করোনা’র আতঙ্কের মাঝে গুজবে ওষ্ঠাগত গ্রামীণ এলাকার মানুষজন

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

চিনের হুবেই প্রদেশ থেকে পঁচিশশো কিলোমিটার দূরে কলকাতা শহরে করোনা আতঙ্ক শিখরে। এমন একটি সময় মানুষজন যতটা সম্ভব সচেততনতা বজায় রাখা প্রয়োজন। কিন্তু করোনা গুজবের জেরে পাশের জেলা হাওড়ার গ্রামীণ এলাকার মানুষজন ওষ্ঠাগত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যে ব্যবস্থা গ্রহন করতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।

গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জানা গেছে, করোনাভাইরাস যে ভাবে ছড়াচ্ছে আর থেকে বেশি ছড়াচ্ছে গুজব ও হোয়াটসঅ্যাপে ফেক খবর। শনিবার সকাল শুরু হয়েছে এমনি একটি গুজব দিয়ে। কলেজ পড়ুয়া অমিত সাসমল, অবিনাশ সরকার, বিনয় কাঁড়ার প্রত্যেকের কথায় গুজব ছড়াতা তো আর প্রয়োজন হয় না হাত বা পায়ের। ঘুম ভাঙতেই কানে আসে শঙ্খধ্বনি। তারপর জানতে পারি বাড়ির ঈশান কোনে মাটি খুঁড়লেই নাকি বেড়িয়ে আসছে কাঠকয়লা। ওই কাঠকয়লার টিপ গঙ্গাজল দিয়ে কপালে পরলে করোনা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম। এমন গুজবে রীতিমত হুলুস্থুল পরে যায় বিভিন্ন এলাকায়। বয়স্ক মানুষ এবং মহিলারা বেশি আকৃষ্ট হয়েছে বলে জানা যায়।  

ভাইরাস গুজবের কারণে বাজার হঠাত করেই গরম। চাল-ডাল-তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে লম্বা লাইন মুদি দোকানে। ১৪টাকা কেজি আলু ২০ কোথাও আবার ২২-২৫। মুরগি যেখানে ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আলুর দাম লাফিয়ে বেড়ে গিয়েছে। এটা হচ্ছে আতঙ্কে মজুত করবার কারণে। লক ডাউনের মতো পরিস্থিতি একাধিক রাজ্যে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি যদি ঘর বন্দি করে দেয়। সেক্ষত্রে পরিবারের খাদ্যের জোগান আসবে কীভাবে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা নবান্নে জানিয়েছেন, বাজার বন্ধ থাকবে বলে কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছে। পণ্য মজুত রাখলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আতঙ্কিত হবার কিছুই নেই।” মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও ধুলোগড়, জগতবল্লভপুর, আমতা, জয়পুর, বাগনান, শ্যামপুর, উলুবেড়িয়া সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সাময়িক আলু সংকটের চেষ্টা হচ্ছে বলে খবর আসছে। সাধারণ মানুষ বাধ্য হচ্ছেন চাল-ডাল-আটা-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আগাম কিনে মজুত রাখতে।

করোনা ভাইরাস নিয়ে গুজব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মধ্য দিয়ে ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। শহরের বিভিন্ন এলাকার নাম দিয়ে গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মেসেজ। বলা হচ্ছে ওই এলাকায় এতজন আক্রান্ত। ওই সমস্ত ছবি স্ক্রিনশট নিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর এভাবেই ছড়াচ্ছে গুজব। অন্যদিকে শনিবার সকাল থেকে বাকি দিনের মতোই ছিল আতঙ্ক মোড়া। বেলার দিকে রাস্তাঘাট মানুষের ভিড় ছিল কম। রবিবার সকাল ৭টা থেকে ১৪ ঘণ্টার জনতা কার্ফুর ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে সপ্তাহের শেষ দিন দুপুরের পর থেকেই হাওড়া থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলি ছিল ঠাসা ভিড়। এ দিন হাওড়ার ফটোগ্রাফি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে হাওড়া শহরের দাসনগর থানা, ডোমজুড় থানা এবং বাঁকড়া এলাকায় বিতরণ করা হয় মাক্স। একি সঙ্গে করোনা সচেতনতার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষদের হাতে দেওয়া হয় লিকুইড এবং মাস্ক।