বাড়ি থেকে ভাল সাপোর্ট ছিল না – নীলয় ব্যানার্জি

সকাল বেলা যখন মৌলালী থেকে বেহালার বাসের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম , ঠিক তখনই বাসের এক কন্ডাক্টর বেহালা বেহালা বলে চিৎকার করতে লাগলো । মৌলালী থেকে বাসে প্রায় ঘন্টাখানেক । বেহালা পৌঁছে আবার রিক্সা নিয়ে ৮ নং রিকশা স্ট্যান্ড । বাড়ি ঢুকেই কিছুক্ষণ পর এক কাপ ব্ল্যাক – টি । এই ব্ল্যাক – টি এর পর চলল এক গুচ্ছ আলাপ আলোচনা । এই আলোচনার মুখোমুখি সংবাদ টুডের প্রতিনিধি উজ্জ্বল সরকারআয়ুষ রায়

২০০৬ সালে আপনার প্রথম পথ চলা শুরু একজন অভিনেতা হিসেবে এই পথ কতটা মসৃন ছিল ।

খুব একটা মসৃণ ছিলনা । পরিশ্রম তো ছিল । প্রথমে বাড়ি থেকেও খুব একটা সাপোর্ট ছিল না । তখন ইটিভিতে একটা নন ফিকশন শো হত , মেগাস্টার সেটাতে অংশগ্রহন করি জিতেও যাই । তারপর থেকে বাড়ীতে বাবা মা একটু বোঝে যে আমি পারি । কিন্তু ফুল সাপোর্ট আমি পরে পাই । আর এখন অনারাই সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট করেন আমায় । খুব বেশি মসৃণ হলে হয়ত পরিশ্রমটা বুঝতে পারতাম না । সেটাও বোঝা দরকার ছিল বলে আমার মনে হয় ।

মিঃ ফান্টুস সিনেমায় প্রসেনজিৎ এবং রচনা ব্যানার্জীর সাথে কাজ করে কেমন লেগেছে ?

খুব ভালো লেগেছে । এরকম সিনিয়ার অভিনেতাদের সাথে কাজ করতে আমার ভালোই লাগে । অনেক কিছু শিখেছি কাজ করতে গিয়ে । সেই সময় একবারের জন্যও ওনারা অনুভব করতে দেননি যে আমরা নবাগত । খুব সুন্দর স্মৃতি সেই সময়ের শুটিংয়ের । মাঝে মাঝে এখন ভাবলে আনমনা হয়ে পড়ি ।

একজন গিটারিস্টের চরিত্রে অভিনয় সেইসময় কতটা উপভোগ করেছিলেন ।

খুব আনন্দ করেছিলাম । সেই সময় সব বাংলা ব্যান্ডের শো দেখতাম । চরিত্রটা করার সময় ওটা মাথায় ছিল । আমি এমনি গিটার বাজাতে পারিনা , কিন্তু বিভিন্ন ব্যান্ডের শো দেখে গিটার বাজানোর কায়দা রপ্ত করে নিয়েছিলাম ।

মুম্বাই প্রোডাকশনের সাথে কি কি কাজ করেছেন ?

মুম্বাইয়ে আমি বেশ কয়েকটা কাজ করেছি । আমি কালার্স -এ ” 24 ” এ কাজ করেছিলাম যেটাতে অনিল কাপুর ছিল । বেশ কয়েকটা টিভিসি করেছি । তারপর অনুরাগ বসুর সাথে রবীন্দ্রনাথ টেগরে কাজ করেছি সেটা এপিক চ্যানেলে হয়েছিল । এটার পর অনুরাগ দা আমায় যজ্ঞ জসওসে কাজ করার সুযোগ দেয় । আমি যশ রাজ ফিল্মের সাথেও কাজ করেছিলাম । লাস্ট আমি শাহরুখ খানের সাথে ” জিরো ” ফিল্ম করেছি । আমি মুম্বাইয়ে আরও কাজ করতে চাই ।

বলিউডে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সাথে স্মিটেন এবং হপপিট টিভিসিতে কাজ করে কেমন লেগেছে ?

ভালোই লেগেছে । এর বাছাই পদ্ধতিটা অনেক বড় ছিল । প্রায় চার বার অডিশন দিতে হয়েছিল । ডিরেক্টর , DOP ( Director of Photography )  , করিওগ্রাফার সব হলিউড থেকে ছিল । একটা বিশাল আয়োজন । রিহার্সেল করতে করতে প্রিয়াঙ্কার হাতের খোঁচাতে আমার চশমাটা পরে যায় , কিন্তু ভাঙেনি । খুব আনন্দ করে আমরা কাজ টা করেছিলাম ।

অনুরাগ বসুর প্রযোজনায় “রবীন্দ্রনাথ টেগরের গল্পে ” রণবীর ও ক্যাটরিনার কাজ কতটা আনন্দময় ছিল ।

অনুরাগদার সাথে কাজ করার মজাই আলাদা । রবীন্দ্রনাথ টেগরের নষ্টনীর জন্য অডিশন দিই । শুটে গিয়ে জানতে পারি আমার লিপে একটা গান আছে । অনুরাগ দার সাথে সেদিন আমার ফার্স্ট ইন্ট্রোডাকশন । দাদা আমায় চরিত্রটা বুঝিয়ে দিল তারপর আমি তৈরি হয়ে যাই । অনুরাগ দা আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন যে গান টা মনে আছে তো । আর সাথে সাথে আমি গানটা গাইতে শুরু করে দিই । সেটা অনুরাগ দার ভালো লাগে । চরিত্রটা খুব মজার ছিল । আর আমি অপরাচিতর জন্য ডাক পাই । প্রায় বছর খানেকের মধ্যে তানি দি ( অনুরাগ দার স্ত্রী ) র ফোন আসে কাছে যজ্ঞ জসওসের জন্য । উনি বলেন যে অনুরাগ দা আমাকেউ চাইছে । রণবীরের সাথে কাজ করে খুবই ভালো লেগেছে । আমার সেই সময় এক্সিডেন্ট হয় সেই অবস্থায় শুট করছিলাম । একদিন হঠাৎ করে রণবীর এসে জিজ্ঞেস করে আমি ঠিক আছি নাকি , আর কি করে এক্সিডেন্ট হল । আমি ওকে বলি । রণবীর সাধারণ একজন বন্ধুত্ব পূর্ণ আচরণ । ক্যাটরিনাও বেশ ভালো ।

২০১৮ সালে “জিরো” ছবিতে কিং খান অর্থাৎ শাহরুখ খানের সাথে কাজ কতটা অভিজ্ঞতার ছিল ।

এর অভিজ্ঞতা বলে বোঝাতে পারব না । Being an actor he is helpfull . ওনার থেকে অনেক জিনিস শেখার আছে । ওনার সাথে আমার একটা ছোট্ট দৃশ্য ছিল সেটা কি ভাবে ভালো করে যায় আমায় বলেছিলেন । উনি এই ফ্লিমের প্রোডিউসারও ছিলেন । আর আমরা যা চাইতাম সেটাই আমাদের কাছে হাজির হত । অভিনেতাদের কমফোর্ট জনে রাখতেন ।

ভবিষ্যতে টলিউডে বা বলিউডে কোন কোন অভিনেতা ও অভিনেত্রীর সাথে কাজ করার ইচ্ছে আছে ।

সেরকম পার্টিকুলার কিছু নেই । আমার যদি চরিত্র বা স্ক্রিপ্ট ভালো লাগে । আমি সেই কাজ করতে রাজি আছি , তাতে নতুন কেউ থাকলেও অসুবিধা নেই । তবে আমার ইচ্ছে আছে যদি সুযোগ পাই তাহলে বলিউডে সালমান , রাজকুমার , বিকি এদের সাথে কাজ করতে চাই । আর টলিউডে ঋত্বিক , দেব , জিৎ দা এদের সাথে । কারণ এদের সাথে কাজ করলে আরও কিছু শিখতে পারবো ।

বাংলা গানের সাথে হিন্দি গানের পার্থক্য কেমন ?

দেখো এখন অনেক গানই যা বাংলাতে হওয়ার পর আবার হিন্দিতে হচ্ছে , বা হিন্দির কিছু যা বাংলাতেও হয়েছে । আমি গান খুব একটা বেশি কিছু বুঝিনা । আমার কাছে যেটা শুনতে ভালো লাগে আমি সেটাই বেশি শুনি , সেটা বাংলা হোক বা হিন্দি ।

আপনার প্রিয় পরিচালক কে ?

পার্টিকুলার একজনও নেই । টলিউডে যেমন সৃজিত মুখার্জী , কৌশিক গাঙ্গুলি, রাজ চক্রবর্তী ,  শিবুদা , নন্দিতা দি ।  এছাড়াও যারা নতুন পরিচালক তারাও খুব ভালো কাজ করছে । আর বলিউডে অনুরাগ দা , রাজু ইরানী , বিশাল ভরদ্বাজ এবং আরো কয়েকজন আছে নাম মনে পড়ছে না এই মুহূর্তে ।

একজন অভিনেতা হিসেবে আপনার প্রিয় অভিনেতা কে ?

টলিউডে ঋত্বিক দা ,আবির দা, অনির্বান । আর বলিউডে রানবির কাপুর , রানভির সিং ,রাজকুমার রাও ।

সংগীত পরিচালক হিসেবে আপনার প্রিয় পরিচালক কে ? টলিউড এবং বলিউডে …

 বিশাল এবং শেখর , অমিত ত্রিবেদী এগুলি বলিউডে আর টলিউডের জিৎ গাঙ্গুলী , ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত ।

ভিডিও দেখতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন

https://youtu.be/xV5Odd611Lo