কেরিয়ারের শুরু থেকেই মেট্রোর মুকুটে পালক, আর লোকাল ট্রেন বস্তাপচা গল্প শোনাচ্ছে

কল্যাণ অধিকারী

বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে বাসে ঝুলে, ট্রেনে কনুইয়ের গুঁতো খেয়ে, অটোয় গা দোলানি ধাক্কা খেয়ে, শহরে অফিস করেছেন। তারপর! তারপর রুপোলি ম্যাজিক ‘পাতাল রেল’।
কয়েক দশক ভ্যাপসা ভিড়েও অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে।

ছোট জায়ের রান্না, হাঁডিকুডি নিয়ে বসে থাকা বড়বউ, বিধবার বেসে বেহুলা, মেজদিদির হাতের ফোঁটা, সেকেলে গল্পের ইতিহাস টেনে এ শহর এখন সাবলম্বী হয়েছে। ঠিক তেমনি, কেরিয়ারের শুরুর সময়ে মেট্রো আর আজকের মধ্যে অনেকটা ফারাক।

কলকাতার মেট্রো এখন অনেক বেশি আধুনিক। সঠিকভাবে দরজা বন্ধ হয়! আগুনের ধোঁয়া বের হয় না। কম টাকার টিকিট কেটে বেশি পথ ভ্রমণ সেটাও কমেছে। আর এবার আরও একটি নতুন রুটে মেট্রোরেল চালু হল বৃহস্পতিবার।

সুইসাইড জোন এখন ক্রিনডোরে ঘেরা, উন্নততর বসার সিট, সমস্যার কবলে পড়লে চালকের সঙ্গে কথা বলা ইত্যাদি ইত্যাদি।

ফিসফিসিয়ে অনেকেই বলছে, মানুষের জন্য মেট্রোর চাকা তো গড়াল। কিন্তু মাটি ও মা এবং মানুষের কপালে দূর্ভোগ চিরতরে বিদায় নিল কি?
ও দিকে বনগাঁ লোকাল, এ দিকে মেদিনীপুর লোকালে যাতায়াত করা ব্যক্তিদের কথাটা মনে রয়েছে তো মাননীয় রেলমন্ত্রী মহাশয়!

মাছের বাজারে যাওয়া, কাজের মেয়েটা সবাই এখন ট্রেনের টিকিট কেটে প্ল্যাটফর্মে পা দেয়। তারপরও আধঘন্টা তো ঘন্টাখানেক দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়! আমি, আমরা লোকাল ট্রেনের সুদিনের গল্প বহুবার শুনেছি। মুন্না ভাইয়ের মতো ‘জাদু কি ঝাপ্পি’ দিয়ে চেষ্টা করুন সময়ে ট্রেন চালাতে।

আমরা বাঙালি বাংলা ভাষায় কথা বলি। অন্য ভাষাতেও কথা বলি না যে তা নয়! ওই যে হাওড়া ব্রিজ পার করলেই সাবজি ট্রেন বহুত লেট মে ঘুষা। নেহি তো সময় পে কাম পে আজ আ জাতা।