আমতায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য রক্তদান ও পরিবেশ সচেতনতা শিবিরে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মন্ত্রী নির্মল মাজি

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া : থ্যালাসেমিয়া, রক্তাল্পতা জনিত জীবানু নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের শরীরে প্রয়োজন প্রাণদায়ী রক্তের। তা যোগান দিতে সাধারণ মানুষকেই এগিয়ে এসে মানবতার ধ্বজা মুষ্টিবদ্ধ করতে হবে। শীতের শেষ বেলায় আমতার যুবকরা এগিয়ে আসলো থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে। আর তাঁদের যোগ্য অলংকরণ দিলেন এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী নির্মল মাজি।

রবিবাসরীয় উষ্ণতা বাড়া দিনে আমতার দেওড়া জাগৃতি সংঘ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য রক্তদান, একিসঙ্গে পরিবেশ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করেছিল। সাড়াও পড়েছিল তাতে। সংঘের সম্পাদক কাশীনাথ দেয়াটি জানান, আমরা এই ধরনের সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করেছি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত দের পাশে থাকার জন্য। পাশাপাশি জলের অপচয় রুখতে এবং পরিবেশের বর্জ্য পরিস্কার রাখতেও সচেতন করতে চেষ্টা করেছি। এলাকার গৃহবধূরা এসেছিলেন অনুষ্ঠানে যোগদান করতে।

শ্রম দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী নির্মল মাজি বলেন, একসময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমরা তোমাদের স্বাধীনতা দেব। সেই রক্ত এখন কিছু হিংস্র মানুষ নষ্ট করছেন। মানুষ মানুষকে খুন করবে, আবার মানুষ তার বিচার করবে। মনে রাখবেন জাতের নামে কিছু বজ্জাতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে শেষ করে দেবার চক্রান্ত করছে। তাঁদের বলি মত বাটো ইনসান কো। সব ধর্মের, সব বর্ণের, সব সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের বাংলার মানুষ। সুখে দুঃখে, বিপদে-আপদে, যন্ত্রণায়, অসুস্থ সমস্ত মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলাটাই আমাদের কাজ। তারজন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আমরা জারি রাখব।

চিকিৎসকদের কথায়, গ্রাম-বাংলার মানুষের কাছে থ্যালাসেমিয়া কতটা মারাত্মক তা বুঝবার আগেই অনেকটা ক্ষতি হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে যে আক্রান্ত তাঁর কিন্তু বড় মাপের কোন সমস্যা থাকে না। মূলত শিশুদের সমস্যা বলতে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকে। সেইসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া কমে হওয়া। তারপর থেকে শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যেতে থাকে। রক্তাপ্লতা জনিত কারণে শিশুর বৃদ্ধি আটকা পড়ে। রক্তের প্রয়োজন হয় বেশি। একমাত্র রক্ত শরীরে গেলে তবেই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের নিঃশ্বাস প্রশ্বাস সচল হবে। জীবন সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।