রোগীর ক্ষতিই করে ৷ রোগীদের হিউম্যান রাইটস তো আরো অবহেলিত ৷
সে বিষয়ে আইন প্রনয়ন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ৷ গতবছর ২০২০ এ এই দিনের থিম ছিল ,”সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য : অধিক বিনিয়োগ -অবাধ প্রবাহ”৷ প্রতিবছরই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সবাইকে সচেতন করার কোন কোন বিষয় উপস্থাপন করা হয় ৷ অনেক দেশে সপ্তাহ জুড়ে চলে নানা আলোচনা ও সচেতনতা শিবির ৷ মানসিক সমস্যায় প্রথম থেকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে ওষুধ খেলে তা সারে বা ঠিক থাকে ৷১৪থেকে২৫ বছর বয়সের মধ্যে অধিকাংশ মানসিক সমস্যা দেখা দেয় ৷অল্প বয়সে এ থেকে সহিংস আচরণ করে এমনকি নিজেকে শেষ করার চেষ্টা চালায় ৷চল্লিশ সেকেন্ডে একজন এভাবে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিযে যায় ৷গতবছর থেকে অতিমারীর কারণে সারা পৃথিবীতেই মানসিক স্বাস্থ্য গভীর সঙ্কটে পড়েছে ৷স্কুল না থাকায় সহ গৃহবন্দী শিশু কিশোরদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে মনের নানা জটিলতা তথা রোগ ৷ কিশোর , তরুণ থেকে মধ্যবয়সীদের মধ্যে বেড়েছে মাদক গ্রহণের প্রবণতা ৷ হঠাৎ বেকার হয়ে যাওয়া , রোজগার তলানিতে চলে যাওয়া , অসংখ্য মৃত্যুর খবর , দীর্ঘস্থায়ী লকডাউন , করোনা ভীতি সেই সঙ্গে ভ্রমণ ও বিনোদন বন্ধ থাকায় মানুষের মন ভালো নেই ৷বুঝতে হবে কৃষক থেকে শ্রমিক , হতদরিদ্র থেকে সেলিব্রিটি সব সামাজিক অবস্থানের অনেকেই মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন ৷ তবু , ১৯৯২ সাল থেকে দিবসটি পালনের পর আমূল না হলেও অনেক পরিবর্তন হয়েছে রোগী , তাদের আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে সবার চিন্তা ও চেতনায় ৷ তাই কেউ মানসিক রোগে ভুগলে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে ৷ নিয়মিত ওয়ার্ক আউট করতে হবে ৷ বিভিন্ন কাজে নিজেকে যুক্ত রাখতে হবে ৷সুষম খাবার খেতে হবে ৷মনের যত্ন নিলে মনও আপনার যত্ন নেবে ৷ পরিবার পরিজন কাছের বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান ৷ পর্যাপ্ত ঘুম ৷
ভালোবাসেন এমন শখ যদি স্বাস্থ্য সম্মত হয় তাতে সময় কাটানো প্রয়োজন ৷