বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের আজ মৃত্যু দিবস

প্রসেনজিৎ বিশ্বাস ,কলকাতা  ঃ ১৯২১ সালের ২ মে সত্যজিৎ রায় কলকাতা শহরের খ্যাতনামা রায় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল , তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কিশোরগঞ্জে বর্তমানে বাংলাদেশের উপজেলা মশুরা গ্রামে।তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

     তিনি নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন একজন বিজ্ঞাপনের জুনিয়ার ভিজ্যুয়ালাইজার হিসাবে। ১৯৪৯ সালে ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক জর্নোয়ার কলকাতার দি রিভার ছবির শুটিং করতে এলে, সত্যজিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে। ১৯৫০ সালে লন্ডনে গিয়ে তিনি ভিত্তরিও দে সিকার লাদ্রি দি বিচিক্লেত্তে (বাই সাইকেল চোর) দেখার পর তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্বুদ্ধ হন।

   তিনি ছিলেন একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা,চিত্রনাট্যকার, শিল্পনির্দেশক ,সংগীত পরিচালক এবং লেখক।যিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একজন ছিলেন।

চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি ছিলেন বহুমুখী। তিনি ৩৭ টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র , প্রামাণ্যচিত্র , স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

    তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী।এই ছবি নির্মাণে তিনি এগারোটা আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। পথের পাঁচালী , অপরাজিত , অপুর সংসার এই তিনটি অপু ত্রয়ী নামে পরিচিত। এছাড়া তিনি, পরশপাথর , জলসাঘর , তিনকন্যা, পোস্টমাস্টার, মনিহারা , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , কাঞ্চনজঙ্ঘা ,অভিযান , চারুলতা , গুপিগাইন বাঘাবাইন , সোনার কেল্লা , হীরক রাজার দেশে ইত্যাদি অসংখ্য ছবি পরিচালনা করেন।

   সত্যজিৎ রায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব গুলিতে এবং অন্যত্র অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে ৬৪ তম একাডেমি পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রদত্ত একটি সান্মানিক একাডেমী পুরস্কার পান। ১৯৮৪ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান। ১৯৯২ সালে ভারতরত্ন পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে ভারত সরকার চলচ্চিত্র গবেষণার জন্য সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।

    ভারত ও বিশ্বব্যাপী বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছে সত্যজিৎ রায় একজন সংস্কৃতিক প্রতিভু। বাস্তববাদীর সঙ্গে কাল্পনিক চরিত্রে ছবি নির্মাণ করেন।যার মধ্যে প্রফেসর শঙ্কু,ফেলুদা অন্যতম। তার মৃত্যুর পর কলকাতার জীবনযাত্রা একেবারে থেমে যায়। ১৯৯২ সালের আজকের দিনে তিনি মহাপ্রয়ান করেন।