অনুভূতি

শর্মিষ্ঠা দত্ত:-

আয়ুষ রায় দ্বারা সম্পাদিত

মেয়েটা তখন সবে চোদ্দ তে পা দিয়েছে। জীবনের রঙ গায়ে মাখতে শুরু করেছে। আর চার পাঁচটা মেয়ের মতই সে। তবে একটু অন্যরকম। সহজ-সরল, সাদাসাপটা, মিষ্টি মেয়ে। এক কথায় ওরকম মেয়েকে অনেকেরই পছন্দ। বাবা-মায়ের পরম আদরের স্নেহের মেয়েটা অর্থাৎ ‘শ্রীয়া’ একদিন পছন্দ করল তার এক প্রতিবেশীকে। শ্রীয়ার থেকে চার বছরের বড় নীল। কোনোদিন সেভাবে কথা হয়নি ওদের। নীল শ্রীয়াকে করুণ দৃষ্টিতে দেখত। এইভাবে চলতে চলতে শ্রীয়া একদিন নীলের কাছে আত্মসমর্পন করল নিজেকে। কিছুদিনের কথায় শ্রীয়া বুঝতে পারল নীলেরও শ্রীয়াকে পছন্দ। কিন্তু শ্রীয়া কোনোদিন নীলের মুখে ভালোবাসার কথা শোনেনি। শ্রীয়া অপেক্ষায় থাকত নীলের ভালোবাসার জন্য। দেখা করার কথা বললেও নীল এড়িয়ে যেত। তাও শ্রীয়া আশা রাখে নীলের ওপর।

নীল তখন বাইরে পড়তে যাবে। সেই উন্মাদনায় সে উত্তাল। ওদের প্রায়সই কথা হত। শ্রীয়া যে খুব ভালোবাসত নীলকে, আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিল। একদিন ওরা ঘুরতে গেল কিন্তু কেউ ঠিক করে কথা পর্যন্ত বলেনি। কয়েকদিন পর নীল পড়তে চলে গেল বাইরে। ওর আলাদা জীবন। শ্রীয়া থাকত নীলের ফেরার অপেক্ষায়। কিন্তু নীলের অবহেলা শ্রীয়ার দিদি এবং বন্ধুদের চোখে পড়ে। ভালোবাসা কখনও একতরফা হয় না এই বলে ওরা শ্রীয়াকে বোঝায়। ফিরে আসতে বলে ওই সম্পর্ক থেকে। অবশ্য ওরা তখনও ঠিক সম্পর্ক অবদি এগোয়নি। কিন্তু ওরা যে দিনের পর দিন রাতের পর রাত কথা বলে গেছে। তাহলে কি নীলেরও টান ছিল শ্রীয়ার প্রতি?

এভাবে চলে প্রায় আট মাস। কোনো উত্তর আসেনি নীলের থেকে। মনমরা শ্রীয়া। ঠিক তখনই শ্রীয়ার সাথে আলাপ হয় শুভ’র। ও সবই জানতো শ্রীয়ার ব্যাপারে। আগলে রাখে শ্রীয়াকে। খুব ভালোবাসে শুভ ওকে। দুজনে মিলে ভালোবাসায় বেঁধে থাকল। ওদের সম্পর্ক আজ প্রায় ছয় বছরের। বিয়ে করবে ওরা কিছুদিন পর। চোদ্দর মেয়ে আজ একুশে, সবেমাত্র কলেজ পাশ করেছে ফার্স্টক্লাস নিয়ে। শুভ-শ্রীয়ার সম্পর্কের ছয় বছরের মধ্যেও নীলের সাথে মাঝে মধ্যে কথা হয় শ্রীয়ার। নীলও এখন কলকাতায় থাকে। ভালো চাকরী করে। প্রথম প্রেম ভোলা যায় না, তাই হয়েছে শ্রীয়ার। খুব ভালোবাসত যে নীলকে। এতদিনের কথপকথনে শ্রীয়া বুঝতে পারে নীলও চায় শ্রীয়াকে। হঠাৎ একদিন নীল ক্ষমা চায় শ্রীয়ার কাছে।                                                         (মেসেজে কথা হয়)  নীল- তুই শুভ কে নিয়ে ভালো থাকিস। আমি তোকে কোনোদিন সুখী করতে পারবনা। তোকে আঘাত দিতে চাই না।

শ্রীয়া- আঘাত অনেকদিন আগেই দিয়েছ।

নীল- সরি, মাফ করে দিস। আমার ভুলে আমি তোকে হারিয়েছি। কী কারণ জানিস? বাইরে চলে যাব। জানিনা ভবিষ্যৎ কী। আমার তোকে ছোটো থেকে খুব পছন্দ। চাকরীর কোনো স্থিরতা নেই। যেকোনো দিন যেখানে। ভাবিনি কলকাতায় কাজ পাব। ভুল করেছি আমি তোকে হারিয়ে।

শ্রীয়া- এই কথাগুলো আগে বলোনি কেন? (নিশ্চুপে কাঁদে শ্রীয়া)

নীল- কেন আমায় জোর করলি না সেদিন? কেন আমায় আটকালি না? জানি এসব কথা বলা উচিত না। তুই ভালো থাক শুভর সাথে।

(মনে মনে ভাবে শ্রীয়া) — আমিও তোমায় ভালোবাসি এখনও নীল। তোমার জায়গা আমার মনে চিরতরে আলাদা থাকবে।

image-6-11

এই ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই দুজন দুজনের মনে। জানি কোনো রূপ নেই এই সম্পর্কের। তবুও আমার ভালোবাসা একান্তই আমার। নীল এর শরীরে অন্য নারীর শরীর ছোঁবে। আমিও পুরোপুরি শুভ’র। কিন্তু ওই যে প্রথম ভালোবাসা আমার জীবনে। ভুলতে পারিনা। আজও একটা কথা নীল কে জিজ্ঞাসা করি— “আমাদের গেছে যে দিন, একেবারেই কী গেছে- কিছুই কি নেই বাকি?”