দিল্লির ফলাফল তৃণমূলের কাছে নতুন অক্সিজেন পৌঁছে দিল

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া : নবান্ন থেকে দিল্লিতে কেজরীবালের অফিসের দূরত্ব প্রায় পনেরোশ কিলোমিটার। মঙ্গলবারের উৎকণ্ঠা ধারে ও ভারে কম ছিল না ভাগীরথীর পশ্চিম পাড়ের শহরে। আম আদমি পার্টির (আপ) সদস্য এই শহরে খুঁজে পাওয়া না গেলেও জিতটা মনেপ্রাণে চেয়েছিল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক এমনকি নেতা-মন্ত্রীরাও। কারণ প্রতিপক্ষ টা যে বিজেপি।

সকাল ৮টার কিছু আগে একটি সর্বভারতীয় হিন্দি নিউজ চ্যানেলে দিল্লি বিজেপি প্রধান মনোজ তেওয়ারি বিজেপির জয় নিশ্চিত বলে বক্তব্য রাখছিলেন। শিবপুরে অবস্থিত একটি বিখ্যাত কালী মন্দিরে ঠেকানো ফুল নিজেদের কপালে ছুঁইয়ে দিচ্ছেন তৃণমূলের বুথ কর্মী। টিভির দিকে তাকিয়ে ওই নেতার মন্তব্য ঘন্টাখানেক পর থেকেই মুখ লোকাতে হবে। সমীক্ষা ভুল প্রমাণ করে দিতে পারে একমাত্র ইভিএম। মমতার দলের কর্মীদের মত ভোটের পরের দিন থেকে দিল্লির ৩০টি স্ট্রং রুমের বাইরে আম আদমি পার্টির নেতা কর্মীরা দিনরাত্রি পালা করে পাহারা দিয়েছেন। এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া অত সহজ হবে না। বিজেপির নাম মুখে না নিলেও লক্ষ্য যে বিজেপি তা বোঝা অসুবিধা হয়নি।

ক্ষমতায় যে কেজরীবাল ফিরছেন সমীক্ষায় পূর্বাভাস ছিল। ভোটগণনা শুরু হওয়ার আগে থেকেই শহরের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা দিল্লি দখলের স্বপ্ন নিয়ে টিভির সামনে বসে পড়েছিল। একি চিত্র ছিল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। যত সময় গড়িয়েছে মোবাইলের লাইভ টিভি দেখে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে মিস্টিমুখ করানো হয়েছে। যদিও এর প্রভাব একুশের বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে পড়বে না বলেই বিজেপি সূত্রে খবর। সদরের এক বিজেপি নেতার কথায়, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে দিল্লি কে গুলিয়ে ফেলাটা মুর্খামি ছাড়া কিছু নয়। বাংলায় ১৮ জন বিজেপি সাংসদ রয়েছেন। এখানে লড়াই কিন্তু সেয়ানে-সেয়ানে হবে। যদিও এসব কথাবার্তা কে পাত্তা দিচ্ছে না তৃণমূল। বিজেপি যে সাতটি আসন পেয়েছে (এই খবর পাঠানো অবধি বিজেপির আসন সংখ্যা ৭) ওটাও পাওয়া উচিৎ ছিল না। ধর্মীয় মেরুকরণের উর্ধে উঠে মানুষ ভোট দিয়েছে। এ দেশ সবার। এখানকার সংস্কৃতি একটি নিদিষ্ট ধর্মের নয়। মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জুজু দেখানোর দিন এবার অস্তাচলে সেটাই বুঝিয়ে দিল দিল্লিবাসি।

বছরের শুরুতেই বেলুড় মঠে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘রাজনৈতিক’ ভাষণ দিয়ে বিতর্কের শুরু করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলের এক কর্মীর কথায়, উনি বেলুড় মঠের মতন জায়গায় গিয়েও রাজনৈতিক কথা বলেন। উনি লোকসভা ভোটে জিততে কেদারনাথের গুহায় ধ্যানে বসেছিলেন। সবটাই রাজনৈতিক প্রচার। মানুষ এই সমস্ত জায়গায় যান শান্তির আশায়, ভক্তির কৃপা পেতে। মহারাষ্ট্রের পর বিজেপির সরকারের হাত ছাড়া হয়েছে ঝাড়খন্ড। এবার দিল্লিতেও পরাজয়। মানুষ কাজ চায়, ধর্মের বিভাজন নয়। নিরঙ্কুশ দাপট বজায় রেখেই আপের হ্যাটট্রিক হয়েছে। এবার গোয়া, পাঞ্জাবের উপর লক্ষ্য থাকবে।  

দিল্লির ফলাফল একুশের ভোটের আগে মমতার দলের কাছে নতুন অক্সিজেন এনে দিয়েছে। দিল্লিতে কংগ্রেস ধুয়ে মুছে সাফ। ফলে মমতার ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’র’ রূপরেখা আগামী দিনে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে। এখন দেখার কংগ্রেস কোন পথ ধরতে চলেছেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে আগামী এক বছরের রাজনীতি। অনেকেই আশঙ্কা করছেন আগামী দিনে এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্তের গতি বাড়াবে! তবে সবার লক্ষ্য থাকবে শাহিন বাগ নিয়ে কি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন জয়ের হ্যাটট্রিক করা কেজরীবাল।