দলের পুরনোদের রাজনৈতিক স্বীকৃতি দিতে অভিনব সম্মেলন আমতায়

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা দলের প্রবীণ কর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে সামনের সারিতে বসিয়ে স্বীকৃতি দেওয়া হল। একি সঙ্গে হাতে তুলে দেওয়া হল একটি করে গাছ। ব্লকস্তরে দলীয় কর্মীদের একসঙ্গে এনে অভিনব বার্তা দেওয়া হল।

দলের পুরনো কর্মীরা তৃণমূলের প্রকৃত সম্পদ। তাই পুরনো কর্মীদের মূলস্রোতে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে বাম সরকার কে হঠিয়ে পরিবর্তনের সরকার আনতে তৃণমূলের পুরনো কর্মীরা প্রাণপাত করে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রবীণরা চলে গিয়েছেন পিছনের সারিতে। মান-অভিমান দূরে সরিয়ে মূলস্রোতে ফেরাতে হবে। নির্দেশ পৌঁছেছিল তৃণমূল স্তরে। সেইমতন রবিবাসরীয় বেলায় পুরনো কর্মীদের সঙ্গে স্বীকৃতি সম্ভেলনে মিলিত হয়ে আলাপচারিতায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ নেতৃত্ববৃন্দ। 

চলতি ইংরেজি মাসের শুরুতে ব্লক ও জেলা স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে কর্মীসভায় একত্র হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রীমো। ওই মঞ্চ থেকেই দলের পুরনো কর্মীদের কাছে টেনে নেবার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় দেখা গেছে পুরাতন কর্মীরা মান-অভিমান সরিয়ে এগিয়ে আসতে চাইলেও সামনের সারির নেতাদের আকুলতার অভাব থেকে গেছে। যে কারণে বিব্রত হয়েছে দল। গোষ্ঠী সংঘর্ষ পর্যন্ত ঘটেছে৷ কিন্তু বর্তমান সময় ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি গ্রহণের পর থেকে দলের রাশ অনেকটাই আয়ত্তে। আর এবার  ‘বাংলার গর্ব মমতা’ সূচনা করে তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় কর্মীদের আরও কাছাকাছি করেছে। এবার দলে পুরাতন কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয় এগিয়ে এসেছেন তৃণমূল স্তরের নেতারা। জয়পুরে মহিলা মহাসংঘে পুরনোদের কাছে এনে এমনি একটি অভিনব স্বীকৃতি সম্ভেলন অনুষ্ঠিত হল রবিবার।

সুকান্ত পাল জানান, আজকের এই স্বীকৃতি সম্ভেলনে প্রত্যেককে পেয়ে আমরা গর্বিত। প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে গাছ। দেশের মধ্যে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল যাঁরা প্রাক্তন কর্মীদের অবদান কে স্বীকার করে। গাছ যত বড় হবে ততদিন মনে থাকবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। এবং রাজনৈতিক জীবনের যে অবদান তাঁকে আমরা স্বীকৃতি দিলাম।