স্মার্টফোনের ভিড়েও দেড় হাজার সদস্য নিয়ে ৭৫বর্ষে নারিট নবকৃষ্ণ সাধারণ পাঠাগার

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং কেবল টিভির ভিড়েও বছরের পর বছর গ্রামবাংলার মানুষের কাছে সমাদৃত গ্রামের পাঠাগার। স্বাধীনতার আগেকার পত্রিকা, পৌরাণিক কিছু দুষ্প্রাপ্য বই, হাদাভোদা, শকুন্তলা, টুনটুনির বই সহ বিভিন্ন বয়সের গ্রন্থ পাঠাগারের আলমারিতে সাজানো। শনিবার ছিল পাঠাগারের ৭৫বর্ষ পূর্তি। গ্রামের পাঠাগারের প্রতি টানে হাজির সাত থেকে সাতাশি সকলে।

গ্রামীণ হাওড়ার নারিট নবকৃষ্ণ সাধারণ পাঠাগারের বয়স ৭৫বর্ষ। আর ৭৫বর্ষ পূর্তি উৎসবের সূচনা অনুষ্ঠানে স্মৃতির রোমন্থন করতে গিয়ে ফিরে আসল পুরনো দিনের বহু কথা। নীলমণি মুখোপাধ্যায় সহ গ্রামের ৭-৮ জন যুবক শিক্ষার প্রসার ও মূল্যবান বই পড়বার তাগিদে ১৯৪৪ সালে পাঠাগারটি স্থাপিত করেন। নাম দেওয়া হয় নারিট ইউনিয়ন লাইব্রেরি। পরবর্তীতে সরকার অধিগ্রহণ করে নাম দেওয়া হয় নারিট নবকৃষ্ণ সাধারণ পাঠাগার। শিশু সাহিত্যিক কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যর নামানুসারে। তাঁর বিখ্যাত ছড়া ‘মৌমাছি, মৌমাছি, কোথা যাও নাচি’ নাচি’ এ প্রজন্মের শিশুদের সামনে এদিন উচ্চারিত হল।

পাঠাগারের সম্পাদক অপরেশ পন্ডিত জানান, “পাঠাগারে বহু পুরনো ইতিহাস খন্ডিত রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশের জন্য একটা লেখা পাঠিয়েছিলেন শিশু সাহিত্যিক নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য। ওঁনার পত্রিকায় ছাপানোর জন্য। রবিঠাকুর চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে জানিয়েছিলেন, আপনার লেখার মধ্যে কিছু ভুল নেই। আমি পাবলিশার্স দের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। নারিট গ্রামে জন্ম নেওয়া পণ্ডিত্ত মহেশচন্দ্র ন্যায়রত্ন মহাশয় এই পাঠাগারের বিষয় বহু সময় দান করেছেন। বর্তমানে বইয়ের সংখ্যা ৭হাজার। উপন্যাস, কবিতা, ছোটদের ছড়া, নাটক এছাড়া কম্পিটিটিভ পরীক্ষার বই রয়েছে। পাশাপাশি ৮০-৮৫ বছরের পুরনো পত্রিকা পাঠাগারে সযত্নে রাখা আছে। উল্লেখযোগ্য ছোটদের আগমন পুরনোদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।”

উন্নত সময়ের ভিড়ে আটকে না থেকে পনেরোশ সদস্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে পাঠাগার। শনিবার পাঠাগারের ৭৫বর্ষ পূর্তি উৎসবের সূচনা উপলক্ষে ৭৫ টি প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্রভাত ফেরি, সহ ছিল আলোচনা সভা। গ্রামের শিশুরা ফুলের মালা গেঁথে নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য, রবিঠাকুর সহ মনিষীদের গলায় মালা পড়ায়। পুরনো-নতুনের ভিড়ে পাঠাগার ও মঞ্চ ছিল জমজমাট। জানান দিল স্মার্টফোনের বাড়বাড়ন্তের যুগেও গ্রামের পাঠাগারের ঐতিহ্য এতটুকু ফিকে হয়ে যায়নি।