মন্দিরে বাবা আছেন , শুধু নেই ভক্তরা

রবীন্দ্রনাথ বর্মন, কোচবিহার, ৬ মে : মন্দিরে বাবা আছেন, শুধু নেই ভক্তরা। এমটাই হয়েছে লকডাউনের জেরে কোচবিহার জেলার তৃতীয় বৃহত্তম মাসান বাবার মেলায়। ভক্ত সমাগম খুবই নগন্য।
লকডাউনের জেরে ভক্তহীন মন্দিরেই চলছে মাসানবাবার মেলা। লকডাউনের জেরে রাজ্য প্রশাসন মন্দিরগুলিতে বিশেষ অনুষ্ঠান পুজা-পার্বণের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে।

লকডাউনের প্রভাব পড়ল জেলার প্রাচীন মাসানপাঠ মন্দিরের পুজোপাঠে। ওই মন্দিরে পুজো শুরু হয় বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে পুণ্যার্থীদের ভিড় ছাড়াই চলছে পূজা অচনা। কথিত আছে কান্তেশ্বর রাজ আমল ধরে পুজো হয় এই মাসান পাঠের মন্দিরে। কিন্তু বছরের বৈশাখ মাসে প্রায় ২০দিন ধরে পুজো-আচ্চা হয়। সেরকমই প্রতি বছর বৈশাখ মাসের প্রতি মঙ্গলবার এবং শনিবার ভক্তরা পূজা করতে আসেন। এছাড়াও সারা বছর ধরে চলে বাবার পূজা।

বৈশাখের দিনগুলিতে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে এই মন্দিরে। কিন্তু এবার করোনা লকডাউনের কারণে সেই ছবিটা পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছে। নিয়ম মেনে পুজো হলেও মন্দির চত্বর পুরো ফাঁকাই। মানুষ আসছেন, পুজো দিয়ে ফিরেও যাচ্ছেন। তবে সংখ্যা হিসেবে যা যথেষ্টই কম। এমন দৃশ্য অতীতে কোনওদিন দেখেইনি কেউই। মন্দিরের পুরোহিত থেকে পুজা দিতে আসা ভক্তদের একটাই কথা, নিজেদের জীবনে এমন দৃশ্য প্রথম দেখলেন তাঁরা।

এই মেলায় ভক্ত সমাগম নগন্য হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে শিঙ্গিমারী নদী তটের তরমুজ চাষীরা। চাষিদের একাংশের দাবি যা তরমুজ উৎপাদন হয় তার বেশি ভাগটাই ওই মেলার ভক্তরা কিনে খেত। কিন্তু এবছর মেলা না চলায় মুনাফায় টান পড়েছে চাষিদের।

লকডাউনের জেরে রাজ্য প্রশাসন মন্দিরগুলিতে বিশেষ অনুষ্ঠান পুজা-পার্বণের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে। পাশাপাশি রয়েছে করোনা সংক্রমণের ভীতি। যার জেরে কয়েক দশক ধরে চলে আসা কোচবিহার জেলার মানুষের বিশ্বাসের বড় জায়গা মাসানবাবার মন্দির চত্বর বৈশাখের দিনে একেবারে শুনশান। কম সংখ্যক মানুষ যারা পুজো দিতে এসেছেন, তাদের মনেও রয়েছে আতঙ্ক। মেলা কমিটির সদস্য নিরদ চন্দ্র বর্মন বলেন এই প্রথম শুনশান দৃশ্য দেখছি। কিন্তু লকডাউনে উঠে গেলে অন্য মাসে ভির জমাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে। অন্য মাসে বিগত দিনে বৈশাখের দিনে যেখানে পা ফেলার জায়গা পাওয়া যেত না, এবার সেখানে অল্প কয়েকজন পুজো দিতে আসায় মন্দির চত্বর পুরো ফাঁকাই বলা চলে।

লকডাউনের বিধি নিষেধ আরোপ থাকায় মন্দিরে পুজো দিতে আসা ভক্ত সমাগম এবার খুব কমই হয়েছে। এই মেলা ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে প্রথাগতভাবে জানান তিনি। মেলায় জেলা-সহ জেলার বাইরে প্রচুর মানুষ আসত পুজো দিতে। কিন্তু এবছর তার ব্যতিক্রম ঘটল।