“বিশ্ব জুড়ে নারী দিবস পালন”

সংবাদদাতা হেমাশ্রী বিশ্বাস, কলকাতা

আয়ুষ রায় দ্বারা সম্পাদিত 

প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস যার আদি নাম আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়। এই দিন গোটা বিশ্বব্যাপী নারীরা বর্ন ভেদ ধর্ম নির্বিশেষে এই নারী দিবস একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে উদযাপন করে থাকেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নারীদিবস উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য বিভিন্ন প্রকারের হয়। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদযাপনের মুখ্য বিষয় হয়, আবার কোথাও মহিলাদের আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাটি বেশি গুরুত্ব পায়।

প্রথম ৮ মার্চ, ১৯১৪ সালে নারী দিবসের বিজ্ঞাপনচিত্র এটি

IMG-20190308-WA0007

ইতিহাসের পাতা থেকে◆

এই নারী দিবসটি উদযাপনের পেছনে মূলত রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে বরাবরের মতোই চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর আক্রমণ,দমন-পীড়ন।

বিশ্বের প্রথম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল নারী সমাবেশের ।
যেখান জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন শুরু হয়েছিল। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ। জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন।
এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন দিবস অনুষ্ঠিত হয় ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে।

IMG-20190308-WA0002

যেখানে মোট ১৭টি দেশ থেকে প্রায় ১০০ জন নারী এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। এই দ্বিতীয় সম্মেলনে ক্লারা ৮ মার্চকে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হয়। দিবসটি উৎযাপনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা।

উল্লেখ্য আন্তর্জাতিক নারী দিবসটি যথাক্রমে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চে পালিত হতে লাগল। এমনকি বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। শুধুমাত্র তাই নয় ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এমনকি জাতিসংঘের তরফেও দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায়। তারপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের অভিপ্রায়ে।

আধুনিক সংস্কৃতি সম্পাদনায় বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে, সরকারী ছুটির দিন  হিসেবে পালিত হয়। তার মধ্যে- আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া,আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি-বিসাউ, ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজিস্তান, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং জাম্বিয়া।
এছাড়া, চীন, মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার, এবং এই পর্যন্ত শুধুমাত্র নেপালের নারীদের ই সরকারি ছুটি দেওয়া হয়।

‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’।