সচেতনতা বাড়াতে গাছ বসিয়ে ‘জয়ের গল্প’ শোনাচ্ছেন করোনা জয়ী উপপ্রধান

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাড়ি ফিরে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। জয়পুর এলাকার যুবকদের সঙ্গে মিলে খালনা এলাকায় রাস্তার ধারে মেহগনি, খিরিষ, ইউক্যালিপটাস গাছ বসাচ্ছেন খালনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কৃপাল পল্লে।

মাসখানেক আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ছিলেন উলুবেড়িয়ার সঞ্জীবন হাসপাতালে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কয়েক সপ্তাহ বাড়িতে থাকার পর এবার সবুজায়নের লক্ষ্যে গাছ বসাচ্ছেন খালনা গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধান। আমফান ঘূর্ণিঝড় এলাকায় প্রচুর গাছ ভেঙে দিয়েছে। সেই সমস্ত জায়গায় নতুন করে গাছ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন কৃপাল। পাশাপাশি এই রোগ সম্পর্কে জন সচেতনতা করতে গ্রামের মানুষদের বোঝাচ্ছেন করোনা ‘জয়ী’ যুবক।

উপপ্রধান জানান, “হাসপাতালে ভর্তি হবার পর প্রচন্ড ভয়ে ছিলাম। চিকিৎসকরা বলেছিলেন হাসিখুশি থাকুন। করোনা কে ভয় করলে হবে না। মানসিক জোর বাড়াতে হবে। চিকিৎসকদের সুপরামর্শ মেনে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছি। চিকিৎসকদের কথা মতো বাড়িতে ছিলাম কয়েক সপ্তাহ। তারপর সামাজিক কাজকর্মে যোগ দিয়েছি। গ্রামবাসীদেরও সুস্থ থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। মাস্ক ব্যবহার সহ একাধিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলছি। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গাছ বসাচ্ছি।”

জয়পুর গ্রামের সৌরভ মন্ডল সহ একাধিক যুবক মিলে ‘সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দাও মানুষের পাশে দাঁড়াও’ এই মর্মে আমতা বিধানসভা এলাকায় ৫০০০ হাজার গাছ বসানোর লক্ষ্য মাত্রা নিয়েছে। ওই কাজে খালনা গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধান সহ বিভিন্ন ব্যক্তি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিদিন গাছ বসানোর কাজ করছেন। দামোদর নদের পাড়, রাস্তার ধার, হাসপাতালের সীমানায়, স্কুল-কলেজে সর্বত্র গাছ বসিয়ে পরিবেশ কে সবুজ করবার সংকল্প নিয়েছে। এভাবেই রক্ষা পাবে বনাঞ্চল। সুস্থ হবে প্রকৃতি। আর গাছ বসানোর মধ্য দিয়ে ‘জয়ের গল্প’ পরিবেশ কে শোনাচ্ছে করোনা জয়ী যুবক।