প্রাচীণ বট গাছের নিচে পিকনিকের রান্না, পুড়ে যাচ্ছে ঝুরি, গাছ বাঁচাতে দিদিকে বলো’য় ফোন পরিবেশ প্রেমীর

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

একটি গাছ বাঁচুক, ফিরে পাক শতেক প্রাণ। জেলার প্রান্তে থাকা মানুষদের জন্য এমনি বার্তা দিতে চাইছে জেলার পরিবেশ প্রেমি সংগঠনগুলি। কিন্তু আখেরে ঘটছে উল্টো। বৃক্ষের নিচে গ্যাস-ওভেন জ্বেলে মাংস কষা হচ্ছে। অবশিষ্ট ভাতের ফ্যান, মাছের তেলঝাল, মাংসের জুস ফেলা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। থার্মকল সহ বিভিন্ন বর্জ পোড়ানো হচ্ছে। এতে করে প্রাচীণ বটের স্তম্ভমূল, সরু সরু ঝুরি বের হচ্ছে না। অগত্যা পথে নেমেছে পরিবেশ সংগঠন।

উলুবেড়িয়া ফুলেশ্বর কালসাপা বাংলো পিকনিক স্পট জুড়ে প্রাচীণ বট, মেহগনি সহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের বসতি। কিন্তু ডিসেম্বর, জানুয়ারি মাসে পিকনিক করতে আসা মানুষজন বড় বড় গাছগুলির নিচে গ্যাস জ্বেলে রান্নায় বসে যাচ্ছে। দেদার রান্না, উচ্চ আওয়াজের বক্সের সাউন্ড, পুড়িয়ে দেওয়া বর্জের ধোঁয়া, অতিরিক্ত খাবার ফেলে গাছের আশপাশের পরিবেশ বিনষ্ট করে দিচ্ছে। নজর এড়িয়ে কেউ কেউ গাছে দোলা বেঁধে মনরঞ্জন করছে। ওই সমস্ত গাছে পাখি সহ কাঠবেড়ালিদের বাসা রয়েছে। বাধ্য হবে স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যেতে। এমনটা দেখে পথে নেমেছে মাধবপুর পরিবেশ চেতনা সমিতির নেত্রী জয়িতা কুন্ডু। কয়েক সপ্তাহ ধরে পিকিনিক করতে আসা মানুষদের বুঝিয়েও কাজ না হওয়ায় দিদিকে বলো’য় ফোন করে গাছগুলো রক্ষার আবেদন জানালেন।

জয়িতা কুন্ডু’র কথায়, “কালসাপা পিকনিক স্পটে একের পর এক বৃক্ষ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে একটি প্রাচীণ বট ও মেহগনি গাছ। কিন্তু পিকনিকে আসা মানুষদের একাংশ ওই সমস্ত গাছের নিচে আগুন জ্বেলে রান্না করছে। বট গাছটির সরু সুর ঝুরি আগুনে পুড়ে আজ অবধি একটিও স্তম্ভমূল গঠন করতে পারেনি। এই গাছগুলির গোড়ায় যদি বেশি একটু এলাকা জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া করে দেওয়া যায়। তাহলে বট গাছগুলি নিশ্চিন্তে ঝুরি নামাতে পাড়বে। এছাড়া এমনকিছু গাছ রয়েছে যেগুলি আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু নিজের হাতে লাগানো। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেওয়া হলে গাছগুলো বাঁচে, পরিবেশও রক্ষা পাবে। আমি প্রশাসনিক স্তরে চিঠি দিতে চাইছি। শীত এখনো মার্চ মাস অবধি। ততদিন গাছগুলির এমন অবস্থা যে বাঁচানো মুশকিল হয়ে পড়বে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাই আমি দিদিকে বলো’য় ফোন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছি।”      

জেলার বিদ্দজনেরা জয়িতার কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছে। এ ভাবে বট গাছের গোড়ায় আগুন জ্বেলে রান্না করলে গাছটির প্রচন্ড ক্ষতি। মনে রাখা প্রয়োজন বট গাছের বড় বড় পাতার কারণে অক্সিজেন যেমন বেশি ছড়ায়, পরোক্ষে পরিবেশ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বেশি গ্রহণ করে। একটা বট গাছের ক্ষতি মানে একটি বিশালাকার ফ্ল্যাট বাড়ির অক্সিজেন জোগান বন্ধ হয়ে যাবে! যদি গাছটি গঙ্গার তীরবর্তী জায়গায় হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে মাটির ক্ষয়রোধে গাছটি একটি পাঁচিরের ভূমিকা পালন করে চলেছে। প্রশাসনের উচিৎ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

দিদির অফিস থেকে একটি ইউনিক আইডি দেওয়া হয়েছে। এবং অভিযোগটি দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রাণ ফিরে পাবে প্রাচীণ বট গাছটি। আশায় রয়েছে পরিবেশ কর্মী জয়িতা কুন্ডু।