স্তন ক্যান্সার কি, কেন হয়?

 শর্মিষ্ঠা দত্তঃ-

স্তন ক্যান্সার বর্তমান কালের একটি পরিচিত রোগের নাম। রোগটি সবার কাছে পরিচিত হলেও এর ভীতি এতটুকু কমেনি। স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। ৪৫ বছরের বেশি বয়সের মধ্যে এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি সবচেয়ে বেশি। এক হিসেবে দেখা যায় যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৪৫ হাজার মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বর্তমান সমাজের জীবনযাত্রার ধরণ ধারণই প্রধান কারন স্তন ক্যান্সারের।

বর্তমানে কনসস্ মায়েরা তাদের সন্তানকে স্তন্যপান করান না শারীরিক গঠন নষ্ট হওয়ার ভয়ে। কিন্তু মা হওয়ার পরে যে শারীরিক পরিবর্তনগুলি আসে সেগুলি বাধাপ্রাপ্ত হয় ফলে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা প্রবল হয়। অবিবাহিতা মহিলা অথবা যারা দেরী করে সন্তান ধারণ করেন তাদের ক্ষেত্রে এই ক্যান্সার হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে ৩০ বছরের মধ্যেই সন্তান ধারণ করা উচিত। এছাড়াও আলকোহোল প্রচুর পরিমাণে শরীরে গেলে স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সিলিকন বা স্তন বৃদ্ধিকারী যে তেলগুলি রয়েছে সেগুলিও স্তন ক্যান্সারের কারন বলা যেতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভপাতও ক্যান্সারের কারণ হতে পারে৷

IMG-20190510-WA0004

স্তন ক্যান্সারের রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রায় মহিলাদেরই স্তন ক্যান্সার জিন গত কারণে হয়ে থাকে। প্রত্যেক মাসে অন্তত একবার আয়নার সামনে দাড়িয়ে নেজেই নিজের পরীক্ষা করতে হবে। স্তনে কোনো সিস্ট বা আকারে পরিবর্তন হয়েছে কিনা দেখতে হবে। যদি দেখা যায় অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধি হয়েছে, তখনই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। নিজের অন্তর্বাসগুলি ভালো করে ধোওয়া ও সময়মত পরিবর্তন করা উচিত। বর্তমান দিনে বিশেষ করে গরমে ডিও বা বডি স্প্রে ছাড়া ভাবাই যায় না। কিন্তু এটি স্তন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। প্রয়োজনমতো ব্যবহার এবং সরাসরি ব্যাবহার না করে জামা কাপড়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

যতদিন যাচ্ছে স্তন ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বর্তমান কালের খাদ্যাভাস তার একটি কারণ। ইদানিং কালে ফাস্টফুড খাওয়ার চল বেশি কিন্তু এটি অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ময়দার তৈরি খাবার যতটা এড়ানো যায় ততই ভালো। খাবারের তালিকায় ফল, সব্জি রাখা দরকার। মাছ, মাংস, ডিম প্রয়োজনমতো খেতে হবে। সঠিক জীবন-ধারণ, নিজের প্রতি সচেতনতা, ব্যয়াম স্তন ক্যান্সারের প্রতিরোধক হতে পারে।