বাংলা চলচিত্র জগতের শিরোমণি মহানায়ক উত্তম কুমার

আয়ুষ রায়:-

আজ সেই দিন, যেদিন আমরা বাংলার মহানায়ককে হারাই। ২৪ জুলাই, ১৯৮০ সালে চলে যান তিনি। ১৯৪৮ সালে উত্তম কুমার ‘দৃষ্টিদান’ ছবি দিয়ে পা রেখেছিলেন সিনেমা জগতে। সেই ছবির পরিচালক ছিলেন নিতীন বসু। আজ চল্লিশটা বছর কেটে গেছে কিন্তু চলচিত্র জগতে তাঁঁর স্থান এখনও অপূর্ণ।

images (6)

উত্তম কুমারের আসল নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কলকাতার সাউথ সাবার্বা‌ন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং পরে গোয়েঙ্কা কলেজে ভর্তি হন, কিন্তু গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি। কলকাতার পোর্টে চাকরি নিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন, তবুও পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র জগতের সাথে যুক্ত হন। উত্তম কুমার প্রথম ‛মায়াডোর’ নামে একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন কিন্তু সেটি মুক্তিলাভ করেনি। তারপর ‛দৃষ্টিদানে’ কাজ করেন। কলকাতার চিত্রা সিনেমাহলে মুক্তি পেয়েছিল সেই ছবিটি। ‛বসু পরিবার’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর ‛সাড়ে চুয়াত্তর’ মুক্তি পাবার পরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী আসন লাভ করেছিলেন। সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে তিনি প্রথম অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের বিপরীতে অভিনয় করেন। এই ছবির মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল উত্তম-সুচিত্রা জুটির সূত্রপাত হয়।

saptapadi

উত্তমকুমার এবং সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্রে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে অনেকগুলি ছবি একসাথে অভিনয় করেছিলেন। এগুলির মধ্যে প্রধান হল – ‛হারানো সুর’, ‛পথে হল দেরী’, ‛সপ্তপদী’, ‛চাওয়া পাওয়া’, ‛বিপাশা’, ‛জীবন তৃষ্ণা’, ‛সাগরিকা’ ও আরও অনেক।

উত্তম কুমার বহু সফল বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন। তাঁর অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে ‛ছোটিসি মুলাকাত’, ‛অমানুষ’ এবং ‛আনন্দ আশ্রম’ জনপ্রিয় হয়েছিল। তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় দু’টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রথমটি নায়ক এবং দ্বিতীয়টি চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্রে তিনি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

images (44) 

১৯৬৭ সালে এ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ও চিড়িয়াখানা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে অজয় কর পরিচালিত হারানো সুর ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছিলেন সমগ্র ভারতজুড়ে। সেই ছবি পেয়েছিল রাষ্ট্রপতির সার্টিফিকেট অফ মেরিট।

images (11)

মহানায়কের অনেক ছবির মধ্যে অন্যতম ছবি ― ‛বসু পরিবার’, ‛সাড়ে চুয়াত্তর’, ‛বৌ ঠাকুরানীর হাট’, ‛বকুল’ ‛বিধিলিপি’, ‛অগ্নিপরীক্ষা’, ‛সাঁঝের প্রদীপ’, ‛শাপ মোচন’, ‛সাহেব বিবি গোলাম’, ‛তাসের ঘর’, ‛হারানো সুর’, ‛ইন্দ্রাণী’, ‛সোনার হরিন’, ‛মরুতীর্থ হিংলাজ’, ‛খেলাঘর’, ‛ঝিন্দের বন্দী’, ‛সাথী হারা’, ‛শেষ অঙ্ক’, ‛জতুগৃহ’, ‛রাজদ্রোহী’, ‛নায়ক’, ‛চিড়িয়াখানা’, ‛অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী’, ‛চৌরঙ্গী’, ‛রাজকুমারী’, ‛নিশিপদ্ম’, ‛জয় জয়ন্তী’, ‛ধন্যি মেয়ে’, ‛ছদ্মবেশী’, ‛স্ত্রী’, ‛বিরাজ বৌ’, ‛মেম সাহেব’, ‛হার মানা হার’, ‛রাতের রজনীগন্ধা’, ‛রৌদ্র ছায়া’, ‛সোনার খাঁচা’, ‛বনপলাশীর পদাবলী’, ‛রক্ত তিলক’, ‛বাঘবন্দী খেলা’, ‛সন্ন্যাসী রাজা’, ‛রাজবংশ’, ‛সব্যসাচী’, ‛আনন্দ আশ্রম’, ‛দেবদাস’, ‛রাজা সাহেব’, ‛দুই পৃথিবী’ ইত্যাদি।

তার ছবির প্রতি আকর্ষণ বাঙালি তথা ভারতবাসির কখনও শেষ হবে না।