বীর যোদ্ধা মহারাণা প্রতাপ জন্ম জয়ন্তী

আয়ুষ রায়

বিশ্বমাঝে আমরা যাকে বীরের বীর জানি–

মহারাণা প্রতাপ, তিনি ভারতের শিরোমনি।

১৫৪০ সালের ৯ মে রাজস্থানের কুম্বলগড়ে সিসোড়িয়া রাজপুত বংশে প্রতাপ সিংহের জন্ম হয়। তার পিতা মহারানা দ্বিতীয় উদয় সিং ছিলেন মেবারের রাজা। তার রাজধানী ছিল চিতোর। আর মা ছিলেন মহারানী জয়ন্ত বাই। উদয় সিং এর পঁচিশ জন পুত্রের মধ্যে সবার বড় ছিলেন প্রতাপ সিং। তাই পিতার উত্তরাধিকার তিনিই মনোনীত হন। তার পিতা বিদেশী আক্রমণকারীদের থেকে রাজ্যকে রক্ষা করতে বরাবর বেশ হিমশিম খেয়ে আসছিলেন। তাই উত্তরাধিকার হিসেবে রাজার মুকুটের সাথে এক বিশাল দায়িত্বের বোঝাও মাথায় নেন মহারানা প্রতাপ সিং।

প্রায় ৫০০ বছর আগের ভারতবর্ষ। একের পর এক ভিনদেশি দখলদার শাসকরা সুবিশাল সৈন্যবাহিনী, অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন অংশ একের পর এক আক্রমণ করে দখল করে নিচ্ছে। এদের মধ্যে আফগান, তুর্কি ও মোঘলরা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে সফলও হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার তাদের শাসন পাকাপোক্ত করে ফেলেছে। তখনও অজেয় রাজ্যগুলোকে নিজের পতাকাতলে এনে সমগ্র ভারতবর্ষে একচ্ছত্র শাসন কায়েম করার উদ্দেশ্য নিয়ে কখনও যুদ্ধ, কখনও সন্ধির নাটক চলছে। এরকম পরিস্থিতিতে একটি রাজ্য এই বিদেশী শাসকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তার নাম মেবার।

উত্তর ভারতের রাজস্থানের অন্তর্গত এই মেবার নানা ঐতিহাসিক নাটকীয় ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু। আর মেবারের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক নায়ক ছিলেন বীর যোদ্ধা মহারানা প্রতাপ সিং। মেবারের সিংহ নামে পরিচিত এই মহারানা প্রতাপ মুক্তিসংগ্রাম ও দেশপ্রেমের অপর নাম। মোঘলদের বারবার প্রতিরোধ করে সমগ্র ভারতবর্ষের মুক্তির লক্ষ্যে এক নতুন চেতনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। এই বীরের ইতিহাস যুগে যুগে যেকোনো মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস।