অসুস্থ প্রণব বাবু, আরোগ্য কামনায় তাজপুর গ্রামের চক্রবর্তী পরিবার

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া  

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জরুরি অস্ত্রোপচার হওয়া এবং কোভিড আক্রান্ত হওয়ার খবরে আরোগ্য কামনায় আমতার তাজপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এই মুহূর্তে দিল্লির একটি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর আরোগ্য কামনায় তাজপুর গ্রামের চক্রবর্তী পরিবার।

১৯৫৭ সালে তাজপুর এম এন রায় ইনস্টিটিউশনে মাসছয়েক শিক্ষকতা করেছিলেন প্রণব বাবু। সেই সময় চক্রবর্তী পরিবারের একটি ঘরে ভাড়া থাকতেন। প্রথম কর্মজীবনের দিনগুলিতে চক্রবর্তী পরিবারের সঙ্গে মিলেমিশে ছিলেন তিনি। বহু বছর পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে তাজপুর এম এন রায় ইনস্টিটিউশনের শতবর্ষ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তারপর ২০১৭ সালে যখন আসেন, তখন তিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। ভারতরত্ন প্রণববাবু স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ এলাকার মানুষজন। স্কুল এখন বন্ধ আসেনি ছাত্র-ছাত্রীরা। সুনশান স্কুলের চৌহদ্দি। গ্রিলের দরজায় চাবি দেওয়া। কিন্তু প্রণব বাবুর অসুস্থ হওয়া ও করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে মন খারাপ এলাকার মানুষজনের।

পুরনো দিনের স্মৃতি আজও উজ্জ্বল গোলক চক্রবর্তী, দেবী চক্রবর্তীদের কাছে। বাড়ির মন্দিরে আরোগ্য কামনায় একজোট হয়েছে পরিবারের সকলে। দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন প্রণব মুখোপাধ্যায় জানান দেবী চক্রবর্তী। তিনি আরও জানান, এমন মানুষ খুব কম রয়েছেন। মানুষ হিসাবে অনেক বড়ো মাপের তিনি। মানুষের পাশে থাকেন সবসময়। তাঁর শরীর খারাপের খবর টিভিতে দেখে অত্যন্ত মন খারাপ পরিবারের সকলের। মনের জোরে সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ঠিক সুস্থ হয়ে উঠবেন। ওঁনার সুস্থতা কামনা করি। বাড়ির আর এক সদস্য গোলক অধিকারী জানান, “আমি তখন খুব ছোট কোলে করে আমাকে রাখতেন। তিনি অসুস্থ সকাল থেকে আমরা কুলদেবতার কাছে প্রার্থনা করছি। উনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে মনোনিবেশ না করে আমরা ওঁনার সুস্থতার কামনায়।    

চক্রবর্তী বাড়ীর ঠাকুর ঘরটি প্রণব বাবুর কাছে খুব প্রিয় ছিল। ৭৮ সালের বন্যার পর ভেঙে যায় ঠাকুঘর। পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পুজোর সমস্ত আয়োজন থমকে গিয়েছে। সেখানেই রাখা আছে প্রণব বাবুর দেওয়া চিঠি। বাড়ির গৃহকর্তী সেটি হাতে নিয়ে মুছে দিচ্ছেন। মুধু দিয়ে দুধ খেতে পছন্দ করতেন। চিংড়ি দিয়ে পুঁইশাক বড্ড প্রিয় ছিল ওঁনার। সেবার স্কুল এসে বলেছিল চিংড়ি দিয়ে পুঁইশাক রান্না অনেকদিন খাইনি। স্মৃতি আওড়ে চলেছেন গৃহকর্তী। গোটা দেশের মানুষের সঙ্গে আরোগ্য কামনায় মগ্ন তাজপুর গ্রামের চক্রবর্তী পরিবার।