করোনার জের বন্ধ সীমান্ত কৃষকদের কৃষিকাজ

রবীন্দ্রনাথ বর্মন, দিনহাটা, ১৬ এপ্রিল : ভিনরাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের রুখতে সমস্ত সীমান্ত বন্ধ করে দিতে রাজ্যগুলিকে অনুরোধ করা হয় কেন্দ্রের তরফে। সেই অনুযায়ী  বন্ধ করা হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার । শুধুমাত্র চালু রাখতে বলা হয়েছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য চলাচল ব্যবস্থা । যাতায়াত থমকে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে ওপার বাংলায় কৃষিক্ষেত্রের রক্ষনাবেক্ষনে সমস্যায় পড়েছে এপার বাংলার কৃষকরা।

দিনহাটা ২নং ব্লকের ৭নং বিধানসভার অন্তর্গত বেশ কয়েকটি অঞ্চলের ঘটনা। ওই অঞ্চলের কৃষকদের কাঁটাতার লাগোয়া কৃষি জমি আছে । এই অঞ্চলগুলি হল শুকারুর কুটি, চৌধুরীহাট, বামনহাট ২নং, কালমাটি, সাহেবগঞ্জের কিছু অংশ। ওই অঞ্চলের স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ করোনা মোকাবিলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে , তাতে এমন কোন সরকারের নির্দেশিকা ছিল না যে কৃষকরা জমিতে চাষাবাদ করতে পারবে না। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে , জমায়েত করা যাবে না। বরং কাজ করতে হলে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় বজায় রেখে কাজ করতে হবে । কিন্তু গত ১০ মার্চ থেকে বিএসএফ ১৯২ নং ব্যাটেলিয়ান কাঁটাতারের ভিতরে প্রবেশের গেট বন্ধ করে দিয়েছে । এর ফলে ওই এলাকার সীমান্তবর্তী ভিতরে ও বাহিরে ৫০০ মিটারের মধ্যে জমিতে পাট, আখ, ভূট্টা, পান, কলা সহ বিভিন্ন ফসলে টান পরেছে , এপার বাংলার কৃষিক্ষেত্রের মালিক ওপার বাংলায় থাকা জমির মালিকের। এমনকি , কাঁটাতারের ভিতরের পরিবারগুলির খাদ্যসামগ্রী সরবরাহে যথেষ্ট অসুবিধায় পরছে স্থানীয়রা। শ্রমজীবী কৃষকরা দেশের কান্ডারী , তাদের ওই ফসল নষ্ট হলে কি খাবে ?  সেই চিন্তা প্রহর গুনছে তারা।

এমনকি স্থানীয়রা আর ও অভিযোগ তুলেছেন ওই এলাকাগুলির দায়িত্ব থাকা বিএসএফ জওয়ানদের ওপর অকারণে বাড়িতে ঢুকে মারধর এছাড়া মহিলাদের অশ্লীন গালিগালাজ করে জওয়ানরা । তবে এর প্রভাব যে দেশের অর্থনীতিতে টান পরবে , তা কিন্তু স্পষ্ট।