গ্রামের স্কুলে স্বামীজির মূর্তি স্থাপন করে সমাজে বিবেক চেতনার বার্তা দিচ্ছে খালনার দিনমজুর যুবক বুদ্ধদেব

0
4

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

আর্থিক প্রতিকূলতা লেখাপড়ায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারে ৫ভাই এক বোন। প্রতিদিন মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দিতে ঘাম বেরিয়ে যেত বাবা-মায়ের। নবম শ্রেণিতে উঠেই ছেদ পড়ে পড়াশোনায়। মনেপ্রাণে স্বামী বিবেকানন্দর ভক্ত খালনা গ্রামের বুদ্ধদেব মণ্ডল নিজের পড়াশোনা করা স্কুলে প্রতিষ্ঠা করেছেন স্বামীজির মূর্তি। রবিবার গ্রামবাসী ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৮ তম জন্মবার্ষিকী পালন করেন স্বামীজির মূর্তিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে।

সাংসারিক টানাপড়েন থাকায় মাধ্যমিক দেওয়া হয়নি। তবুও ছোটবেলা থেকে বিবেকানন্দর কে নিয়ে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। বাবার হাত দিয়ে খালনা রায় রাধাগোবিন্দ ইনষ্টিটিউশনে বিবেকানন্দর মূর্তি স্থাপন করবার জেদ ছিল। কিন্তু ১২বছর আগে বাবা দুলাল মন্ডলের মৃত্যু দিন মজুরের কাজ করা ন-সেজ ছেলের স্বপ্নটা বাস্তবতা পায়নি। হাল না ছেড়ে টানাপড়েনের মাঝে বছর পাঁচেক আগে গ্রামের স্কুলে বিবেকানন্দর মূর্তি কিনে এনে প্রতিষ্ঠা করেন। খরচ হয়েছিল প্রায় ৪৮ হাজার টাকা। সমস্ত টাকাটা দিয়েছেন দিন মজুর খাটা বছর চৌত্রিশের যুবক বুদ্ধদেব মন্ডল।

খালনা গ্রামে মা অন্নপূর্ণা মন্ডলের সঙ্গে থাকেন। গ্রামে জন মজুরের কাজ করতে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ হয় না। হালফিল বিয়ে করেছেন। তবে স্বামীজির স্মৃতি কথা জানার ইচ্ছে বরাবরের। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনের আগে থেকেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুখেন্দু রীতের সঙ্গে আলোচনা করতে পৌঁছে যায়। বাড়িতে গাঁদা ফুলের মালা গেঁথে জন্মদিনে উৎস্বর্গ করেন। বুদ্ধদেববাবু জানান, “স্বামীজির স্মৃতি ছোট থেকেই জড়িয়ে রয়েছে। বাবার হাত দিয়ে স্বামীজির মূর্তি স্থাপনের ইচ্ছে ছিল। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর প্রায় সাত বছর পর ২০১৫ সাকে স্বামীজির মূর্তি প্রতিস্থাপন করি। গ্রামের স্কুলে নবম শ্রেণি অবধি পড়াশোনা করেছি ওই স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্থাপিত হয়েছে স্বামীজির মূর্তি। বিবেক চেতনার বিকাশ ঘটুক এটাই চাই।”

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুখেন্দু রীত, ভাইপো রাকেস মন্ডল এবং গ্রামবাসীরা যুবক বুদ্ধদেবের স্বামীজির প্রতি ভালোবাসা দেখে অবাক। ওঁদের কথায়, একচিলতে ঘরে বড় হওয়া বুদ্ধদেব এ সমাজে আরও জন্ম নিক। ওঁর প্রতিকূলতাই হয়ত ওঁর আরও জেদ বাড়িয়ে দিয়েছিল। যে কারণে গ্রামের স্কুলে স্বামীজির মূর্তি স্থাপন করেছেন। অস্থির সময়ে মানুষের মধ্যে বিবেকের চেতনার প্রয়োজন। সমাজে স্থিরতা ফিরুক। এমনটাই জানাচ্ছে এলাকাবাসী। মা অন্নপূর্ণা মন্ডলের কথায়, বুদ্ধদেব আমার পাঁচ ছেলের মধ্যে ন-সেজ। মাঠে জনমজুর খেটে সংসার চালায়। একটা দুটো টাকা জমিয়ে বিবেকানন্দের মূর্তি কিনে প্রতিষ্ঠা করেছে। এমন ছেলে খুব কমজনের হয়। মাঝেমধ্যে আমাকে বলে, মা স্কুলে যদি স্বামীজির বাণী পাঠ করানো হয় দেখবে চারিদিকে যা ঘটছে তা অনেকটাই কমবে।

বুদ্ধদেবের একটাই আশা, স্বামীজির ব্যবহৃত কোন জিনিস পেলে স্কুলে দিয়ে আসতাম। ছাত্রছাত্রীদের সঠিক পথে চলতে উৎসাহিত করবে।

LEAVE A REPLY