ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার লড়াই এবার বাংলায়  আগামীদিনে যমুনার পাড়েও পৌঁছাবে

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

জিডিপি চুপ। দেশের বেকারত্ব সমস্যা চুপ। শিল্পের দূর্দশা চুপ। নেতাদের মন্তব্য চুপ। দ্রব্যমূল্য চুপ। সিবিআই চুপ। কাশ্মীর চুপ। পাকিস্তান সীমান্ত চুপ। সমস্তটা চুপ করাতে দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার প্রথমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং সম্প্রতি নাগরিক সংশোধনী বিল গায়ের জোরে দেশবাসীর উপর চাপিয়ে দিতে তৎপর হয়েছে। নাগরিক সংশোধনী বিল (সিএবি) বিরোধিতায় এভাবেই বক্তব্য পেশ করছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।

উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত রাজ্যের মানুষ গুলো যে ভাবে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সেই আঁচ এবার বাংলায়। শুক্রবার হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় বিক্ষোভের শুরুটা হয় ৬নং জাতীয় সড়োক অবরোধ করে। পরবর্তী সময় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে উলুবেড়িয়া স্টেশনে। হাওড়া-খড়্গপুর শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রেল লাইনের ধারে থাকা পাথর ছুড়ে হামলা চালানো হচ্ছে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনগুলিতে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ রাজনৈতিক সাপ-লুডোর চালে পরশু অসম। কাল ত্রিপুরা। আজ বাংলায়। ওঁরা বলছে দেশ এগিয়ে চলেছে কিন্তু কোথায়। আমরা চলেছি পিছন-পানে। হাঁ এই সময়ের এটাই অসম-ত্রিপুরা একিসঙ্গে বাংলা।

বিক্ষোভকারীদের কথায়, প্রতিদিন পালাও! পালাও! বলছে লোক। একদিকে ব্রহ্মপুত্র নদ, বরাক উপত্যকা অন্যদিকে উত্তর কাছাড় পর্বতমালা। এমন একটি দেশে বৃষ্টি পড়লে অন্য দেশের নেটওয়ার্ক চলে আসে। ওঁরা আবারও জেগে উঠেছে। আরও একটা জলন্ত শিখার ঘুষঘুষুনি উত্তাপ গায়ে লাগতে শুরু করেছে। পায়ের তলার মাটি যেন বলে দিচ্ছে অসম যেটা দেখিয়েছে এবার দেখাতে শুরু করেছে অন্য রাজ্য। অসমে সকাল হলেই ভারি বুটের শব্দ। জলপাই পোশাক পরা মানুষজন ঘোরাঘুরি করছে। লক্ষ্য স্থির করে রাখা বন্দুকের নল। ট্রেন বন্ধ। বিমান পরিষেবা সাময়িক বন্ধ। এ কিসের পদধ্বনি।সংসদ থেকে হুঙ্কার দেওয়া হচ্ছে বাংলাতেও হবে সিএবি। এ কিসের পদধ্বনি। দেশের মানুষ এর প্রতিবাদ জানাবে। মানুষকে বোকা বানানো অত সহজে যাবে না।  

ক্যাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে উলুবেড়িয়ায় করমন্ডল‌ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের উপর পাথর বৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভ কারীদের বিরুদ্ধে। অমিত শাহর কুশপুতুল পোড়ান হয়েছে বলেও জানা গেছে। নিমদিঘি থেকে জাতীয় সড়ক রুদ্ধ করে মিছিলে অংশ নিয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। মিছিলে ছোটদের হাঁটতে দেখা গিয়েছে। অপর মিছিলটি নরেন্দ্র সিনেমা হলের মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত ৬নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন রাস্তার মাঝখানে টাওয়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।