পরিচালক দেবাশীষ নাথের ভবিষ্যৎ – স্বপ্ন, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করার

প্রখ্যাত পরিচালক দেবাশীষ নাথ নিজ ব্যবসা ছেড়ে মায়ের ইচ্ছে পূরণের জন্য ফিল্ম জগতে প্রবেশ করেন। তিনি শর্ট ফিল্ম, ডকুমেন্টারি, মেগা সিরিয়ালে যথেষ্ঠ প্রতিষ্ঠিত। তবে বর্তমানে তিনি অভিনয় জগতে অভিনেতার ভূমিকায় কাজ করছেন। তাঁর ইচ্ছা, ভবিষ্যতে সিনেমা, ওয়েব সিরিজের ডিরেক্টর রূপে আবারও কাজ করবেন — তাঁর এই ফিল্ম জার্নি জানতে একান্ত সাক্ষাৎকারে সংবাদ টুডে – র চিফ সাব এডিটর আয়ুষ রায় আর প্রতিনিধি অভিলাষ কুমার ঝাঁ

পরিচালক দেবাশিস নাথ সংবাদ টুডে – র মাধ্যমে একটি অভিমত প্রকাশ করতে চান — আগামীদিনে নতুন অভিনেতা – অভিনেত্রী হবার জন্য যারা স্বপ্ন দেখছেন, সেই সকল নতুন নতুন মুখের উদ্দেশ্যে। 
একসময় আর্টিস্ট তৈরী করা হতো। এখন আর্টিস্ট অনেক, কমপিটিসান। কাউকে বেশী সময় দেওয়া হয় না। একজন নেই তো আর একজন আছে। তবে সবাই তো স্বপ্ন নিয়ে আসে। সবার স্বপ্ন হয়তো পূরণ হয় না। অনেকে অভিনয় জগতে আসতে গিয়ে ভুল পথে চলে যায়। সত্যি কথা, আপনার মাধ্যমে একটা কথা বলতে চাই — যে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য কেউ যদি টাকা চায়, তাকে জুতো খুলে পেটান। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গেলে টাকা লাগে না, বরং আমরা তাদের টাকা দিই। ঘাস ছিঁড়লেও টাকা দিই। আর এখানে কিন্তু নষ্টামী কিচ্ছু নেই। কিছু লোকের জন্য নষ্টামীটা হচ্ছে। পৃথিবীটা এখন খুব সরল। আমরা এতদিন ধরে কাজ করছি, কারো সঙ্গে সম্পর্কতো নষ্ট হয় নি। গুগল খোলো, দেখে নাও, টেকনিশিযান স্টুডিও কোথায়, বা প্রোডাকশান হাউসগুলো কোথায়, দেখে নেওয়া যায়। প্রতিভা থাকলে তাকে আটকানো যায় না, তাকে টাকা দিতে, বা এটা সেটা করতে লাগে না, কোন বাধ্য বাধকতা নেই। কিছু লোক ইন্ডাস্ট্রির বদনাম করছে।

প্র:- আপনার প্রথম ফিল্ম কি?

উ:- আমার প্রথম ফিল্ম ‘নবকলেবর’। আমি নিজেই এইটার প্রোডিউস করেছিলাম, ২০০১ সালে। সেটা শর্ট ফিল্ম ছিল এবং সেটা শর্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল। সেখান থেকেই হাতে কলমে আমার জার্নি শুরু।

প্র:- ফিল্ম জগতে আপনার কি ভাবে প্রবেশ?

উ:- বিশেষ কারণে আমি মুম্বাইতে ছিলাম। হঠাৎ একদিন মা আমাকে ফোন করেন, আমার পাশের ফ্ল্যাটে। কারণ তখন আমার কাছে ফোন ছিল না। ফোনে আমাকে তখন মা বললেন — ‘শীঘ্রই তুই কলকাতায় ফিরে আয়, এসে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জয়েন কর’।
মা আমাকে ফিরে যেতে বলেছেন, সেটাই আমার কাছে যথেষ্ট। সেদিনই এমারজেন্সি প্রস্তুতি নিয়ে টিকিট কাটতে গেলাম ভি. টি. তে। যিনি টিকিট দিচ্ছিলেন, উনি বাঙালি ছিলেন। উনি বললেন — ‘আপনাকে আরও পঞ্চাশ টাকা দিতে হবে, এটা আমাদের কোটা থেকে দিচ্ছি। ভি. টি থেকে হবে না, আপনাকে নাসিক রোড থেকে উঠতে হবে’। (ঐ টিকিটটা এখনো আমার কাছে আছে)। তখন রাত বারোটা। আমি বললাম, ঠিক আছে। তারপর ৪ ঘন্টা জার্নি করে নাসিক রোডে পৌঁছলাম। নাসিক রোড থেকে সেই রাতে ট্রেনে চেপে ২ দিন পরে কলকাতায় পৌঁছলাম।
মা চেয়েছিলেন,’আমি অভিনয় করি’। কিন্তু আমার মনেহল – অভিনয়টা ঠিক হবে না। তারপর ডিরেকশন নিয়ে আমি পড়াশোনা করি। তাতে মা সন্তুষ্ট ছিলেন না। SRFTI থেকে পড়াশোনা আরম্ভ করি। দেখলাম, ওখানে আশানুরূপ পড়াশোনা হতো না তখন, অথচ অনেক খরচা। ওখানে যাওয়া আমি বন্ধ করে দিলাম। ওখানকার একজন স্যার ছিলেন – বীরেশ দাশ শর্মা, উনি বার বার বলতেন আমাকে ফিরে যেতে। আমি রাজী হইনি। উনি আর এক জায়গায়, KFTI তে পড়াতেন। ‘জানি না, আমার মধ্যে উনি কি দেখেছিলেন’। তখন স্যার ওনার কাছে যেতে বললেন KFTI তে। ওনার কথা মতো গেলাম, স্যার বলেছিলেন – ওখান থেকে লেসন টা নিতে, বাকীটা প্র্যাক্টিক্যাল করতে হবে। আমি স্যারের লেসনগুলো নিতাম। বাকীটা দিনের বেলায় এখান – ওখান কাজ হতো। তখন এতো ব্যপকহারে কাজ হতো না, কাজটা কম হলেও প্রচুর জায়গায় কাজ হতো। এখন যেমন ১৪ ঘন্টার হয়ে গেছে, তখন এত ১৪ ঘন্টার বালাই ছিল না।
ডিরেকশন নিয়ে পড়াশোনা করার পর অবজারভার হিসেবে জয়েন করি, তারপর অ্যাসিস্ট্যান্ট, চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট, সেখান থেকে ‘ডিরেক্টর’। তার আগে আমি যখন কনফিডেন্ট ছিলাম যে, ‘নবকলেবর’ কেন করেছি – কেননা নতুন রূপে আমার জন্ম হল। বিজনেস থেকে একেবারে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি — দুটো পুরোপুরি ভিন্ন পথ। তাই প্রথম ফিল্মের নাম রেখেছিলাম – ‘নবকলেবর’।

প্র:-  নবকলেবর সিনেমা করার পর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার জার্নিটা কেমন ছিল?

উ:-  পরবর্তী সময়ে ডকুফিচার, ডকুমেন্টরী এগুলো করতাম, কিছুটা নিজের জন্য, কিছুটা কারোর হয়ে করে দিতাম, প্র্যাক্টিস থাকার জন্য, তারপর হঠাৎ একদিন ঠিক করলাম আর একটা ছবি বানাবো। এরপর’ সহজ পাঠ’ বলে একটা ছবি করেছিলাম, যেটাতে বাজেট বেশী হয়ে যাওয়ায় পরে ছবিটি ফ্লপ হয়েছিল। তখন থেকে ছবি বানানো বন্ধ করে দিলাম। মনে হল, কোথাও ভুল হচ্ছে। তারপর ডকুমেন্টরী, টেলিফিল্ম, অ্যাড ফিল্ম করছিলাম। তারা নিউজে কাজ করেছি। অন্যের হয়ে করে দিয়েছি। নিজের টেলিফিল্ম নেই।
এরপর মনেহল মেগা সিরিয়াল করবো। কিভাবে করা যায় শিখতে হবে ভাবলাম। আমার বন্ধু একটা সিরিয়াল শুরু করে। আমাকে চিফ হিসেবে নিতে চাইলো। দেখলাম ছবি আর মেগা সিরিয়ালের ধরণটাই পুরো আলাদা। তখন থেকেই টানা মেগা সিরিয়াল করছি। তারমধ্যে ৬/৭ টা নিজে ডিরেকশন দিয়েছি। যেমন — সবিনয় নিবেদন (এ বি পি সানন্দা বাংলা) সতী, সীমারেখা, রাগে অনুরাগে (জি বাংলা), মা, বেহুলা (স্টার জলসা), পরিচয় (মহুয়া বাংলা), গৌরী দান (কালারস বাংলা), আরো আছে।
ইন্ডাস্ট্রিতে একটা রেকর্ড আছে, করো কাছে নেই, আমার কাছেই আছে, রেকর্ড বুক হলে থাকতো,  ৩৬০ ডেস সেকেন্ড লিড ডিরেকশন দিয়েছি। যেটা আজ পর্যন্ত কেউ দেয় নি। ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম থার্ড ইউনিট হয়, সেটাও আমি করেছি। সেটা আমার একটা অ্যাচিভমেন্ট।

প্র:- মেন স্ট্রিম ফিল্ম কি করেছেন?

উ:- মেন স্ট্রিম ফিল্ম ‘বন্ধু রহো রহো সাথে’ ও ‘সহজ পাঠ’। এছাড়া গত বছর (২০১৮) ঝাড়খণ্ডে ২ টি গভর্নমেন্টের ফিল্ম করে এসেছি। ঝাড়খণ্ডী ভাষায় হয়েছে। অভিনেতারা ওড়িশার কিছু, ইউ পি, মুম্বই,  বেশী ঝাড়খণ্ডের ক্যারেক্টর অনুযায়ী কাজ করেছে।

প্র:- আপনার লাইফের বেস্ট কাজ কোনটা?

উ:- আমার কাছে আমার কাজ সবকটাই বেস্ট। কোনটা খারাপ বলতে পারবো না। আমি সাউথ ইন্ডিয়ার সাথে, জার্মানদের সাথে, মুম্বইয়ের জি পি সি পির নাতির সাথেও কাজ করেছি। এগুলোতে আনন্দ পেয়েছি। এখন ইন্ডাস্ট্রিতে যত মাইথোলজি বা ঐতিহাসিক কাজ হচ্ছে, প্রথম দিকে এগুলো আমরাই করেছি। যেমন বেহুলা করতে গিয়ে আমার একটা নাম দিয়েছিল পুরো টিম। আমার অনেক নাম হয়ে গেছে মানুষের ভালোবাসায়।

প্র:- সিনেমা জগতে আপনার সবথেকে বড় পাওনা কি?

উ:- আমার জীবনে সব থেকে বড় পাওনা হচ্ছে আমার টেকনিশিয়ানরা। তারা আমাকে সত্যি ভালোবাসে। টেকনিশিয়ানরা যদি সাপোর্ট না করে, নিজে বিখ্যাত হওয়া যায় না। আমার কাছে ওরা সন্তানের মতো।

প্র:- বর্তমানে আপনি কি কাজ করছেন?

উ:- প্রোডিউসার, আর্টিস্টরা, চ্যানেল আবার আমাকে ডাকছেন কিন্তু একটু গণ্ডগোল হয়ে গেছে। কারণ আমার অভিনয়ের ডাক এসেছে, যেটা আমার মা চেয়েছিলেন। মা চেয়েছিলেন, আমাকে অভিনেতা হিসেবে দেখতে। আমি এখন সিনেমা, সিরিয়ালেও অভিনয় করছি। দর্শকরা আমাকে দু-হাত তুলে আশীর্বাদ করেন, ওনারা আমার অভিনয় দেখতে ভালবাসেন। আমি গাড়ী করেও আসতে যেতে পারি। কিন্তু আমি সিম্পল চলি। বাসে, ট্রেনেও যাতায়াত করি – যাতে মানুষের থেকে আমি দূরে না থাকি। কাউকে দেখেও শেখা হয়ে যায়। শেখারতো শেষ নেই।

প্র:- প্রোডিউসার সম্পর্কে আপনার কি অভিজ্ঞতা?

উ:- ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রোডিউসারদের বুঝে আসা উচিত। ভেঙ্কটেস ফিল্ম ‘ভাই আমার ভাই’ নিয়ে ছবি শুরু করেছিল। আজ সে কত বড় জায়গায়। এমন প্রোডিউসার ও সংস্থা পৃথিবীর সব জায়গায় হওয়া উচিত। এরা কোয়ালিটি আর কোয়ানটিটি দুটোই বোঝে। আমি ভেঙ্কটেসের সাথে বহুদিন যুক্ত। এমনকী আমি ম্যাজিক মোমেন্ট বাদ দিয়ে প্রত্যেকটা প্রোডাকশনের সঙ্গে কাজ করেছি, সবার গুণগত মান আছে, সবাই ভাল। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আজ আমার প্রায় কুড়ি বছর, আমি স্নেহাশীষ দার সঙ্গে কাজ করেছি, খুব ট্যালেন্টেড লোক।

প্র:- আজকাল যে ওয়েব সিরিজের চল হয়েছে, সেটা কি আপনার করার ইচ্ছে আছে?

উ:- ওয়েব সিরিজ ভবিষ্যৎ, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ হল ওয়েব সিরিজ। আমেরিকাতে যেমন সময় নষ্ট করে না — খাবার টেবিলেও মিটিং করে নেয়, সময়টাকে ইউটিলাইস করে। ঠিক তেমনই, এমন একটা সময় আসছে, টি ভি – র সামনে বসে, চ্যানেলের ওপর শুধু নির্ভর করে টানা সময় নষ্ট করতে হবে না। এখন টিভি চ্যানেল যখন প্রোগ্রাম শো করে, শুধুমাত্র তখনই দেখতে হয়।
আমাদের এখানেও কর্ম – পদ্ধতি তৈরী হয়েছে। পস করো, যখন ইচ্ছে দেখে নাও। ইন্টারনেট যখন ইচ্ছে দেখা যাবে মেগা সিরিয়ালও। ওয়েব সিরিজের এটাই সুবিধা। চ্যানেলের নানারকম অ্যাবস হয়েছে, যা পরেও দেখা যাবে ইচ্ছামত সময়ে। এটা ওয়ান টাইপ অফ ওয়েবের মতই হয়ে গেছে – এটার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। এটা কিন্তু একটা ভবিষ্যৎ। ওয়েব সিরিজের মধ্যে ‘হৈ চৈ’, ‘আড্ডা টাইমস’, খুব ভাল কাজ করছে। আড্ডা টাইমসের ‘সেনাপতি’ আমি দেখেছি। রিঙ্গ দা একজন বেস্ট ক্যামেরাম্যান। উনি অনেক ছবি করেছেন। ওনার ফার্স্ট ছবি হচ্ছে ‘ক্রান্তি’। রিঙ্গদাকে আমি সেনাপতিতে দেখলাম – এ্যাস এ ডিরেক্টর। ওনার অনেক কিছু দেওয়ার আছে এখনো। ওনার ওয়েব সিরিজই করা ভাল। আমি হৈ চৈ এর ‘ব্যোমকেশ’ দেখলাম, হ্যালো ওয়ান, হ্যালো টু, ধানবাদ ব্লুস সৌরভ করেছে, খুব ভাল করেছে। একটার সঙ্গে আরেকটার কোয়ালিটির দিক থেকে খুব ভাল।

প্র:- ফিল্মসে যেমন সেন্সর বোর্ডের প্রবলেম হয়, ওয়েব সিরিজে তা হয় না, তাই ডাইরেক্টারদের কি সুবিধা হয় কাজ করতে স্বাধীন ভাবে?

উ:- হ্যাঁ সুবিধা হয়। সেন্সর বোর্ডে যখন শর্মিলা ঠাকুর ছিলেন, উনি এই সেন্সরের বিষয়টাকে নতুন আখ্যা দিয়েছিলেন। আখ্যা এই যে, একজন ডিরেক্টর চিন্তা ভাবনা করেই তো ছবি বানান, ছবি একটা সুতোতে মালা গাঁথার মতো, মালাটা প্রপার হলে সুন্দর দেখায়, যদি মালা থেকে একটু ছিড়ে নেয়, তাহলে বাজে দেখায়। শর্মিলা ঠাকুর একটা কথা বলেছিলেন, পাশও করেছিলেন “ডিরেক্টর যা বানাবেন, সেটা কাটা ছেঁড়া কড়া যাবে না, যদিনা আপত্তিকর কিছু থাকে। যেটা সমাজের জন্য ক্ষতিকর”।

প্র:- আপনার কোন কোন এ্যাক্টরের সাথে কাজ করার ইচ্ছে আছে, এখনো হয়ে ওঠে নি?

উ:- আমার একটা বড় স্বপ্ন, যদি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কোন কাজ করতে পারি। আমার একটাই দুর্ভাগ্য যে, উনি পশ্চিমবঙ্গে যতবার এসেছেন, ওনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারি নি। কারণ, সেই সময় গুলোতেও শুটিংয়ে এতোটাই ব্যস্ত ছিলাম যে বেড়োতেই পারি নি।

প্র:- অভিনেতা প্রদীপ খাঁড়ার অভিনয় আপনার কেমন লাগে?

উ:- খুব ভাল লাগে। ওনার মধ্যে অভিনয়ের অনেক দক্ষতা আছে। কিন্তু ঠিকমত ইউজ করলেন না। আর বলবো যে, উনি যদি ঠিক ঠাক ইউজ করতেন, তাহলে অনেকটাই এগোতেন। কারণ উনি একজন বর্ন এ্যাক্টর, ওনার মধ্যে অনেক পার্টস আছে অভিনয়ের। আমি একজন ডিরেক্টর হিসেবে বলছি।

প্র:- আপনার ফিউচার প্ল্যানিং কি? ডিরেক্সনই করবেন?

উ:- ফিউচার প্ল্যানিং এখনো সে ভাবে ভাবিনি। ডিরেকশন আমার রক্তে, সেটা থাকবেই। প্রোডিউসার ভাল পেতে হবে, সেরকম পাচ্ছি না। আপাততো অভিনয় নিয়েই আছি। ভালো প্রোডিউসার হাতে এলে শর্ট ফিল্ম, ওয়েব সিরিজও করতে রাজী আছি। আমার মাথায় অনেক গল্প আছে, তাই ভবিষ্যতে সেগুলো করার ইচ্ছেও আছে। ভালো প্রোডিউসারের অপেক্ষায় আছি।

প্র:- আপনি ভবিষ্যতে কি ধরণের ফিল্ম করতে ইচ্ছুক?

উ:- এটা একটা ভাল প্রশ্ন। কি ধরণের, ধরনতো অনেক রকমের আছে। ডিরেকশনে আমি অভিজ্ঞ হয়ে গেছি। তাই আমি সব ধরণের মিলিত ঘটনার গল্পই করতে ভালোবাসি ছবিতে। কারণ, দর্শকতো বিভিন্ন ভাবনার, বিভিন্ন পছন্দের আছে। তবে কমেডি নিয়ে এখনো খুব একটা এগোতে পারি নি। কমেডিটা খুব একটা বুঝে উঠতে পারি নি, ভয় পাই, চেষ্টা করছি ওটা বোঝার, যদিও নিজে কমেডি এ্যাক্টিং করি। এ্যাক্টিং তো করি আমার যিনি ডিরেক্টর স্যার আছেন, কো – আর্টিস্ট আছেন, তাদের সাহায্যে আমি করি।

প্র:- ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ছবি করতে কেমন লাগে?

উ:- ঐতিহাসিক ঘটনার কাজ করতে হলে আগে অনেক পড়াশোনা, গবেষণাও করতে লাগে। ভবিষ্যতে ভেবে দেখবো।