ঘোর সঙ্কটে মাদুর শিল্প


বিশেষ প্রতিবেদন
কলকাতা: লকডাউন এর জেরে মহা সংকটে পড়েছে মাদুর শিল্প। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং বিধানসভা কেন্দ্র মাদুর শিল্পের জন্য বিখ্যাত। এখানকার তৈরি মাদুর শুধু রাজ্য কেন সারা দেশে যায়। সবং ই মাদুর শিল্প কে ধরে রেখেছে।সবং মানে মাদুর, মাদুর শিল্পের আঁতুড়ঘর বলা যায় সবংকে। কথাগুলো বলছিলেন এক সময়ের সবং এর পোর খাওয়া রাজনীতিবিদ এক সময়ের বিধায়ক এবং বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ মানস রঞ্জন ভূঁইয়া। তিনি জানান মাদুর শিল্পের ওপর সবং এর অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভর করে। সবংয়ে কম বেশি আড়াই লক্ষ লোকের বাস। তারমধ্যে ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ
মাদুর শিল্পের সঙ্গে জড়িত। ৭০ শতাংশ মহিলারা এই কাজে যুক্ত। প্রায় প্রতি ঘরে মাদুর বোনার কাজ চলে। মানস বাবু জানান দুই হাজার হেক্টর জমিতে মাদুর কাঠির চাষ হয়। মাসে কয়েক কোটি টাকার মাদুর বিক্রি হয়। এখান থেকে শুধু এ রাজ্য নয় অন্যান্য রাজ্যেও মাদুর যায়। এখানে কোন শিল্প নেই। শিল্প বলতে মাদুর শিল্প। প্রায় প্রতি ঘরে ঘরে মাদুরের কাজ হয়। তিনি বলেন করোনা ভাইরাস এর জেরে তিন মাসের ওপর সবাই গৃহবন্দী। মাদুর বিক্রি করতে বাইরে কোথাও যেতে পারছে না কিছুদিন আগে দোকান খুললেও দোকানে কেনার মতো লোক নেই। হঠাৎ করে লকডাউন ডেকে দেওয়ায় প্রত্যেকের ঘরে ঘরেই মাদুর জমে পড়ে রয়েছে। ।প্রথমে লকডাউন এবং পরবর্তী সময়ে আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কায় মাদুর শিল্পের অবস্থা খুবই সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। মাদুর শিল্পের কারিগরদের কোন কাজ নেই। অনেকে মালিকের অধীনে কাজ করেন । কাজ না থাকায় এখন তারা বেকার হয়ে পড়েছে আগামী দিনে এই শিল্পীদের কি অবস্থা হবে সেটাতেই সবংয়ের বিধায়ক গীতা রানী ভূঁইয়া এবং আমি খুবই উদ্বিগ্ন। প্রশাসনের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি যাতে এই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলি সাহায্য পায়। রাজ্য সরকার থেকে বিনামূল্যে রেশনে চাল ডালের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। কিন্তু এভাবে তো চলতে পারে না। কবে স্বাভাবিক হবে তারও ঠিক নেই। সাধারণ মানুষের হাতে টাকা পয়সা নেই। প্রয়োজন গরিব মানুষের হাতে টাকাটা কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের সেরকম উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
।।।।।