শীততাপ নিয়ন্ত্রিত প্রসূতি বিভাগ চালু হল জয়পুর গ্ৰামীণ হাসপাতালে

অভিজিৎ হাজরা, হাওড়া :- বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। সংক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর যুদ্ধ চলছে। মানুষ সমস্ত কষ্ট নিরবে সহ্য করছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে লকডাউনের প্রভাবে মানুষের কাজ গেছে। হাতের পুঁজি শেষ হয়েছে।এর পাশাপাশি আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ে শেষ স্বপ্ন ও মুছে যাওয়ার সাক্ষী হাওড়া জেলার প্রত্যন্ত গ্ৰামবাংলার মানুষ। এর মধ্যে চলেছে উন্নয়ন।যার উজ্জ্বলতম নিদর্শন হাওড়া জেলার আমতা ২ নং ব্লকের জয়পুর বি বি ধর গ্ৰামীণ হাসপাতাল।লকডাউন ও আম্ফানে গ্ৰাম বাংলায় ক্ষতি হলে ও এরই মধ্যে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগ শীততাপনিয়ন্ত্রিত হল। জয়পুর বি বি ধর গ্ৰামীণ হাসপাতালের শীততাপনিয়ন্ত্রিত প্রসূতি বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা আমতা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সমাজসেবী সুকান্ত পাল।
শীততাপনিয়ন্ত্রিত প্রসূতি বিভাগের উদ্বোধন করে সুকান্ত পাল বলেন,” বাম জমানায় ১৯৮৬ সালে এই হাসপাতাল তৈরী হলেও রোগীরা স্বাস্থ্য পরিষেবা সেরকম ভাবে পায়নি। হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নত মানের ছিল না। হাসপাতাল কে উন্নত মানের করার জন্য এলাকার মানুষরা তৎকালীন সময়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিল। কিন্তু বাম সরকার মানুষের সেই আবেদন কে কোন গুরুত্ব দেয়নি। হাসপাতাল উন্নয়নের জন্য কোনো চেষ্টাই করে নি।২০১১ সালে রাজ্যের শাসন ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর অনুপ্রেরণায় রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। সেই উন্নতির ছোঁয়া এবার এসে লাগল জয়পুর বি বি ধর গ্ৰামীণ হাসপাতালে।গ্ৰীষ্ণকালীন সময়ে প্রচন্ড গরমে এই হাসপাতালে প্রসূতি ও তার সদ্যজাত সন্তান প্রচন্ড অসুবিধার সম্মুখীন হতো। সেই কারণে এবার এই হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগের ১৮ টি বেড শীততাপনিয়ন্ত্রিত করা হল।” তিনি আরও বলেন,”আগামী দিনে এই হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড শীততাপনিয়ন্ত্রিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। রোগী ও তার আত্মীয় স্বজনদের জন্য প্রতীক্ষালয় আছে। আগামী দিনে আরও প্রতীক্ষালয় বাড়ানো হবে”। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জয়পুর বি বি ধর গ্ৰামীণ হাসপাতালের সুপার সুকান্ত বিশ্বাস।