মুরগির ছাল , নাড়ি – ভুড়ি কুকুরের মুখে ঘুরছে , রক্তমাখা জল মিশছে পুকুরে , থেকে যাচ্ছে ভাইরাসের আশঙ্কা !

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিনে মৃত্যুর সংখ্যা দু হাজারের গায়ে পৌঁছেছে। এমন একটি সময় এ রাজ্যে মুরগি জাতীয় পশুর ব্যবহার নিয়ে স্বাস্থ্য দফতর গা-ছাড়া ভাবটাই স্পষ্ট! যততত্র ফেলা হচ্ছে মুরগির দোকানের রক্ত মাখা জল, পালক সহ বিভিন্ন অংশ। এ থেকেই রোগ ছড়াবার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে বলেই অনেকের আশংকা।

পড়শি দেশ চিন ভাইরাসের সঙ্গে লড়ছে। প্রতিদিন মৃত্যুর রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়ছে। তাতে হুঁশ নেই যেন ওঁদের। জেলার সর্বত্র মুরগির ব্যবহারে স্বাস্থ্য দফতরের নজরদাড়ি না থাকার কারনে মুরগির দোকানের বর্জ্য প্রকাশ্যে ফেলা হচ্ছে। পশু-পাখির মুখে করে ঘোরাঘুরি করছে বিভিন্ন স্থানে। মুরগির শরীর থেকে সাদা পাতলা ও দুর্গন্ধযুক্ত মল বের হয়। তা যদি কোনভাবে খাবারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ডাইরিয়া হবার সম্ভাবনা থেকে যায়। স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকার কারণে চিন জুড়ে আজ মানুষ মৃত্যু আতঙ্কের দিন গুনছে। মুখে মাস্ক পড়েও মৃত্যু আটকানো যাচ্ছে না। তারপরও এখানে বেহাল চিত্র।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গ্রামীণ এলাকায় মুরগির দোকানের বর্জ্য সরাসরি পুকুরে গিয়ে মিশছে। পালক সহ শরীরের অংশ কুকুরের সামনে ছুঁড়ে দেয়। টুকরো টানাটানি করে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। কাক ঠোঁটে করে অন্যত্র উড়ে যায়। বহুক্ষেত্রে দেখা গেছে মুরগির অংশ সরাসরি ফেলা হচ্ছে খালে-নদীতে। ভাইরাস আতঙ্কের মাঝে এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই স্বাস্থ্য দফতরের গাফিলতিকেই দুষছে। গ্রাম্য এলাকায় পরিযায়ী পাখি থেকে এ জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা কম থাকলেও কাকের মুখে করে এবং বাদুরের দেহ থেকে বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে যায়। মুরগির দোকানের পাশে মাংস কাটোবার সময় জীবিত মুরগির শরীর থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত মাটিতে পড়ে। দিনভর তা মাটির উপর পড়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। সমস্তটা হচ্ছে সচেতনতার না থাকার কারণে। কয়েক বছর আগে ‘বার্ড ফ্লু’ রোগ ছড়িয়েছিল। সম্প্রতি চিনের করোনাভাইরাসের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকেছে। অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, মুরগির দোকানের বর্জ্য কখনই প্রকাশ্যে ফেলা যাবে না। পুকুর বা খালের জলে মিশলে তা থেকে জল দূষণের সম্ভাবনা থেকে যায়। করোনাভাইরাসের মতো রোগের আশঙ্কা নেই। তবে যাই খান ভালো করে ফুটিয়ে ও সিদ্ধ করে খাবার খান।

নাগরিক সমাজের কথায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুরগির মাংসের দোকানগুলি অস্বাস্থ্যকর। দুর্গন্ধ ছড়ায়। পোল্ট্রি খামার গুলি থেকেও জীবাণু ছড়ায়। দেখা যায় শয়ে শয়ে মুরগি মরে গেছে। তা খামারের পাশেই কোন জমিতে অল্প খুলেই পুতে দেওয়া হয়। পরে দেখা গেছে শিয়াল-কুকুরে টেনে নিয়ে সর্বত্র ছড়িয়েছে। সচেতনতা গড়তে হবে।