শীতে বৃষ্টির জের সবজি ও আলুর দাম লাগামছাড়া, ক্রেতারা দুষছেন সরকারকে

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

শীতের বৃষ্টির জেরে মধ্যবিত্তের মাথায় হাত। কোথাও জল জমেছে ক্ষেতে। আবার ব্যাগ হাতে বাজারে গিয়ে দামের জেরে জল বের হচ্ছে মধ্যবিত্তের চোখে। মহার্ঘ্য ছিল পেঁয়াজ। তাকেও ফিকে করে দিয়ে এতদিনের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে আলু। বাজারে গিয়ে জ্যোতি আলুর দাম শুনে চক্ষু চড়কগাছ।

কয়েক মাস ধরে মধ্যবিত্তের চোখে ঝাঁজ এনে দিয়েছে পেঁয়াজ। বাজারে কেজি প্রতি দাম ৭০ থেকে ৯০ টাকা। তবে সবাইকে চমকে দিয়েছে আলু। রবিবার খোলা বাজারে জ্যোতি আলু বিক্রি হয়েছে দ্বিগুণ দামে। সঙ্গে শীতকালীন সবজির দর ছিল চড়া। শিম ৫০, মুলো ৪০, পালং ৪০, কড়াইশুঁটি ৬০, ফুলকপি ২৫৷ বেগুন ৫০। অকাল বৃষ্টির প্রভাবে সবজির দাম বেড়েছে এক কথায় মেনে নিচ্ছেন খুচরো ব্যবসায়ীরা।

বিক্রেতাদের কথায়, খোলা বাজারে জ্যোতি আলুর দাম ৩১ থেকে ৩২ টাকা। নতুন আলু বাজারে আসেনি। ফলে বাধ্য হচ্ছেন পুরনো আলু বেশি দাম দিয়ে কিনতে। ক্রেতাদের মুখে আফসোস। নতুন আলু বাজারে আসতে এখনও সময় লাগবে। কারণটা আলু চাষ এ বছর পিছিয়ে গিয়েছে প্রায় ১৫ দিন। বৃষ্টির কারণে আলু ক্ষেতে জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া দামের আশায় বহু আড়তদার আলু চেপে রাখতে চাইছে। টাক্স ফোর্স নজর না দিলে আলুর দর বাড়বে। চন্দ্রমুখী বাদ দিন জ্যোতি আলু কে কবে এত দরে কিনেছে মনে করতে পারছে না।

উদয়নারায়ণপুর এলাকার আলু ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, বৃষ্টির জেরে আলু চাষ ক্ষতির মুখে। জমির জমা জল ছিচে ফেলে দিতে হচ্ছে। চড়া রোদ না উঠলে জমি শুকতে সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে আলু নষ্ট হবার সম্ভাবনা থেকে যাবে। একি সঙ্গে স্প্রে না করলে পোকার উপদ্রব রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। খরচ বাড়ছে। কিন্তু আলু উঠবার সময় দাম কি ঠিক থাকবে? এখন জ্যোতি আলুর দর ৩২ টাকা। এই দাম বাড়ার জন্য দায়ী আড়তদার। ওঁদের কেরামতির জেরে দাম বেড়েছে। জমি থেকে নতুন আলুর বস্তা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। সেই আলু এখন ১৫০০ টাকা বস্তা দরে আড়ত থেকে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষক দুষছেন আড়তদারদের। আবার সরকারকে কাঠগড়ায় তুলছেন আড়তদাররা। ওঁদের কথায়, যেভাবে আলু হিমঘর থেকে বের করে ভিন রাজ্যে বিক্রি করা হয়েছে তারজন্য বাজারে আলু সংকট। হিমঘরে থাকা আলু বের করে অবিলম্বে সংকট মুক্ত করতে হবে। না হলে আলুর দাম লাগামে আনা মুশকিল।