শহরের নামি-দামি রেস্তোরাঁয় কচ্ছপ পাচারের আগেই ট্রেন থেকে উদ্ধার ৯১টি কচ্ছপ

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

খবর ছিল যোধপুর এক্সপ্রেসে পাচার করা হচ্ছে কচ্ছপ। সেইমতন ভোর থেকে ডাউন যোধপুর এক্সপ্রেসের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। নিদ্দিষ্ট সময়ের প্রায় সাড়ে ৬ঘন্টা দেরিতে ট্রেনটি হাওড়া স্টেশনের পুরনো কমপ্লেক্সে পৌঁছাতেই তিনজনের টিমকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে হাওড়া জিআরপি। উদ্ধার হয় ৯১টি কচ্ছপ।

নামি-দামি রেস্টুরেন্ট এবং হোটেলে কচ্ছপের মাংসের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। ভিন রাজ্য থেকে ট্রেনের সিটের নিচে প্ল্যাস্টিকে মুড়ে অথবা বস্তায় ভরে এ রাজ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। তারপর লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছে হোটেল-রেস্তরায়। মোটা টাকার লোভে একটি গ্যাং কাজ করছে। ভোরের দিকে যে সমস্ত ট্রেন ইউপি, বিহার হাওড়ায় প্রবেশ করে ওই সমস্ত ট্রেনে নিয়ে আসা হয়। ওই সময় চেকিং কম থাকার সুবাদে সহজেই বেরিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এই কাজে মহিলা ও গ্রাম্য মানুষদের টাকার লোভ দেখিয়ে পাচারে লাগানো হয়।

জিআরপি সূত্রে খবর, খবরটা ছিল সেইমত অফিসারের একটি টিম কাজ করেছে। এ দিন যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে এক মহিলা রয়েছে। নাম নির্মলা কাঞ্জারি। অন্য দু’জনের নাম পল্টু কাঞ্জারি এবং শত্রুঘ্ন কাঞ্জারি। ইউপি থেকে সাপ্লাই করা হয় এ রাজ্যে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো টিমের তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগে কোন স্টেশনে নামানো হয়েছে কিনা সম্পূর্ণ তথ্য জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যাবে।

হাওড়া বন দফতরের এক কর্তার কথায়, বেশি কচ্ছপ ছিল ছোট সাইজের। দুটি বড় ও বাকিগুলো ছোট মিলিয়ে মোট ৯১টি কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে। বন দফতরের পক্ষ থেকে কচ্ছপগুলির যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া তিন জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ পথে মামলা চলবে। অন্যদিকে উদয়নারায়ণপুর থানার বরদা গ্রামে লক্ষ্মীকান্ত কাঁড়ারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি পদ্ম গোখরো সাপ। পরিবেশ মঞ্চের সদস্যরা এবং শিক্ষক অমিয় কুমার রীত সাপটিকে বন দফতরের হাতে তুলে দেন।