বিশ্ব ক্যানসার রোগী কল্যাণ / গোলাপ দিবস / ক্রনিক মাইলয়েড লিউকোমিয়া দিবস

লিখেছেন : ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায়

22শে সেপ্টেম্বরের “গোলাপ দিবস” ভ্যালেন্টাইন্স সপ্তাহের গোলাপ দিবস নয় । 12 বছর বয়সী এক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর জীবন যুদ্ধের স্বীকৃতি ৷ কানাডার ম্যালিন্ডা রোজ নামের মেয়েটি অস্কিন টিউমার জনিত মারক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৬ মাস ধরে মনের জোরে যে লড়াই চালিয়েছিল তার অসীম সাহসের ফল ৷ যে নিজে আক্রান্ত হয়ে ইতিবাচক মন নিয়ে লড়াকু মানুষদের গল্প শোনাতো ৷ এদিনে ক্যান্সার বা কর্কট রোগে আক্রান্তদের পরিচিত , অপরিচিত সবাই গোলাপ ফুল , কার্ড ও নানা উপহার তুলে দেন ৷ যাতে প্রতিটা ফুল বুঝিয়ে দেয় ভালোবাসার ও ইতিবাচক লড়াকু মনোভাবের অমোঘ শক্তির গুরুত্ব ৷আমরা জাপানের হিরোসিমা , নাগাশাকির পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের কথা জানি ৷ যার ফলে ঐ এলাকার লক্ষাধিক মানুষ
ক্রনিক মাইলয়েড লিউকোমিয়াতে আক্রান্ত হন ৷ অন্য দেশেও এই রোগ দারুন ভাবে ছড়িয়েছে ৷
Chronic Mailoyed Lukomiya এমন এক রকম
রক্তের ক্যান্সার যাতে ক্রোমোজোমের ৯ থেকে ২২ এর পরিবর্তন হয় ৷ এজন্য নবম মাস সেপ্টেম্বরের
বাইশ তম দিনটিতে CML দিবস পালিত হয় ৷
“লিউক” মানে সাদা , “হিমো” অর্থ রক্ত ৷ বিশ্ব লিউকোমিয়া ফাউন্ডেশন ২০০৮ সাল থেকে দিবসটি পালন করে আসছে ৷ এই রোগে শ্বেত রক্ত কণিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে ৷ খুব কম লিউকোমিয়াতে আলিউকোমিয়া বা সাদা রক্ত কণিকার স্বল্পতাও হয় ৷ জিনের মিউটেশনের জন্য ব্লাস্ট সেল দেখা যায় ৷ ৯০% CML এর ক্ষেত্রে ৯ থেকে ২২ নম্বর ক্রোমোজোমের আংশিক স্থানান্তর বা ট্রান্সলোকেশন ঘটে এই রোগে প্রথম ধরা পড়ে ফ্লু বা জ্বর , অবসাদ ,ক্লান্তি ,ওজন কমে যাওয়া , এনিমিয়া , দাঁত দিয়ে রক্ত পাত , সহজে রক্তপাত , সামান্য কারনে বা অকারনে শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে দাগ দেখা , ইনফেকশন , হাড়ে ব্যথা ইত্যাদি ৷ তেজস্ক্রিয়তা , জিনগত সমস্যা , বেনজিনের সংস্পর্শে থাকা এসব কারন হতে পারে বলে একজন চিকিৎসক হিসাবে জানি ৷ যে কোন বয়সে এ রোগ হতে পারে ৷ মধ্য বয়সে বেশী হয় ৷ ভারতে লাখ খানেক এ রোগী আছে ৷ বছরে সাড়ে তিন হাজার করে সংখ্যা বাড়ছে ৷ Chronic , Accelerated ও Blust crisis তিনটি পর্যায় আছে ৷ তবে, এখন চিকিৎসায় প্রাথমিক অবস্থায় ৯০% সেরে যায় ৷ দ্বিতীয় বা তৃতীয় অবস্থায়ও ৪০% সফল হচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা ৷ কেমো থেরাপি , বোনম্যারো ট্রান্সপ্লাট এখন এই রোগ নিরাময়ে ও রোগীকে ভালো রাখায় দিশা দেখাচ্ছে ৷ আতঙ্কিত না হয়ে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে রোগী ও তাদের পরিবার যাতে লড়াই চালাতে পারে সেটাই এই দিনটি পালনের উদ্দেশ্য ৷ লড়াইয়ের শেষে যাতে তাঁদের জীবন গোলাপের পাপড়ির মত পেলব , মসৃণ ও জয়ের সুগন্ধে ভরে ওঠে এবং জনমানসে সচেতনতা সৃষ্টি হয় তাই এই দিবস পালন ৷