ভারতের বীরপুত্র অভিনন্দনকে স্বাগত জানাতে গোটা ভারত মুখিয়ে- “আজ অভিনন্দন ডে”

হেমাশ্রী বিশ্বাস, কলকাতা

জন্মভূমি-রক্ষাহেতু কে ডরে মরিতে?
যে ডরে, ভীরু সে মূঢ়; শত ধিক্ তারে!
(মেঘনাদবধ কাব‍্য প্রথম সর্গ)

পাকিস্তানের অভিযানের সময় পাকিস্তানের প্রত‍্যাঘাতের দরুন ফাইটার জেটটি বিদ্ধস্ত হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ার আওয়াজে জড়ো হয় গ্রামবাসীরা। নিজের বিপদ উপলব্ধি করে তাদের জিজ্ঞেস করেন জায়গাটি ভারত নাকি পাকিস্তান? উত্তরে তারা বলেন সে ভারতে রয়েছে, নিশ্চিত হতে পাক বিরোধী স্লোগান দেন অভিনন্দন।গ্রামবাসিরা পাকিস্তানের স্লোগান দিয়ে তখনই তাকে আক্রমন করেন।

সেফটি গান থাকা সত্ত্বেও তিনি গ্রামবাসীদের কোন রকম ক্ষতি করেননি। নিজের সুরক্ষার জন‍্য শূন্যে ফায়ার করেন অভিনন্দন। বিরোধীদের যাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ধরা না পড়ে, তাই প্রমাণ লোপাট করতে প্রয়োজনীয় নথি কিছুটা স্থানীয় জলাশয়ে ভাসিয়ে দেন ও বাকি নথিপত্র গিলে খেয়ে ফেলেন তিনি।
IMG-20190301-WA0046

অন‍্যদিকে ২৬ শে ফেব্রুয়ারি অভিনন্দনের নিখোঁজের দিন শহীদ হন মিক ১৭ এর অন‍্য একজন পাইলট সিদ্ধার্থ বশিষ্ঠ। ২৭ ফেব্রুয়ারি বশিষ্ঠের পার্থিব শরীর চন্ডিগড়ে তার পরিবারের তরফে শেষ সম্মান জানানো হয়। ওনার স্ত্রী স্কোর্ডান লিডার আরতি সিং-কে ভারতীয় পতাকা বুকে জড়িয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
IMG-20190301-WA0049

আজ পাঞ্জাবের ওয়াঘা বর্ডারে পাকিস্তান সরকার দুই বার সময় পাল্টে দেন তাকে দুপুরে ৪ টের সময় এয়ার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ভারত সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিলো তারপর সেটা রাত ৮ টার সময় তুলে দেবন বলেন । কিন্তু অবশেষে ভারতীয় সময় রাত্রি ৯.২২ এর সময় ভারতের হাতে তুলে দেন ভারতীয় বীরকে সম্মানের সহিত।
IMG-20190301-WA0048

বাই রোড করাচি ও লাহোর হয়ে অভিনন্দনকে ভারতে আনা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের হাতে ধড়া পড়েন অভিনন্দন। তারপর থেকেই অভিনন্দনের নিঃশর্ত মুক্তিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নতিস্বীকার করেছে পাকিস্তান। বিভিন্ন মহলে এটাকে কূটনৈতিক জয় বলা হচ্ছে ভারতের। আমাদের উদ্দেশ্য পাকিস্তানকে ধ্বংস করা নয় আতঙ্কবাদী ধ্বংস। এটা পাকিস্তান মানতে নারাজ ও মাকসুদ আজহারকে ও তার সঙ্গে অন‍্যান‍্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদত দেওয়া যাদের মূল কাজ।
কারন ইতিমধ্যে পাক বিদেশমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, মাকসুদ ভীষণ অসুস্থ এবং তিনি বাড়ির বাইরে ও আসতে পারছেন না। এর থেকেই সুস্পষ্ট যে পাকিস্তান কিভাবে জঙ্গিদের আগলে রাখে।শুধুমাত্র তাই নয় এই মূহুর্তে সব থেকে বড়ো খবর এটা জানিয়ে রাখি যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে মিডিয়া মারফত একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে অভিনন্দনকে জোর পূর্বক বা বলা যেতে পারে মানসিক নিপীড়ন করে বলানো হয়েছে পাকিস্তান আর্মি ভীষণ ভালো এবং ভারতীয় মিডিয়া অতিরিক্ত রঙ চড়িয়ে পাক বিরোধী মন্তব্য করে। কারন ঐ ভিডিও তে মোট ১৭ টি কাট এডিট লক্ষ করা যাচ্ছে। এর আগেও পাক হাতে বন্দী কূলভুষন যাদবের ক্ষেত্রে ও এরকম ভিডিও তৈরি করে মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে আপামর ভারতীয়র কাছে এই ন‍্যাশনাল হিরোরা অ্যান্টিন‍্যাশনাল হিসেবে স্বীকৃতি পান।
IMG-20190301-WA0047

তবে পাকিস্তানের সরকার যতই শান্তি বার্তা দিক না কেন তাদের সীমান্তে আক্রমণের কৌশল দেখে আদতেই মনে হয় না তারা মুখে যাই বলুক না কেন তারা আসলেই সন্ত্রাস প্রিয়। আজ জম্মু ও কাশ্মীরী সীমান্তে এনকাউন্টার চলাকালীন ভারতের এক সি আর পি এফ জত্তয়ান শহীদ হন ও তিন সি আর পি এফ জত্তয়ানের অবস্থা আশঙ্কা জনক।

গতকাল অভিনন্দনের মুক্তির কথা পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভে এক সাক্ষাৎকারে পুলত্তয়ামার সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা না করার জন‍্য পাক প্রধানমন্ত্রীকে এক হাত নিলেন অমিত শাহ।

উল্লেখ্য, ভারত মাতার বীরপুত্র পাকিস্তানের মাটিতে দাড়িয়ে তাদের চোখে চোখ রেখে নিজের বয়ান যেভাবে জাহির করেন অভিনন্দন তা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। তার এই সাহসীকতাকে ভারত তথা পাক সেনারাও স‍্যালুট জানিয়েছেন।