অভিনয় জগতে আমার প্রথম কাজ শুরু টেলিভিশনে : অরিত্র দত্ত বনিক

শিশু শিল্পীর উপস্থিতির সব সময় দর্শকদের মাতিয়ে রাখে । কিন্তু যদি শিশু শিল্পী কিছুদিনের জন্য বিরতি নেন , তবে দর্শকদের মনে নানান রকমের প্রশ্ন সৃষ্টি হয় । বিশেষ করে সিনেমার ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায় । যদি সেই শিশুটি দর্শকের মন ছুয়ে যায় , তাহলে তো একাধিক প্রশ্ন উঠতেই পারে । এক প্রশ্নোত্তরের জন্য যখন সোদপুর স্টেশনে পৌঁছলাম , তখন ঘড়ির কাটা প্রায় দশটা বেজে পনেরো মিনিট,বার ঠিক স্টেশন থেকে মাত্র পনেরো মিনিট । সকালে এক কাপ মিল্ক – টি দিয়েই শুরু হল শিশু শিল্পী অরিত্র দত্ত বণিক এর প্রশ্নোত্তর পর্ব । এই প্রশ্নোত্তর পর্বের মুখোমুখি সংবাদ টুডের প্রতিনিধি উজ্জ্বল সরকার আয়ুষ রায়

অভিনয় জগতের শুরু কবে থেকে ?

 যখন বয়স প্রায় পাঁচ বছর, সেই সময় থেকে অভিনয় জগতে আমার প্রথম কাজ শুরু টেলিভিশনে, ইটিভি বাংলায় যীশু দাশগুপ্তর সাথে। যিনি এখন গত হয়েছেন। যীশু দাশগুপ্ত প্রথম সিরিয়াল “তিথির অতিথি” আমি প্রথম কাজ করি। সিনেমা জগতে আসার আগে আমি বহুদিন টেলিভিশন করেছি যেমন ডান্স বাংলা ডান্স এবং সবচেয়ে যেটা আমার প্রাপ্তি আমি খুব প্রবাদ প্রতীম মানুষদের সাথে কাজ করেছি পরিচালক থেকে অভিনেতা তাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি যেমন যীশু দাশগুপ্ত, দেবাংশু সেনগুপ্ত, সুপ্রিয়া দেবী, গীতা দেবী, সাবিত্রী দেবী, সৌমিত্র চ্যাটার্জী। আমি কাজ শিখেছি কৌশিক সেনের থেকে, আমার মামনি মানে অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার থেকে, প্রথম সিরিয়ালে।

২০০৮ সালে ” চিরদিনই তুমি যে আমার ” সিনেমায় তোমাকে দেখা যায় ,  সিনেমার আসার আগে তুমি কি করতে ?

 “চিরদিনই তুমি যে আমার” আমার প্রথম সিনেমা নয় । আমার প্রথম সিনেমা রিঙগো দার ছবি “ক্রান্তি” তে কাজ করি। দ্বিতীয় ছবি তরুণ মজুমদারের “চাঁদের বাড়ি” তে কাজ করে খুব ভালো অভিজ্ঞতা হয়। ” চিরদিনই তুমি যে আমার ” আমার তৃতীয় ছবি ।

”চিরদিনই তুমি যে আমার ” সিনেমায় যে চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছে , সেই চরিত্রটা কতটা আনন্দময় ছিল ?

উপভোগ করার আলাদা করে কিছু নেই । তার কারণ সে সময় আমার বয়স এতটাই কম ছিল , রাজ দাদের যে দল ছিল সেই দলে আমি অভিনয় করতে যাচ্ছি ।  ওটা যে কাজের জায়গা সেটার থেকে ওটা একটা খুব বন্ধু জায়গায় পরিণত হয়েছিল একটা সময় এবং আমার কখনোই মনে হয়নি যে ওখানে একটা শুটিং হচ্ছে এবং আমাকে কঠিন একটা কাজ করতে হবে । রাজ দা এমন একজন পরিচালক যিনি যে-কোনো মানুষের মধ্যে থেকে একটা চরিত্রকে এক্সেকিউট করে নিতে পারেন এবং সেই ভাবে তৈরি করে নিতে পারেন সে দক্ষতা রয়েছে ওনার । সেই সময় ভীষণ ইউনিট টিম ছিল এবং আমি ওখা নে ফেলিক্সিবেল ছিলাম । আর চরিত্রটা হওয়ার সময় আমার যেটা অসুবিধা হয়েছিল । আমি একটা ওইরকম গ্যারেজের একটা চরিত্র করছি এবং ওইরকম ভাবে কথা বলছি “ষ” “শ” কথা বলি ওরকম ভাবে হাত -পা নাড়িয়ে । সেটা আমার খুব একটা অসুবিধা হয়নি ।

২০০৯ সালে ” পরান যায় জ্বলিয়া রে ” দুর্গা পুজোর দৃশ্য নিয়ে যদি কিছু বলো …

 “ পরান যায় জ্বলিয়া ” -তে যেটা করা হয়েছিল ওটা একটা উৎসব আয়োজন হয়ে গিয়েছিল । দেব – শুভশ্রী এরা তো স্টার এবং যেটা দেবতার ক্ষেত্রে ইউনিক সেটা হচ্ছে উনি যে একজন স্টার সেটা কখনোই ফ্লোরে আমরা বুঝতে পারিনি । উনি এতটাই একজন ফ্লেক্সিবেল পারফর্মার । উনি যে ওইরকম একজন হিট স্টার সেটা কখনোই বুঝতে দেয় না । আমার সাথে দেবদার সম্পর্কটা ছিল দাদার মতন ।  দুর্গাপুজো ক্ষেত্রে হয়েছিল আমাদের যে বাড়িতে শুট হয়েছিল সেটা ছিল লাহা বাড়ি । সেইখানেও পাঁচদিনের মতন আয়োজন করা হয়েছিল । ঠাকুর এনে , ঠিক যেভাবে করা হয় । টিভিতে যা দেখেছি তার থেকে আমরা শুটিং করতে গিয়ে তৈরি করেছি ।

” পরান যায় জ্বলিয়ারে ” মাঝখানের দৃশ্য নিয়ে যদি কিছু বলো …

এগুলো সবটাই স্ক্রিপ্টের । আমি দীর্ঘদিন ধরে যে চরিত্র গুলোতে অভিনয় করেছি তাতে এইরকম প্রেমের ম্যানেজারি করেছি । বহু ছবিতে দেব থেকে “ ওয়ান্টেডে ” জিৎ দার সাথে , হ্যালো মেম সাহেবের সাথে । ২০১৪ -তে আমি করেছি “ খিলাড়ি ” সেখানেও এইরকম । সেইসময় দর্শক আমাকে ধরে নিয়েছিল আমি ভীষণ পাকা একটা বাচ্চা । এটা একদিকে ভালো একদিকে খারাপ দিনের –পর -দিন করতে করতে মানুষের একটা প্যাটার্ন তৈরি হয়ে যায় , যারা পর্দার ওপারে দেখেন তারা মনে করেন বোধ হয় এইরকম ওটাই তার চোখে বসে যায় । তবে একটা ব্যাপার অন্য কোনো চরিত্র গেলেও দর্শক আমাকে সেইভাবে চান । আমি এখনো যেমন সিরিয়াল করছি সিনেমায় অভিনয় করছি । তখনও কিন্তু মানুষের একটা আগ্রহ থাকছে , উদ্যোগ থাকছে যে আমরা অরিত্রকে একটু মজার চরিত্রে কেন দেখতে পাচ্ছিনা ? কেন কঠিন ভারী চরিত্রে সে আছে ?

২০১২ সালে ” ইডিয়ট ” সিনেমায় অঙ্কুশের সাথে তোমার প্রথম কাজ ,  পুলিশের দৃশ্য নিয়ে যদি কিছু বলো …

যিনি অভিনয় করছিলেন তিনি সত্যিই একজন পুলিশ এবং তিনিও একেবারে অভিনয় উৎসুক মানুষ । আগে উনি শ্যামবাজারে ছিলেন এখন অন্য কোথাও পোস্ট হয়েছে হয়তো , দেখা হয় মাঝে মধ্যে উনি অভিনয় করতে ভালোবাসেন এবং উনাকে যে কারণে ডাকা হয়েছিল । সত্যি লোকজন ভীষণভাবে আশ্চর্য্য হয়ে গিয়েছিল । লেক গার্ডেন্সের ব্রিজে ওই ভাবে চেঁচামেচি করতে করতে যাচ্ছিলাম । আর ক্যামেরা ছিল গাড়ির ভেতরে , যদি ক্যামেরাটা বাইরে থাকত তাহলে লোকে বুঝতো যে শুটিং হচ্ছে এবং যেহেতু গাড়ির মধ্যে থেকে নেওয়া হচ্ছিল শর্টটা সেই কারণে লোকজন জমা হয়ে গিয়েছিল । কেন আমি ওইরকম চিৎকার চেঁচামেচি করছি । একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার ।

২০১৩ ” খিলাড়ি ” সিনেমা অঙ্কুশ ও নুসরাত জাহান এর সাথে কাজ কতটা আনন্দের ছিল ।

 “ খিলাড়ি ” তে  মজার ব্যাপার হয়েছিল আমাদের যে পুরোহিতদের দলটা ছিল সেখানে প্রবাদ প্রতিম অভিনেতারা ছিলেন । লামা দা ছিলেন , হিরুদা ছিলেন , মেকআপ রুমে দেবাশিস দা ছিলেন ভাবতাম কখন শর্টটা অফ হবে এবং আমরা মেকআপ রুমে গিয়ে বসবো । অঙ্কুশ দার সাথে আগেও আমার কাজ , ফলে অভিজ্ঞতা রয়েছে , সেখানে নুসরাত দি যথেষ্ট বেশি ফেলেক্সিবেল একজন অভিনেত্রী ।

২০১২ সালে ” লে হালুয়া লে ”  সিনেমায় হিরনের সাথে কাজ করে তুমি কতটা আনন্দ পেয়েছিলে ?

 “ লে হালুয়া লে ” তে আমার চরিত্রটা একটু মজার ছিল । ওই রকম ছোট বয়সে যেভাবে আমাকে একটা চরিত্র প্রজেক্ট করা হয়েছিল । আমি একজন দুধওয়ালা ছিলাম ।  রাজা চন্দ যিনি পরিচালক ছিলেন তার একটা প্রফেশন আছে তিনি যেটা করতে চাইছেন তিনি পারফর্মারকে সরাসরি বলে দেন আমার এইটা চাই এবং পরিচালক যদি ওই রকম হন সেক্ষেত্রে পারফরম করতে খুব একটা অসুবিধা হয় না । কারণ  আমরা তার সাথে যখন কথা বলছি স্ক্রিপ্ট রিড হচ্ছে । হিরন দা খুবই একজন এনার্জেটিক সহ – অভিনেতা । সেখানেও ওই চিরদিনের এপ্রোচ ফিরে এসেছিল । কি ব্যাপার তুমি গান করছ না । সেই কথাটাই ঘুরে ঘুরে আসে যখন সেটা আমার কাছে দর্শকের কাছে সেটা খুব এন্টারটেনমেন্ট হয়ে যায় ফলে এই জিনিসগুলো দিয়েছে । সেটা হয়েছে কিন্তু স্ক্রিপ্টের জন্য । সবার আগে স্ক্রিপ্ট যারা লিখেছেন । এটা এক কো – অর্ডিন্যাশন ফলে স্ক্রিপ্ট আগে স্ট্রং হতে হয়েছে । তারপর যারা পরিচালক এবং ক্যামেরা সিনেমাটোগ্রাফার তাদের একটা তারপরে অভিনেতাদেরকে তো ১০০% দিতেই হবে । কিন্তু প্রত্যেকটা টেকনিশিয়ান প্রত্যেকটা অভিনেতা প্রত্যেকটা ডিরেক্টরিয়াল টিম এবং অন্যান যারা যারা ওই সময় ওখানে অ্যাক্ট করছেন তাদের জায়গা পেয়ে তাদেরকেও হান্ডেট পার্সেন্ট প্রতিবার দিতে হয় । তবে একটা আল্টিমেট জিনিস ওই জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায় ।

মিঠুন চক্রবর্তীর ভূমিকা নিয়ে তুমি কি বলবে ?

এমজির সাথে আমার তো সরাসরি দৃশ্য ছিল না । আপনাদের যেটা মিঠুন চক্রবর্তী আমার সেটা (এম জি) । মহাগুরুর সাথে আমার অভিজ্ঞতা অন্যরকমের । আমি যখন “ ডান্স বাংলা ডান্সে ” গিয়েছি তখন তো আমি বুঝিনি । তারপর আমি ডান্স বাংলা ডান্সে  ৪ বছর সঞ্চালনা করেছি । তারপরে “ হাদা ভোদা ” বলে একটা সিনেমা করেছি । এমজির সাথে কারোর তুলনা নেই । ওনার কাছে আমার যে জায়গাটা সেটা কেউ পূরণ করতে পারবে না । উনি আমাকে যা শিখিয়েছেন , উনি আমাকে যে সময় গুলি দিয়েছেন , যেটা একটা কোন অংশেই তার মূল্যে মাপা যাবে না । তারচেয়েও বড় কথা এমজির একটা বড় কথা হবে একজন বিরাট মাপের অভিনেতা এবং যে কারণে আমি ডান্স বাংলা ডান্স হিট হয়েছিলাম । কিন্তু মহাগুরু নিজেকে ওই জায়গায় প্লেস করেছিলেন বলেই । তার কারণ “ ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স”  যখন হয় এমজিকে কিন্তু একজন লিড জাজ হিসেবে ট্রিট করা হয় । সেখানেও কিন্তু একই নানান রকম মজার জিনিস হয়েছে । কিন্তু সেখানে উনি একজন যে মাস্টার চার্জ উনাকে কিন্তু মাস্টার চার্জ হিসেবে ট্রিট করা হয় । এখানে যেটা হয়েছিল সেপারেটলি অন্য জিনিস এখানে জাজ এর থেকেও আমার সাথে ইন্টার-অ্যাকশন এবং আমি বলছি বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা ওইটা যদি একসেপ্ট না করতেন উনি যদি বলতেন না, কেন একজন সঞ্চালক এরকম ভাবে বলবে একজন মেগাস্টার এবং আমি এখানে বিচারক উনি যে ওই জায়গাটায় নিজেকে প্লেস করিয়েছেন , সেই কারণেই কিন্তু আজকে আমার ‘ডান্স বাংলা ডান্সে’র স্টেশনটা এতটা হিট হয়েছে । এটা যদি উনি না চাইতেই উনার সাথে যুদ্ধ মতন প্রতি এপিসোড দর্শক বসে থাকতো । কখন অরিত্র আসবে এবং মহাগুরুর সাথে মারামারি হবে এইটা একটা তর্ক-বিতর্ক মজার একটা জায়গা তৈরি এইটা সম্পূর্ণটা উনি রাজি হয়েছিলেন । প্রোপারলি স্ক্রিপ্ট করে সেটাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেই এটা হিট হয়েছে , না হলে আলাদা করে অন্যান্য যেমন রিয়েলিটি শো হয় সেই রকমই একটা রিয়েলিটি-শো আর হিসেবেই থেকে যেত । আমি এইরকমভাবে সেখানে সাইন করতে পারতাম না ।

সোহম এবং রজতাভ দত্তর সাথে লাভেরিয়া সিনেমায় কাজ কতটা আনন্দময় ছিল ?

এখন তাও থিয়েটারেও হয়না থিয়েটার যাত্রা সর্বোচ্চ জায়গায় থেকে উঠে গেছে । তার কারণ হচ্ছে দর্শক তো আগের থেকেও নিজেরা এখন অনেক ম্যাচিউর হয়ে গিয়েছেন । তারা যারা যাত্রা দেখতে যান তারাও কিন্তু রবিবার করে নেট ফ্লেক্স অ্যামাজন প্রাইম দেখেন তাদের কিন্তু জিও ফোন আছে । ফলে এখন যেকোন পারফরমার যেকোনো প্রডাকশনের , সেটা থিয়েটার হোক , সিনেমা হোক , যাত্রা হোক । আমি দর্শককে একটা জগতে নিয়ে যাব , যখন আমার ওই পারফরম্যান্স চলছে যারা যারা দেখছেন পর্দায় হোম থিয়েটার কোন জায়গায় হোক তারা যেন এই জগতে ঢুকে যায় । তারা যেন মনে করেন আমি একটা পৃথিবী তৈরি করছি সেই পৃথিবীতে শুধু আমরা আছি আর দর্শকরা আছে আর কেউ নেই । সেখান থেকে কিন্তু নিজেই এলেন এবং যখনই বেরিয়ে এলেন তার মানে পারফরম্যান্সটা একটা কারণে ঘটেছে হলে সেটা লাভেরিয়া দিয়েছিল যে ওরকম ভাবে একটা বাচ্চা আর আমার সিন ছিল রনি দার সাথে মানে রজতাভ দত্ত । তিনি সেইরকম ভাবে পারফর্ম করছেন যখন উল্টো দিকের মানুষ ওইরকম ভাবে পারফর্ম করেন , তখন নিজের মধ্যে আরও এনার্জি যেন পূরণ হয় । যে ও ওইরকম ভাবে করছে ওকে ছাপিয়ে যেতে হবে এবং সেই কারণে দৃশ্য গুলি কিন্তু ততটায় হিট হয়েছে এবং তারপরে তার আল্টিমেট মেকিং সংলাপ যেটা বাড়িতে ঢুকে যে দেখো তোমার “ ছোটা ভীম আর ছোট নেই , এখন বড়া ভীম হয়ে গেছে ” এই ডায়লগ । আমার হার্টটা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অপারেট করবেন , সেখান থেকে একটা আওয়াজ বেরোচ্ছে “ বাবাকে শান্তিময় , বাবাকে শান্তিময় ” । এটা পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার না লিখলে , আমি যত ভালোই অভিনয় করি না কেন ? ওই জায়গাটা ওটা তো হিট করে গেল সংলাপটা হিট করেছে কিনা ।

ভিডিও দেখার জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন