আইস ক্রিমের কাঠিতে দেশ গড়ার কারিগরদের ছবি এঁকে তাক লাগিয়ে দিলেন দাসপুরের বাসিন্দা

সৌমিত পাত্র , ঘাটাল :

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দেশ জুড়ে চলছে আনলক-২। মানুষ গৃহবন্দি অবস্থায় আছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ। পুলিশ প্রশাসন রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষদের সচেতন করছে। ঠিক এইরকম অবস্থায় বাড়িতে বসে বসে আর দিন কাটছিল না। কবে আবার ঠিক হবে সব আমাদের দেশ আবার আগের মত কবে থেকে হাঁসবে, এই সব চিন্তা করতে করতেই তার ছোট্টো বেলার পুরানো কিছু কথা মনে আসে ।

কীভাবে সাদা কাগজে একটা বক আঁকা হয়ে যায়, একটা বাড়ি এবং নদীও হয়। দেখতে দেখতে সে উৎসাহী হয়ে উঠল। কলম, পেন্সিল যা পেত লুকিয়ে লুকিয়ে তাই দিয়ে ছবি আঁকত। গল্পের বইয়ে ছবি দেখে আঁকার চেষ্টা করতো। এই ভাবে ছবি নিয়ে পথচলা শুরু। আবারো পুরোনো দিনের কথা ভেবে লকডাউনে হাতে পেন্সিল নিয়ে বসা।

সত্যি সত্যি একদিন সুন্দর সব ছবি আঁকেন তিনি। পরিবার,বন্ধুরা ছবি দেখে প্রশংসা করেন। ছবি আঁকার গল্পটা যার তার নাম শিল্পী – বিমান আদক । আইসক্রিমের স্টিকে ছবি এঁকে সকলের দৃষ্টি কেড়েছেন।

আইসক্রিম খাঁচি এর ওপর তুলির টানে ফুটিয়ে তুলেছেন। দেশ গড়ার কারিগরদের ছবি কৃষক, ব্যবসায়ী,কুমোর,রিস্কা ওয়ালা,রাজমিস্ত্রি,ছুতোর,ভারানী, গোয়ালা, ডাক্তার, পুলিশ বা আর্মি । দেশে তার সবার থেকে একটু আলাদা মাধ্যমে আঁকা ছবি প্রশংসিত। বিমান বাবুর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নাড়াজোল এলাকায়।

ছবি আঁকার অসংখ্য মাধ্যম রয়েছে। আইসক্রিম এর স্টিক কেন? জানতে চাইলে বিমান বাবু বলেন,
একদিন বসে বসে আইসক্রিম খাচ্ছিলাম। চিন্তা করছিলাম যে অনেকেই ভালো ভালো ছবি আঁকে আমি যা আঁকি তা কিছুই না। শুধু জল রঙ, স্কেচ এগুলো থেকে আলাদা কোন মাধ্যমে আঁকতে পারলে সেটা দারুণ হত। ততক্ষণে আইসক্রিমটি প্রায় শেষ। খেয়াল করলাম আইসক্রিম এর কাঠিতে খোদাই করা লেখা আর ছবি।

তখনি মাথায় আসলো এই আইসক্রিম এর কাঠিতে তো ছবি আঁকতে পারি। তখন আরো দুটা আইসক্রিম কিনে কাঠিগুলো রেখে ধুয়ে শুকিয়ে একসঙ্গে করে ছবি এঁকে ফেললাম। সেই ছবি মানুষের কাছে তুলে ধরতেই প্রচুর সাড়া পেলাম। এরপর ঠিক করলাম আইসক্রিম স্টিক আর্টই হবে আমার ছবি আঁকার ক্যানভাস।