নারী দিবস কতটা সার্থক?

সংবাদদাতা শর্মিষ্ঠা দত্ত, হাওড়া:-

আয়ুষ রায় দ্বারা সম্পাদিত

প্রতি বছর ৮ মার্চ সারা বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় । নারীদের প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদযাপন এর মুখ্য বিষয়। এই দিনটি উদযাপন এর পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এর ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা। সেই মিছিল চলে সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়ন ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউ ইয়র্কে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক ক্লারা জেটকিন এর নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হলো।
কিন্তু ২০১৯ সালে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন একটাই এখনো কি নারীরা সমান অধিকার বা সম্মান পাচ্ছেন? নারীরা কি এখনো কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত নয়? বা কারোর খেলার পুতুল নয়?
বর্তমান যুগকে বলা হয় গণতান্ত্রিক যুগ, সমতার যুগ। কিন্তু এ সময়েও নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন। ৩ মাসের শিশুকে ধর্ষণ করে খুন, ৮৪ বছরের বৃদ্ধা কে ধর্ষণ, বধূকে আগুনে পুড়িয়ে মারা, ছেলের বাড়িতে জায়গা না হওয়ায় বৃদ্ধা মায়ের জায়গা বৃদ্ধাশ্রমে, শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার, গণধর্ষণ, পণ নিয়ে অশান্তি। এইসব কী নারীদের সম্মানার্ধে? মনে তো হয় না।
এছাড়াও স্কুলে তে কন্যা শিশুদের ওপর যে অমানবিক অত্যাচার। তা প্রায়সই খবরের শিরোনামে উঠে আসে। সেইসব কী তাদের প্রাপ্য? ৩৬৪ দিন নির্মম অত্যাচারের ফলস্বরূপ আজকের কথিত নারী দিবস।
নারী উন্নয়নের পথে প্রথম বাধা হল পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এবং সামাজিক কুসংস্কার। কিন্তু কোনো বাধাই নারীকে বেধে রাখতে পারেনি। হ্যাঁ নারী এখন অনেকাংশে জয়ী। তাঁরা মহাকাশে যায়। এভারেস্ট জয় করে। তাঁরা সফল। সর্বপরি তাঁরা মা।
কিন্তু অনেকের মতে নারী দিবস বর্তমানে কেবল একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে, যার বাস্তব কোনো সফলতা নেই। যদি আমরা নারীর ন্যায্য অধিকার ও চাহিদা পূরণ করতে পারি, তবেই দিবসটির উদযাপন সার্থক হবে।