হিংসার আগুনে পুড়ে যাওয়া দিল্লি থেকে ফিরল মুর্শিদাবাদের ১১ জন শ্রমিক , স্বস্তিতে পরিবার

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

কথা রাখলেন অধীর চৌধুরী। দিল্লি হিংসায় আটকে পড়া বাংলার ১১ জন শ্রমিক কে ফিরিয়ে আনলেন রাজ্যে।চোখেমুখে আতঙ্ক নিয়ে শুক্রবার কালকা মেলে সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ হাওড়া স্টেশনে ফেরেন শ্রমিকরা।

রবিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া হিংসার জেরে আটকা পড়েছিল মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ১১জন শ্রমিক। ফি বছর কাজের আশায় বাংলা ছেড়ে দিল্লি সহ ভিন রাজ্যে কাজের যায় কালাম শেখদের মতো শ্রমিকরা। মূলত পেটের টান এবং রুটি-রোজগারের আশায় পরিবার পরিজন ছেড়ে ছুটে যায় অন্যত্র। দিল্লিতে যখন আগুন জ্বলছিল ভুখা পেটে ঘরে ফিরবার জন্য ছটফট করছিল ওঁরা। এ খবর গ্রামে পৌঁছাতে সময় বেশি নেয়নি। টিভিতে দেখেছে কীভাবে বন্দুক হাতে পুলিশের সামনে গুলি ছুড়ছে শাহরুখ। হিংসার আগুনে পুড়ে যাচ্ছে আস্ত একটি পরগনা।কিন্তু ঘরের মানুষ কে ফেরাবে কিভাবে?

সিএএ-সংঘর্ষে জ্বলছে গোটা উত্তর-পূর্ব দিল্লি। ইটবৃষ্টি, সেই সঙ্গে গুলি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এই অবস্থায় ঘরের মানুষদের ফিরিয়ে আনতে বহরমপুরের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীর স্মরণাপন্ন হন। দিল্লি থেকে শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনবার তোরজোর শুরু করেন অধীর। কিছুটা হলেও ধাতস্থ হয় দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার গুলো। অধীরের মধ্যস্থতায় শুক্রবার ডাউন কালকা মেল হাওড়া স্টেশন পৌঁছাতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পরিবার পরিজনেরা।

আটকে থাকা শ্রমিকদের কথায়, কি চলছে দিল্লিতে তার খবর আমাদের কানে যেতেই ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলাম। এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। খাবার কিনব সেই রকম সুযোগ নেই। নিঃশ্বাস ফেলবার আওয়াজ বাইরে গেলেই বিপদ। জীবন নিয়ে ফিরব কিভাবে সেটাই ছিল বড় প্রশ্ন। রাজ্যে ফিরতে পারায় অনেকটাই আস্বস্ত। সাংসদ কে ধন্যবাদ জানিয়েছে। কিন্তু বাইরে না গেলে কি আমাদের পেট চলবে?

শুক্রবার দুপুর অবধি দিল্লি হিংসায় আহতের সংখ্যা ৩০০। গুলিবিদ্ধ ৮০ জন। গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এলএনজেপি হাসপাতালে ৩ এবং জেপি হাসপাতালে১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন একটি সময়ে রবিবার শহরে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লির সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলবেন বলেই বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত।