ক্রিস্টমাস

স্বাতী সরকার :- 

     কাল থেকে ঘ্যান ঘ্যান করছে পল্টু তার মায়ের কাছে, রেগে গিয়ে লাগিয়ে দিয়েছে পল্টুর মা দু ঘা । ইস্কুলে ছুটি পড়বে ,তা শীত কালে ছুটি তো দেয়ই । আগের পাড়ার ইস্কুলেও তো দিতো । এবছর ওই বড়ো ইস্কুলে যাবার পরই যত্ত সব বায়না শুরু হয়েছে কি নাকি পঁচিশ তারিখে কে এক বুড়ো আসে সান্তা বুড়ো নামে , আর সে নাকি সব উপহার দিয়ে যায় ।পল্টুর মা জিজ্ঞেস করেও এসেছে কাজের বাড়িতে, এটা আবার কেমন পুজো, তখন কাজের বাড়ির বৌদি বলেছে আসলে কেউ আসেনা , ওই সান্তা দাদুর নামে বাবা মা রাই উপহার কিনে বাচ্চা দের দেয় । তো এ ছেলে সেসব বুঝলে তো ! তারপর আবার তিনশো টাকা চেয়েছে ইস্কুলে, কি নাকি পিগ্নিক নিয়ে যাবে, বাপ টা তো সেই কবেই দুর শহরে গেছে দুটো রোজগারের জন্যি । শনিবার রাত্তির করে আসে আবার সোমবার সক্কাল বেলায় চলে যায় । নিজেদের তো আর জমি জায়গা নেই , যে ব্যবসা ছিলো, তাতে তো গত ক বছর ধরেই মন্দা চলছে , আর এবছর তো একদমই লস হয়ে গেল ।

     রাতে পল্টু বাপটা ফিরেছে , তখনই আর কিছু বলেনি , আজকে কাজের বাড়ি থেকে ফেরার পথে খানিক ক্যাঁকড়া কিনে এনেছে পল্টুর মা , আর কটা বক ফুল নিয়ে এসেছে ডাল আর কটা বড়া ভেজে দেবে পল্টুর বাপকে, সারা সপ্তাভোর কি খেতে পায় । বাড়ি আসতে আসতেই দেখে পল্টুটা রাস্তায় খেলছে , ওকে ডেকেনে ঘরে ঢুকলো পল্টুর মা , বৌদি কি একটা খাবার দেচে প্যস্টি, – কেকের মতই কিন্তু একগাদা কিরিম দেয়া লতলতে। সেইটাই বাপ আর মেয়েকে খেতে দিয়ে ঘরে গেল রান্নার জোগাড় করতে । পল্টুটা আবারো ঘ্যান ঘ্যান শুরু করেছে । উদিকে পল্টুর বাপটা তখন থেকে ডেকে ডেকে বলেই চলেছে , ঘর থেকে বার করে ঝুড়ি গুলো রোদে দিতে , “ হাত জোড়া, পারবো না” বলতে পল্টুর বাপ টা নিজেই ঘর থেকে সব কটা ঝুড়ি বার করে রোদে দিতে শুরু করে । ঝট করে মাথাটা গরম হয়ে যায় পল্টুর মার । রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আগে পল্টুর পিঠে আবার দু ঘা লাগিয়ে দেয় , আর পল্টুর বাপকে চেঁচিয়ে বলে “ এই বাজি গুলোকে রোদ লাগিয়ে ভালো রেখে করবেটা কি তুমি ? ওই কটা তুবড়ি আর তারাবাতি ছাড়া আর কিছু বিক্কিরি হয়েছে এবার ? কয়েক বছর ধরেই লস যাচ্ছে , বললুম অন্য বিজনেস দ্যাকো, তা না কি বাপ পিতেমোর বিজনেস, যে বিজনেস ভাত দেয় না সে করে হবে টা কি শুনি ? ? ?গেরামের কত লোকে তো লুকিয়ে বেচে দিলে, তুমি বললে সেটা নাকি পাপ , গরমেন্ট নাকি বন্দ করে দেচে! ! তো তাকে গিয়ে বল না পেটের ভাত টা ও দিতে, যাতে তোমায় আর দুর দেশে যেতে না হয় , পল্টুর পিগ্নিকের বায়না মিটাতে পারি , এক কাজ কর , ওই যে সান্তা বুড়ো না কে আসবে সব নাকি উপহার দেবে, তার নাম করে তোমার ওই বাজি গুলো মুড়ে দিতে বল বড় লোকেদের ,আমাদের পেটের ভাত ও জোগাড় হয়ে যাবে , আর উপহারের জিনিষ পোড়াতে গরমেন্ট ও বারন করবেনা” ।

পল্টুর বাপটা কিচ্ছুই বলেনা শুধু বলে “ ভাত রাঁধতে যারে পল্টুর মা , ওই মোমবাতি গুলো হয়ত বিক্কিরি হয়ে যাবে, বাকি থাকনা , আমার বাপ পিতেমো র কাজ , বিক্কিরি হল না তো হলনা , লুকিয়ে আমি কিছু করবো না , আমাদের ছেলেটা ও যে তবে এসব শিখবে । তার চেয়ে কষ্ট করতে আর রোজগার করতে শেখাই। আবার সেই কোন ভোরবেলা বেরোতে হবে ! ! তাড়াতাড়ি কর রে পল্টুর মা” ॥