সালারের জমিদারী শাসনের অজানা ইতিহাস

সালারের জমিদারী শাসনের সূচনা হয় প্রায় আড়াইশো বছর আগে ব্রিটিশ আমলে। ইংরেজের রাজত্বকালে বাংলাদেশের নাটোরের জমিদার ছিলেন রানী ভবানী (১৭১৬-১৭৯৫ ) । ১১৫৩ বঙ্গাব্দে রাণী ভবাণীর স্বামী রামকান্ত ইহলোক ত্যাগ করার পর অধিকারবলে রাণী ভবাণী স্বামীর জমিদারী প্রাপ্ত হন। তখনকার দিনে জমিদার হিসাবে একজন মহিলা অত্যন্ত বিরল ছিলেন, কিন্তু রাণী ভবাণী রাজশাহীর বিশাল জমিদার কার্য অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নির্বাহ করেন।

তাঁর রাজত্বকালে জমিদারী বর্তমান রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, কুস্টিয়া, যশোর, রংপুর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। এজন্য তাকে অর্ধবঙ্গেশ্বরী বলা হত।

এই রানী ভবানীর দেওয়ান ছিলেন এনায়েত উল্লাহ। তিনি প্রথমে নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর দরবারে কর্মে নিযুক্ত ছিলেন। পরবর্তীকালে নবাবের সুপারিশে রানী ভবানীর দরবারে দেওয়ান হিসেবে নিযুক্ত হন।

রানী ভবানীর কোনো সন্তান ছিল না। তাই তিনি দত্তক নিয়েছিলেন। ব্রিটিশরা দত্তক নেওয়ার বিরুদ্ধে আইন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রানী ভবানীর সম্পত্তি নিলাম করে দেয়।

জমিদার পরিবারের একজনের বক্তব্য, ব্রিটিশদের সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এনায়েত উল্লাহকে নাকি কাটোয়ায় নিয়ে গিয়ে কামান দিয়ে দেহটা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

শহীদ এনায়েত উল্লাহর পিতা শায়েখ বাবুউল্লাহ প্রথম সালারে আগমণ করেন। এনায়েত উল্লাহর সাধকপুত্র রাজা ফকিরুল্লাহ(রহঃ)র মাজার আছে সালারের হাতিশালের সন্নিকটে। এনায়েত উল্লাহর নামেই নামকরণ হয়েছিল সালারের একটি পুকুর এনায়েত সাগর বা এনা সাগর।

সালারের শেষ জমিদার ১০৩ বছর বয়সী বাবু মিঞার কাছে শুনেছি, নাটোরের রানী ভবানীর জমিদারীর অংশ যখন নিলাম হয়ে যাচ্ছিল, তখন কেউ এসে রানীকে খবর দেয় যে তার দেওয়ান এনায়েত উল্লাহ নাকি নিজের নামে সম্পত্তি কিনে নিচ্ছে। রানী ক্রুদ্ধ হন। দেওয়ানকে ডেকে পাঠান, তারপর খবরটির সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তখন দেওয়ান এনায়েত উল্লাহ স্বীকার করেন যে নিলামে তিনি অংশগ্রহণ করে জমিদারী কিনেছেন এটা ঠিক, কিন্তু জমিদারির অংশ তিনি নিজের নামের ক্রয় করেননি, ক্রয় করেছেন রানী ভবানীর নামেই। আর নিলামের কাগজপত্রে রানীরই নাম দেখে রানী ভবানী প্রচন্ড খুশি হন এবং মুর্শিদাবাদের সালার তথা পার্শ্ববর্তী কিছু গ্রাম এবং বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহীর কিছু অংশের জমিদারীর ভার দেন এনায়েত উল্লাহকে। এভাবেই সালারের জমিদারী শাসনের সূচনা হয়।

(তথ্য সংগ্রহে- প্রিন্স খন্দেকার)

তথ্যসূত্র এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার–

(১) জমিদার বাবু মিঞা
(২) চৌধুরী মইনুল কাদির
(৩) রফিকুল কাদির চৌধুরী
(৪) ইন্টারনেট পরিষেবা