পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতেই স্কুল সুরক্ষিত করতে স্যানিটাইজার স্প্রে করছে প্রশাসন

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

লকডাউনের প্রভাবে নিজভূমে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকার জন্য বানানো হয়েছিল স্কুল কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। স্বাস্থ্য বিধি মেনে কোয়ারেন্টাইন থাকার পর নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেছেন। এবার সেই সমস্ত স্কুল গুলি স্যানিটাইজার স্প্রে করবার কাজ শুরু করলো প্রশাসন। লক্ষ্য পঠনপাঠনের পরিবেশ তৈরি করা।

গ্রামীণ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ হাওড়ার ব্লক ভিত্তিক হিসাব কষলে ৮হাজারের বেশি শ্রমিক নিজভূমে ফিরে এসেছেন। সেই মতন স্কুলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানানো হয়েছিল। পানীয়জল থেকে বাথরুম, আলোর ব্যবস্থা সমস্তটাই প্রশাসন করেছে। জুলাই মাস স্কুলের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তারপর স্কুল শুরু হলে সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। সেক্ষেত্রে ব্লক প্রশাসন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার গুলিতে কতটা বিধিমালাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে তা প্রশ্নাতীত থেকে যাবে। সেই সমস্তটা মেনে জুলাই মাসের শুরু থেকে স্কুল কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে যে গুলোতে পরিযায়ী শ্রমিকেরা কোয়ারেন্টাইন নেই তাতে স্যানিটাইজার স্প্রে করা শুরু করা হয়েছে।

আমতা-২ ব্লকে ১৬১ টি স্কুল কে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পরিণত করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে ১০ টি স্কুল ছাড়া বাকি স্কুলে ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকরা নেই। এই ১৬১ টি স্কুলে প্রায় ৮হাজার তিনশো জন শ্রমিক কোয়ারেন্টাইন করেছেন। ৫০০ জন বাদ দিলে বাকি জন ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। জুলাই মাসের শুরুতেই ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক থেকে প্রতিটি গ্রামপঞ্চায়েত দপ্তরে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামপঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা ভিসিডি টিমের  সহযোগিতায় স্কুল কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে স্যানিটাইজার স্প্রে করাচ্ছে। শুক্রবার আমতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পালের সহযোগিতায় কাশমলি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিন 4টি সাংসদ এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়কে স্যানিটাইজ স্প্রে করা হল। এই স্কুল গুলিতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হয়েছিল। কাশমলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকেরা ছিলেন।

ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে, আমতা ২ব্লকে ৬জন মানুষ এই মুহুর্তে করোনা পজিটিভ। উলুবেড়িয়ার ইএসআই হাসপাতাল ও সঞ্জীবন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শরীরে সংক্রমণ না থাকায় বাড়িতেও হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। অন্যদিকে আমতা এলাকায় একটি হোটেলের কর্মচারীর শরীরে পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর হোটেল টি বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই ব্যক্তির পরিবারের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এর পাশাপাশি সেলুনে কাজ করা এক ব্যক্তির শারীরিক অসুস্থতার কারণে সোয়াব টেস্ট করানো হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে পরিবারের তিনজনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর আমতা এলাকায় নমুনা নিতে আসে স্বাস্থ্য কর্মীদের একটি টিম। গ্রামীণ পুলিশের পক্ষ থেকে আমতা এলাকার সব সেলুন সপ্তাহখানেক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।