শিশুদের স্কুলমুখী দেখতে আইসিডিএস সেন্টারে হাজির এডিএম, ডিপিও, সিডিপিও

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া  

গনগণে আগুনে পড়ুয়াদের জন্য রান্না হচ্ছে। সেন্টারে পড়ানো হচ্ছে এক এক্কে এক। দুই এক্কে দুই। ছোটদের মাঝে বসে বলতে বলতেই শ্লেটে ভুল লেখাটা হাত দিয়ে মুছে দিলেন দিদিমণি। দুটো অ হয়ে গেছে। দাঁড়ি দিলে তবেই হবে আ। সকালে এমন সময়েই আইসিডিএস সেন্টারে হাজির এডিএম, সিডিপিও।  

স্কুলের দেওয়ালে ঝোলান পাতায় লেখা রয়েছে রবিঠাকুরের কথাগুলো। পাশে ব্ল্যাকবোর্ডে বড় বড় করে লেখা পশুপাখির কথা। ক্যালেন্ডারে মনীষীদের ছবি। ওরা খুদে পড়ুয়া। সবেমাত্র অ-এর পড়ে-আ বলতে শিখেছে। কেউ আবার এক এ চন্দ্র দুই এ পক্ষ বলছে। ওরা আইসিডিএস সেন্টারে পড়াশোনা করে। সকাল সাতটার কিছু পড়েই ওরা চলে এসেছে স্কুলে। দিদিমণি সুর করে বলছেন আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে. সুয্যি গেছে পাটে আর ওরা সেই সুর ধরে বাকিটা বলছে। সেহাগড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দু’তলা। নিচের একটি ঘরে চলছে আইসিডিএস সেন্টার। পাশে ছোট রান্নাঘরে গনগনে আগুনে হচ্ছে রান্না। পাশে বড় হাঁড়িতে চাপা দেওয়া গরম ভাত। আমতা ২নং ব্লকের ১০টির মতো সেন্টার এ দিন সরজমিনে দেখেছেন। কয়েকটি সেন্টার রয়েছে যাদের মূলত ঘরের সমস্যা। সমস্ত বিষয় দেখাদেখির পাশাপাশি রান্না বিষয় উপযুক্ত পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ বিষয় হাওড়া আইসিডিএস সিডিপিও সব্যসাচী গুই জানান, ৬ ধরণের পরিষেবা দিয়ে থাকি। প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা, পরিপূরক পুষ্টি প্রোগ্রাম, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রোগ্রাম, রেফারেল পরিষেবা। এছাড়া পড়াশোনার বাইরে থাকা শিশুদের এসএজি এবং কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হবে। এককথায় খেলার ছলে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।

৮৩ নম্বর সেন্টারের মেঝেতে বসে চলছে পঠন-পাঠন। বইয়ের ভারি ব্যাগের বদলে ছোটদের জন্য রয়েছে খেলাধুলার সাথি সরঞ্জাম। শিশুদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেন ডিপিও আইসিডিএস অমিত সমাদ্দার। ওজন নেওয়া হয় কিনা সমস্ত কিছু জিজ্ঞাসাবাদ চলে। কেউ অ, আ তো কেউ পাঠ করে নামতা। ফিরে যাবার আগে শিশুদের কাছে আবারও আসবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন। এসেছিলেন এডিএম উন্নয়ন, ডিপিও আইসিডিএস অমিত সমাদ্দার এবং সিডিপিও সব্যসাচী গুই ছাড়াও ছিলেন সুপারভাইজার রিংকু হাজরা।