“অভিন্দনের মুক্তি চেয়ে নয়াদিল্লির চাপ প্রয়োগ পাকিস্তানকে”

হেমাশ্রী বিশ্বাস, কলকাতা

নয়া দিল্লির দাবি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তে কাশ্মীরের পুঞ্জ ও রাজৌরি সেক্টরে হামলা চালায় পাক বায়ুসেনা। তার প্রতিউত্তর দিয়েছে ভারত ও। বিদেশমন্ত্রক জানায় , আজ সকালে অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে পাক বিমানকে চিহ্নিত করে ভারতীয় রেডার।

হামলার আশঙ্কায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনা। জবাব দিতেই মূহুর্তের মধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে আকাশে পাড়ি দেয় ভারতের যুদ্ধবিমান। শুরু হয় লড়াই। নয়াদিল্লির দাবি পাকিস্তানের একটি বিমানকে (এফ-১৬) কে গুলি করে নামিয়েছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান মিগ-২১(বাইসন)।
এটাও জানা গিয়েছে পাক বিমানের চালককে ও প‍্যারাশুটে করে নামতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি সাউথ ব্লকের।

তবে ভারতের সেই দাবিকে ভুল প্রমাণিত করার দাবিতে পাক সেনার মুখপাত্র আসিফ গফুর দাবি করেন, আজ তাঁরা কোনও এফ-১৬ বিমান ব‍্যবহার ই করেননি। উল্টে তিনি বলেন ভারতের একটি মিগ-২১ বিমান ধ্বংস হয়েছে, সে কথা স্বীকার করেছে দিল্লি। তবে এই হানা সামরিক ঘাঁটিই আক্রমণ করতে চেয়েছিল পাক বিমান যার পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে বলে জানান নয়াদিল্লি।
IMG-20190228-WA0005

পাকিস্তান প্রথমে জানিয়েছিল ভেঙে পড়া বিমানের দুই চালক তাদের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের একজন হাসপাতালে ভর্তি ও অন‍্যজন সুস্থ। পরে বিবৃতি পাল্টে এক জনের গ্রেফতারির কথা বলা হয়। সেই পাইলট উইং কম‍্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান, সার্ভিস নম্বর ২৭৯৮১ যিনি বায়ুসেনায় ২০০৪ সালে যোগদান করেন। তিনি ন‍্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। অভিন্দনের বাড়ি জলবায়ু বিহারের চেন্নাইয়ে এবং অভিনন্দনের বাবা এস বর্তমান যিনি প্রক্তন এয়ার মার্শাল।

ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে যে ভাবে আহত বায়ুসেনা অফিসারের ছবি তুলে ধরা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ করার সঙ্গে সঙ্গে অভিন্দনকে দ্রুত এবং নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া দাবি জানানো হয়েছে ভারত সরকার তথা আপামর ভারতীয় তরফ থেকে। যার দরুন কূটনৈতিক তৎপরতায়র অঙ্গ হিসেবে বিকেলে দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সইদ হায়দর শাহকে তলব করেন বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে। এবং পুলত্তয়ামার ঘটনায় যে জইশ-ই মহম্মদ জঙ্গিদের যোগাযোগের তথ‍্য প্রমাণ সহ একটি ডসিয়ের শাহের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
IMG-20190228-WA0004

এবং শাহের কাছে একই সঙ্গে অভিনন্দনের সুস্থ শরীরে দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে ভারত। রক্তাক্ত শরীরে কলার ধরে টানতে টানতে অভিন্দনকে নিয়ে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও তুলে ছড়ানোয় ভারত যে ক্ষুব্ধ সেটা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে শাহকে। প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাদের মতে অভিনন্দনকে যুদ্ধবন্দির মর্যাদা দেওয়া উচিত।

“কারন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কেউ ধরা পরলে জেনিভা কনভেনশন অনুযায়ী তাকে যুদ্ধ বন্দির মর্যাদা দিয়ে তাঁর অধিকার সুনিশ্চিত করতে হয়।”

এর পরপরই অভিন্দনের তৃতীয় একটি ভিডিও প্রকাশ করে পাক সেনা। তাতে দেখা যায় তিনি চা খাচ্ছেন। তিনি তাঁর বয়ান ‘অন রের্কড’ বলতে চান ও দেশে ফিরে তার বয়ান বদল করবেন না বলে জানান। তাঁর সঙ্গে পাক সেনারা যে ভালো ব‍্যবহার করছেন এটাও বলতে দেখা যায় অভিন্দনকে।

পাক সেনা তাকে তার অভিজান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার উত্তরে তিনি বলেন আমি দুঃখিত আমার আপনাদের কাছে সে কথা বলার নয়, এবং তিনি কোন বিমান চালাচ্ছিলেন সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আমি দুঃখিত মেজর সেটাও আমার বলার কথা নয় আপনাদের। তিনি সেই ১মিনিট ১৯সেকেন্ডের ভিডিওতে শুধুমাত্র এইটুকু বলেন আমি আমি দক্ষিণ থেকে এসেছি। এটাও কি আমার বলার কথা? এবং তিনি বিবাহিত সেটা ও প্রশ্নের উত্তরে বিবৃত করেন।
IMG-20190228-WA0003

এখন দুই দেশেরই উচিত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে অভিনন্দনকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসা। উভয় দেশ চাইলে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাহায্য নিতে পারে। আপাতত অভিনন্দনের মুক্তিই আসল লক্ষ ভারত সরকারের কাছে।