বাংলা ক্লাসিক্যাল গানের অন্য নাম ” সঞ্জয় মন্ডল “

        শর্ট ফ্লিম দিয়ে অভিনয় এবং গান গাওয়া শুরু । তারপর দ্বিতীয় ছবিতে অভিনয় এবং একটি ইউটিউব চ্যানেলে একটি গান রেকর্ডিং, সেই গানের ভিডিও শ্যুটিং করি । জনপ্রিয় না হওয়ায় আবার ফিরে আসতে হয় সেই জায়গায় । এই সব সমস্যার উত্তর খুঁজতে শিল্পী সঞ্জয় মন্ডলের মুখোমুখি আমাদের সংবাদ টুডের প্রতিনিধি উজ্জ্বল সরকার

প্র: শর্ট ফ্লিমের মধ্যে দিয়ে আপনার প্রথম পথ চলা শুরু এই পথ কতটা মসৃণ ছিল ।

উ: দেখুন জার্নিটা অবশ্যই ভালো ছিল । তবে সমস্যা হয়েছে আমি যে শর্ট ফিল্ম গুলোতে কাজ করেছি, তার অনেক ফিল্ম আমি নিজেই দেখিনি । তাছাড়া অবশ্য সব মিলিয়ে জার্নিটা ভালই ছিল । দেখুন যেখানে আমি অ্যাক্টিং এর সম্পর্কে কিছুই জানিনা সেখানে যতটুকুই হোক আমাকে শেখানো হয়েছে এবং ছোট ছোট চরিত্র আমায় দেওয়া হয়েছে । আমার তরফ থেকে আমি চেষ্টা করেছিলাম মাত্র । এদিক থেকে ভাবতে গেলে আমি অনেক সাফল্য পেয়েছি। বাকিটা প্রিয় দর্শকদের উপর । তবে সমস্যাটা হচ্ছে আমার করা সিনেমার বেশিরভাগ আমি দেখিনি । তবে হ্যাঁ আমি যে দুটো সিনেমাতে গান করেছি তা অনেক সাফল্য পাবে । এই বিশ্বাস আমার নিজের প্রতি আছে । যখন আমি শুটিং স্পটে যেতাম তখন প্রত্যেকটা অভিনয়কে ফলো করতাম । যেটা আমার একটু কঠিন মনে হতো সেটা সিনিয়র দাদাদের কাছে শিখে নিতাম এবং তা বারবার প্র্যাকটিস করার চেষ্টা করতাম । তাছাড়াও গুরু নামের একজন স্যার আমায় সিনেমার ক্ষেত্রে অনেক বড় সাহায্য করেছেন । সব মিলিয়ে ভাবতে গেলে শর্ট ফিল্মের জার্নিটা বেশ ভালই ছিল।

প্র: ২০১৫ সালে “তুষাঙ্গী” সিনেমা আপনার সাংবাদিকের চরিত্র কতটা ফুটিয়ে তুলেছিল ।

উ: অবশ্যই খুব খুব ভালো একটা চরিত্র ছিল  যা ছবির নায়কের বিপরীতে ছিল । এই চরিত্রটা করতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা নিজে লক্ষ্য করেছি । আপনার এই প্রশ্নের জন্য মনে পড়ছে সেই মুহূর্তের কথা , যেই মুহূর্তে আমরা সকলেই স্টুডিওর ভেতরে এবং বাইরে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি পড়ছিল। সেখানে একজন দাদা আমায় রোল সম্পর্কে বুঝিয়ে দিলেন। যদিও রোলটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সময়টা বড্ড কম ছিল । এর আগে এধরনের কোনো অভিনয় আমি করিনি । তাই একটু খারাপ লাগছিল। কিন্তু যখন ডায়লগগুলো পেলাম , তখন খুব ভালো লেগেছিল কথাগুলো পড়ে। সব থেকে বড় কথা অর্জুন চক্রবর্তীর বিপরীতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি । আর হ্যাঁ অবশ্যই অনেক অনেক মজার সাথে আমায় কাজটি করিয়েছেন ।

প্র: ২০১৮ তে “সা রে গা মা পা ” তে অডিশনে সুযোগ পেয়ে কেন হাত ছাড়া করলেন ?

উ: হাত ছাড়ার তো কোন প্রশ্ন নয়। আসলে কাউকে টিভিতে গাইতে দেখে যদি আমি টিভিতে গাইতে যাই তবে সেটা হবে প্রধান বোকামি। অডিশনে টক্কর দিয়ে টিভিতে গাওয়া তাদের পক্ষেই সম্ভব যাদের রেওয়াজ বা প্রিপারেশন সবই মজবুত। কিন্তু সেদিক দিয়ে ভাবতে গেলে আমার রেওয়াজ ছিল না । তাই আমি সেসব ভাবিনি। তবে হ্যাঁ জি বাংলা ছাড়াও অনেক টিভি চ্যানেল আছে যেগুলোতে আমি অংশ নিয়েছি।

প্র: ২০১৫ থেকে ২০১৮ এত লম্বা সময় আপনি ছুটি নিলেন কেন ?

উ: আমার পড়াশোনার জন্য ।

প্র: গান ও অভিনয় নিয়ে আপনি কতটা সিরিয়াস ?

উ: গানটা নিয়ে যদিও একটু সামান্য ভাবি , কিন্তু অভিনয়টা নিয়ে একেবারে ভাবিনি । কিন্তু পরিস্থিতির জন্য অভিনয়টাও করলাম।

প্র: ছোট থেকেই কি গান আর অভিনয়ের প্রতি ইচ্ছা ছিল ?

উ: খুব ইচ্ছে ছিল কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। ২০১৪ সালের জুন মাসে মোহাম্মদ ওয়াজির নামে একজন ভদ্রলোক আমার গানের বিষয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন , আর তার জন্য আমার এই গান গাওয়া শুরু । আর যার জন্য আজ আপনি আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছেন।

প্র: এই গান ও অভিনয়ের জন্য পরিবার থেকে কতটা সাহায্য পেয়েছিলেন ?

উ: দেখুন আমার মা – বাবার ইচ্ছে আমার সব। আমার মা – বাবার ইচ্ছে আমি গানের জগৎ একেবারে বাদ দিয়ে শুধু পড়াশোনার প্রতি নজর রাখি। তাই আমার গানের চিন্তা-ভাবনা মাথা থেকে দূর করা আমার পক্ষে মঙ্গল হবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি , যে কোন কাজে মা-বাবার সাপোর্ট না থাকলে তা হাজার চেষ্টা করলেও তাতে কিন্তু ব্যর্থতায় নেমে আসে । এখন দেখি যদি দুটোই ব্যালেন্স করতে পারি , তবে ইচ্ছে রয়েছে দুটোই ব্যালেন্স করা । যদিও সম্ভব নয় তবু সামনে গিয়ে দেখি কি হয় ?