তমলুক /তাম্রলিপ্তের বর্গভীমা ( Bargabhima temple , Tamluk/ Tamralipta)

লিখেছেন : ডঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায়

পীঠ নির্ণায়ক তত্ব অনুসারে এটি ৫১ সতীপীঠের প্রথম পীঠ ৷ প্রতিটি সতীপীঠ আমাদের কাছে খুব পবিত্র ৷যদিও একে কেউ কেউ সতীপীঠের স্বীকৃতি দেয়নি ৷ বলেছে , বৌদ্ধদেবীর রূপান্তরিত রূপ ৷ আমরা জানি দেবী দাক্ষায়ণী সতী পতি নিন্দা সহ্য করতে না পেরে প্রাণ ত্যাগ করলে শিবের প্রলয় নৃত্যে পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কায় বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ছিন্ন ভিন্ন করেন ৷বর্তমান ভারত , পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার নানা স্থানে তা পড়েছিল ৷ একসময় তাম্রলিপ্ত ছিল ভারতবর্ষের সেরা বন্দর ও সূহ্মের রাজধানী ৷ তারওআগে থেকে বর্গভীমা পূজিতা ৷ বিভিন্ন পুরাণে তার উল্লেখ আছে ৷ ব্রহ্মার পুত্র প্রজাপতিকে হত্যার বা ব্রহ্ম হত্যার পাপে শিবের হাত থেকে তাঁর মুন্ড পড়ছিল না ৷ বিষ্ণুর পরামর্শে তমলুকে এসে কপালমোচনে এসে শিব পাপমুক্ত হন ৷ এখানকার বিষয়ে দুটি লোক কাহিণী আছে বলা হয় এখানেকূপে র জলে মৃত শোল মাছ প্রাণ পেত৷ রাজাকে সে কথায় বলায় দেবী কূপিত হয়ে কূপ মুখবন্ধ করে দিয়ে পাথরের প্রতিমায় পরিণত হন যা পূজিত হয় ৷ তাই শোল ভোগ হয় ৷ আবার পিতল ডোবালে সোনা হত !বলা হয় ধনপতি সওদাগর এই মন্দির সংস্কার করেছিলেন “৷ মহাভারতে ময়ূরবংশীয় রাজা তাম্রোধ্বজের নাম আছে ৷অধিকাংশের ধারনা রাজা তাম্রোধ্বজ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ৷ যাহোক এমন কাহিনী অনেক জায়গায় আছে ৷ এখানে সতীর বাঁ পায়ের গোড়ালী পড়েছিল ৷ ভগ্নপ্রায় এই মন্দির এখনকার রূপ দেন ময়ূর বংশীয় মাহিষ্য রাজ তাম্ররাজ কালু ভূঁইয়া ৷দ্বাদশ ,ত্রয়োদশ শতাব্দীর কথা ৷ মূল মন্দির , জগমোহন,যজ্ঞমন্দির ও নাটমন্দির রয়েছে ৷চতুর্ভূজা দেবীর ডান দিকের উপরের হাতে খাঁড়া , নিচে ত্রিশূল , বাঁদিকের উপরের হাতে তলোয়ার ,নিচের হাতে অসুরের মাথা ৷ মুখোশ পরানোয় সিঁদুর চর্চিত বলেভালো বোঝা যায় না ৷ ৷ ভৈরব শিব সর্বানন্দ ৷ রয়েছে ২৭ টি পোড়ামাটির দেবী মূর্তি ৷ সুলেমান করনানির সেনাপতি কালাপাহাড় হিন্দু মন্দির ধ্বংসের জন্য কুখ্যাত ৷ সেও এখানে মূর্তি ভাঙ্গতে এসে মায়ের চরণ তলে ঘুমিয়ে পড়েছিল ৷ এখান দিয়ে বেহুলা লখিন্দরকে নিয়ে ভেলা ভাসিয়ে গিয়েছিল ৷ মুকুন্দ রামের চন্ডীমঙ্গলে ” গোকুলে গোমতী নামা তমলুকে বর্গভীমা ” ৷ভারত চন্দ্রের অন্নদামঙ্গলে “ভীমরূপা দেবী তাহে কপালী ভৈরবা” ৷ মানিকরামের ধর্মমঙ্গলে ” তমলুকের বর্গভীমা রায়খার কালী “৷ – লেখা আছে ৷ ৬০ ফুট মন্দিরটি ৯ ফুট চওড়া ৷ পোড়ামাটির সুদৃশ্য অলংকরন আছে ৷বর্তমান মন্দরটি সাড়ে এগারোশো বছরের পুরানো ৷ভক্তরা নিজেরা পুজো দিতে পারেন ৷নীল ও যোগীনী তন্ত্র অনুসারে ৩৬১ দিন উগ্রতারা দেবীর পুজো হয় ৷ দুর্গা পূজার দিন গুলি দুর্গা মন্ত্রে ৷ রোজ পুজো হয় ৷ ভক্তরা নিজেরা পুজো দিতে পারেন ৷ দুর্গা , কালী , জগদ্ধাত্রী , অন্নপূর্ণা , ক্যাতায়ণী চতুর্দশী , রটন্তি ও ফলহারিনীতে বিশেষ পুজো হয় ৷বিয়ে ও পৈতের দিনগুলিতে অনেক বিবাহ ও উপনয়ন হয় ৷ এখানে ওল , কচু ,মান ও শোল মাছ ভোগ দেওয়ার অদ্ভুত রীতি দেখেছি ৷একসময় এই এলাকায় অন্য দেবী পুজো হত না ৷ দেবীর মন্ত্র-” কৃষ্ণবর্ণাং চতুর্ভূজাং মুন্ডমালা বিভূষিতাংদক্ষিণে খড়্গ শূল ধারা দূরাসদম ,বামে খর্পর মুন্ডঞ্চ লোলজিহ্বা ত্রিলোচনাব্যাঘ্রচর্ম পরিধ্যানাং ভীমাদেবী শবাসনা ৷”