রিপোর্টে পজিটিভ এসেছে আমতা নাপিতপাড়ার , দূর্ভোগ বয়ে এনেছে মেলাই পাড়ার বাসিন্দাদের

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

আমতা নাপিতপাড়ার ২৯ জনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে রুজিরোজগার হারিয়েছেন আমতা মেলাই মন্দির এলাকার মানুষজন। নাপিতপাড়ার সঙ্গে মেলাইপাড়া গ্রাম কে মিলিয়ে ফেলায়, মেলাই পাড়ার মানুষদের কপালে দূর্ভোগ বয়ে এনেছে এমনটাই এলাকাবাসীদের অভিযোগ। 

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে খবর, লকডাউন শেষে আনলক ওয়ানের পর আনলক টু শুরু হয়েছে। খুলেছে দোকান-বাজার, অফিস, কল-কারখানা৷ এমন একটি সময় কাজে যোগ দিয়েছেন এলাকার মানুষ। তারমধ্যেই নাপিতপাড়া এলাকার এক ব্যক্তির শরীরে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়৷ জুন মাসের ২৮ তারিখ বিডিও থেকে স্বাস্থ্য কর্মীদের একটি টিম এনে এলাকার প্রাইমারি স্কুলে প্রায় ২০০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই রিপোর্টে নাপিতপাড়া এলাকার ২৯জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। তারপর থেকে এলাকাটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের অবস্থা মেলাই পাড়ার মানুষদের। নাপিতপাড়ার সঙ্গে মেলাই পাড়াকে মিলিয়ে ফেলছে সাধারণ মানুষ। দোকান, কারখানায় কাজে যোগ দিতে নিষেধ করছে। কাজ হারিয়েছেন অনেকে। ঘটনায় হতবাক এলাকার মানুষজন।

মেলাই পাড়ার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে না অন্যান্য পাড়ার মানুষজন। মেলাই চন্ডী মন্দিরেও পুজো দিতে আসছে না কেউ। সাধারণ মানুষের প্রত্যাখ্যান কে জবাব দিতে সাংবাদিক দেখে জনা ছয়েক ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা জানান, “কিছু মানুষ কৌশলগত ভুল বার্তা দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যে কারণে মেলাই পাড়ার বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা বদলে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। আমতা নাপিতপাড়া এলাকাটি সিরাজবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিন। আমতা মেলাই পাড়া সম্পূর্ণ আলাদা। তারপরও আমাদের কাজে যোগ দিতে দিচ্ছে না। দোকানে গেলে মাল দিচ্ছে না। সমস্যায় পড়েছি আমরা।”

অন্যদিকে নাপিতপাড়া এলাকায় প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে শনিবার বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু বাকি ২৯ জনকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। ওই সমস্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে জানা গেছে, প্রশাসন এলাকা ঘিরে দিয়েছে। কী খাব? কোথা থেকে সবজি কিনব কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার, সবজি কোনকিছু সাহায্য করা হচ্ছে না। এইভাবে ঘরে কীভাবে থাকবো। শিশুদের দুধ সহ বিভিন্ন দ্রব্য কোথা থেকে মিলবে প্রশাসন জানাচ্ছে না। এলাকায় সিভিক ভলেন্টিয়াররা ডিউটি তে রয়েছেন। 

আমতা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক লোকনাথ সরকার জানান, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। এখনও অবধি দু’জন কে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। এলাকায় স্যানিটাইজ স্প্রে করা হচ্ছে। আমতায় কোন প্রকার গোষ্ঠী সংক্রমণের সম্ভাবনা নেই।