পরিবেশবান্ধব শালপাতার থালায় সরস্বতী পুজোর প্রসাদ, স্কুলে-স্কুলে বার্তা দিচ্ছে স্নাতক ডিগ্রিধারী অনির্বাণ

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

সরস্বতী পুজো দোরগোড়ায়। চলছে সরস্বতী প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ। পুজোর উপচার নিয়ে শশব্যস্ত সাধারণ মানুষ। ঠিক তখনি আমতার অনির্বাণ প্রতিমা না বানিয়েও একদন্ড ফুরসৎ নেই। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে স্কুলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে শালপাতা। ফিরে আসা শীতেও কপালের ঘাম মুছে একের পর এক স্কুল শালপাতার বস্তা নিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে।

সরস্বতী পুজো মানেই ছোটবেলার স্মৃতি নাড়া দেওয়া। স্কুলে সাজানো হবে মণ্ডপ, পুজোর উপকরণ থেকে পুরোহিত মশাই সমস্তকিছুর দায়িত্ব ছাত্র-ছাত্রীদের। রঙবেরঙের কাগজ কেটে আঠা দিয়ে জুড়ে চারদিকে সাজিয়ে ফেলা। আলপনা আঁকা, প্রতিমা আনা সমস্তকিছু নিয়মের বেড়াজালে। কিন্তু স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পাত পেড়ে প্রসাদ খাওয়ানোটা হোক শালপাতার থালায়। গ্রামীণ হাওড়ার আমতা, জগৎবল্লভপুর ও বাগনান থানার অন্তর্ভুক্ত কুড়িটির বেশি স্কুলে শালপাতা সাপ্লাই দেবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে স্নাতক ডিগ্রিধারী অনির্বাণ রাণা।

বাঙ্গালপুর জ্যোতির্ময়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তৃপ্তি ঘাটা জানান, “মাসখানেক আগে ছেলেটি স্কুলে এসেছিল। প্রস্তাব দিয়েছিল থার্মোকলের থালার বদলে শালপাতা ব্যবহার করতে। সেইমতন ওঁকে পনেরোশ শালপাতার অর্ডার দিয়েছিলাম। ছেলেটি ঠিক সময়ে দিয়ে যাবে তো! এই ভাবনার মধ্যেই সোমবার স্কুলে টিফিনের সময় টোটোয় চাপিয়ে পৌঁছে দিয়েছে শালপাতা। পরিবেশ রক্ষার আবেদনে আমরা ওঁর পাশে রয়েছি।”

বাগনান গার্লস হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সুলতা বাগ ছড়ি জানান, “ওঁকে আমরা পঁচিশশো শালপাতার অর্ডার দিয়েছিলাম। সোমবার স্কুল শুরুর ঘন্টাখানেকের মধ্যে শালপাতা নিয়ে হাজির। ওঁর সঙ্গে পরিবেশ নিয়ে কথাও হচ্ছিল। অসম্ভব ইচ্ছাশক্তি রয়েছে ছেলেটির মধ্যে। পূজোর দু’দিন আগে থেকেই স্কুলে চলে এসেছে ঠাকুর। মেয়েরা পুজোর স্থান সাজাবে। টাইম মেশিনে সওয়ারি হয়ে আমাদের সময়টা বদলালেও সরস্বতী পুজো-আচ্চাই আজও ছাত্রীরা মনে করিয়ে দেয়। শালপাতার থালায় প্রসাদ খাওয়ানো হবে।”

ভুঁয়েড়া বিএনএস হাইস্কুলের শিক্ষক সৌরভ দোয়ারির কথায়, স্কুলে প্রসাদ খাওয়ানোটা যদি শালপাতায় হয় পরিবেশের জন্য অবশ্যই ভালো। থার্মোকলের ব্যবহার কমাতে হবে। নইলে বিপদজনক ভাবে বাড়বে দূষণ। সৌরভ বাবু স্কুলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছেন তখন পুজোর স্থান আলপনায় সাজাচ্ছে স্কুলের ছাত্রীরা। আমরা যখন স্কুলে পড়াশোনা করতাম কলাপাতায় খাওয়ানো হত খিচুড়ি, বেগুন ভাজা, বাঁধাকপির চচ্চড়ি সঙ্গে চাটনি। অনির্বাণ শালপাতার অর্ডার নিয়ে গিয়েছিল। এ দিন দিয়ে গিয়েছে শালপাতার থালা। ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে তুলে দেব পরিবেশবান্ধব শালপাতার তৈরি থালায় প্রসাদ আকারে পঞ্চ ব্যঞ্জন। চেষ্টা করছি মাটির গ্লাস ব্যবহারের।

অনির্বাণের কথায়, জয় জয় দেবী চরাচর সারে মন্ত্রপাঠে তুষ্ট হবেন বাক দেবী। শালপাতার থালা ব্যবহার করে প্রসাদ খাওয়ানো হলে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ হবে দূষণ। এটা একটা নিরন্তর প্রচার। হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের মধ্য দিয়ে পরিবেশ নিয়ে কাজ করছি। আগামীদিনে বাকি স্কুলগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শালপাতা সরবরাহ করা হবে। পাশে পেয়েছি সুবর্ণ দাসগুপ্তর মতো যুবদের। যা আগামীদিনে কাজে লাগবে।