দামোদরে জল বাড়লে বস্তা নিয়ে ছোটাছুটি হবে কেন ? প্রশ্ন তুললেন বিধায়ক অসিত মিত্র

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

দামোদরে জল বাড়লে তারপর দেখা যায় সেচ দপ্তরের লোকজনকে। শুরু হয়ে যায়  ছোটাছুটি। কিন্তু আগে থেকে কোনপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না কেন? নিম্ন দামোদর এলাকার উদয়নারায়ণপুর, আমতার বন্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেসের বিধায়ক অসিত মিত্র। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দামোদর নদে জল বাড়তে থাকায় ইতিমধ্যে উদয়নারায়ণপুর, আমতা-২ ব্লকে ছুটে আসছেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। টাওয়ার বসিয়ে নদী বাঁধের উচ্চতা মেপে দেখার কাজ চলছে। আমতা-২ ব্লকের সিয়াগড়ি ক্যানেলের ৫কিমি এলাকাজুড়ে চলছে নিয়ম করে পরিদর্শন। ইতিমধ্যে জল বেড়েছে দামোদর সংলগ্ন ক্যানেলেও। উদয়নারায়ণপুর এলাকায় দামোদরের জল বেড়েছে। বস্তায় মাটি ভরে রাখা হচ্ছে। যাতে করে জরুরী অবস্থায় মাটি ফেলা হয় নদী বাঁধে। এই বিষয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক।

অসিত মিত্র’র অভিযোগ , “জল বাড়লে শেষ কালে বস্তা নিয়ে ছুটবেন কেন? শেষ মুহূর্তে মাইকিং করে সতর্ক বার্তা দেওয়া হবে কেন? আগে থেকে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আমতা বিধানসভার ১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৫টি নদী ঘেরা। দামোদর, মুন্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ, রামপুর খাল এবং শর্টকাট ক্যানেল। আমি মনে করি আমতা বিধানসভা কেন্দ্রে বন্যা আটকাতে পারলে খুশি হবো আমি। সরকার কেন আগে থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করে না! তাহলে জল বাড়লে ছোটাছুটি করতে হয় না। ৫টি নদীর এখানে একবার, ওখানে একবার বাঁধ বাঁধতে মাটির বস্তা নিয়ে ছুটতে হয় না।

তিনি আরও বলেন, “অনেক বিধায়ক চায় বন্যা হোক। তাহলে টাকা আসবে। রিলিফ আসবে। আমি কিন্তু সেই সমস্ত এমএলেদের মধ্যে পরিনা। ২০০৭ সালে তখন সিপিএমের রাজত্ব। বন্যার সময় সিপিএম বিধায়ক এলাকা ছেড়ে পালালো। আমি তখন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এলাকার মানুষজন কে নিয়ে সারা রাত জেগে বাঁধ লক্ষ্য রেখেছিলাম। কারণ ওই বাঁধ ভেঙে গেলে বাগনান, চিতনান ভেসে যেত।”

যদিও বিষয়টি কে আমুল দিতে চায়নি শাসক দলের নেতৃত্ব। স্থানীয় নেতৃত্বের কথায়, “এই মুহুর্তে করোনা ভাইরাস নিয়ে লড়ছে বিশ্ব। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আপ্রাণ চেষ্টা করছে রাজ্যে মারণ ব্যাধি রুখতে। তারমধ্যে বন্যা এসে গেলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে উনি হয়তো ভুলে গেছেন। তাই এমন একটি সময় রাজ্যের সরকারের কাজকর্ম কে হেয় প্রতিপন্ন করছেন। উনি হয়তো ভুল গেছেন কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে তদারকি। জেলাশাসক মুক্তা আর্য বিধায়ক দের নিয়ে বৈঠক করে গেছেন। উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক, আমতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নদী বাঁধ পর্যবেক্ষণ করেছেন। নদীর পাড়ে বসবাস করা মানুষ জনকে অন্যত্র সরানোর বিষয় জেলাশাসক কে জানানো হয়েছে।”