নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম কি বিশ্বাস হারিয়েছে ?

অরিন্দম মজুমদার

বস্তুনিষ্ঠ সঠিক তথ্য নিরপেক্ষ ভাবে পরিবেশন করাই সংবাদ মাধ্যমের পবিত্র ও একমাত্র কাজ। যে সংবাদ মাধ্যম জনমত গঠন করে যার উপর লক্ষ কোটি মানুষ নির্ভর করে সেই সংবাদধ্যম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল গোষ্ঠী ও ব্যক্তির দ্বারা  পয়সার বিনিময়ে বিকিয়ে যায় তাহলে সংবাদমাধ্যম এর চরিত্র বলে আর কিছু রইলো ? প্রশ্ন সব মহলেই । সংবাদ মাধ্যম কে তখন মানুষ সারমেয় বা দেহপজিবিনির সাথেই তুলনা করবে। যা সৎ পড়াশোনা করা জার্নালিস্ট, ও সৎ আদর্শবাদী সংবাদ মাধ্যমের মালিকদের এডিটর কাছে সত্যিই লজ্জার। তবে সংবাদ মাধ্যমের উপর আরোপিত এই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। ঘটনা প্রবাহ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে অর্থবলী প্রার্থীরা স্থানীয় ও রাজ্যব্যাপি প্রচার আছে এমন সংবাদপত্রগুলিতে বহু অর্থ খরচ করে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল যা নিয়ে শোরগোল পরে যায় ও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়। তার শুনানি এখনো চলছে!

বিষয়টি এখন যে অবস্থায় পৌঁছেছে যে মহারাষ্ট্রবাসীরা ভুলেও গেছে। কিন্তু চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে গত লোকসভার নির্বাচনের সময় জম্মু কাশ্মীর এর লেহ লোকসভা জনৈক বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচারের জন্য সাংবাদিক সম্মেলন ডাকা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনের পর উপিস্থিতসাংবাদিকদের অর্থ উপঢৌকন এর প্রস্তাব দেয়া হয় যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা ছিল। । সম্মেলনে উপিস্থিত ৭ জন সাংবাদিক তীব্র প্রতিবাদ জানান ও বিজেপি নেতাএম এল সি  বিক্রম রনঠানওয়ালার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ও স্বাভাবিক ভাবে ওই নেতা টাকা বিলি করার প্রস্তাব অস্বীকার করে। ভোট কিনতে ঘুষ দেয়া  সংবাদ মাধ্যমকে কিনে নেযার যে জলভাত চিত্র আমরা দেখি হয়তো এই ৭ সাংবাদিক সংবাদ মাধ্যমের আসল জুরিসপ্রুডেন্স জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রক্ষা করার কাজে আদর্শনিষ্ঠ ছিলেন । কিন্তু অনেকেই এই লোভ ও অর্থের বিজ্ঞাপনের হাতছানি দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন না।

আরো এক চমকপ্রদ ঘটনার সাক্ষী থাকলো সংবাদপত্রের ও গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত বিভিন্ন মহল। এবছর শেষের দিকে ঝাড়খন্ডে রাজ্যে ভোট। ভোটে জিততে বর্তমান ঝাড়খণ্ডের শাসক গোষ্ঠীর তৎপরতা লক্ষণীয়। রীতিমতো সাংবাদপত্রে রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে রাজ্য সরকার কি কি কাজ করেছে তার বিশাল বিজ্ঞাপন দিতে আরম্ভ করেছে। যা আমাদের রাজ্যে পরিবর্তনের সরকারের ক্ষেত্রে আকছারই দেখা যায়। আরও বৈশিষ্ট্য পূর্ণ যে সংবাদমাধ্যম ও গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত সাংবাদিকের রাজ্য সরকারের স্বপক্ষে প্রচারের জন্য জন প্রতি সংবাদিকদের ১৫০০০ টাকা দেবার প্রস্তাব ও দেওয়া হয়েছে। যা অভিনব ও ন্যাক্কারজনক বটে।

ঘটনাটি জানাজানির পর মুখ্যমন্ত্রী রাঘুবির দাস এর বিরুদ্ধে বিরোধী চার রাজনৈতিক দল ও রাজ্যের সাংবাদিক মহল ছিঃ ছিঃ করেছে ও মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দাবি করেছে। তথ্যে প্রকাশ কোবরা পোস্ট এক সংবাদ সাময়িকী দক্ষিণ পন্থী হিন্দু জাতীয়বাদ এর হয়ে প্রচারের জন্য স্টিং অপারেশন চালায় তাতে ২৭ টি সংবাদ গোষ্ঠী সায়ও দেয়। এই উগ্র জাতীয়বাদের হয়ে প্রচারে লিপ্ত হওয়া সংবাদ কোড অফ কন্ডাক্টএর আচরণ ভঙ্গ করা বলে মনে করেন বরিষ্ঠ সাংবাদিক গন। সংবাদবপত্রের স্বাধীনতা বলে আর কিছুই থাকলো না। নিউজ  আর পেইড নিউজ সমার্থক হয়ে দাঁড়ালো।এই ঘটনায় বিশ্ব জুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। বিদেশি সংবাদ মাধ্যম ও নিউজ এজেন্সি গুলি ভারতীয় সংবাদ জগতের এহেন বিকিয়ে যাওয়া কে সারা ভারতে  সংবাদ তথ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে কালো সময় বলে মনে করছেন । এখন যারা সৎ আদর্শবাদী সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যম বা পত্রিকা গোষ্ঠী জরুরি ভিত্তিতে ভাবার সময় এসেছে।